দীর্ঘ ১৭ বছর পরে কালীগঞ্জে ভোটের আমেজে
- Update Time : ০৭:৩১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৬৪ Time View
দীর্ঘ ১৭ বছর পরে কালীগঞ্জে ভোটের আমেজে মেতে উঠেছিল বৃদ্ধরা পর্যন্ত, সাতক্ষীরা–৩ আসনে দাঁড়িপাল্লার জয়ধ্বনি: ৮০,৭৪৫ ভোটে বিজয়ী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।
কালিগঞ্জ ব্যুরোঃ দীর্ঘ ১৭ বছর পরে কালীগঞ্জে ভোটের আমেজে মেতে উঠেছিল বৃদ্ধ নারী-পুরুষরা পর্যন্ত।
কালিগঞ্জ সরকারি কলেজের অফিস সহকারী কুদ্দুস মিয়া তার বৃদ্ধ পিতাকে নিয়ে আসতে দেখা যায় ছনকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে।মথুরেশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তি কালন্দি নদীর তীর থেকে শতবর্ষি বৃদ্ধ কাকাকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসে তার ছেলে সন্তানদের কোলে বসে। দেখা যায় বয়সের ভারে নুই নুই তবুও ভোটের আমেজে আনন্দে মেতে উঠেছিল ছিল বৃদ্ধ বৃদ্ধা কাকা কাকিরাও । ভোটের আনন্দে মেতে উঠতে ভুল করেনি শিশু কিশোররা ও। শিশুদের খন্ড খন্ড মিছিল করতে দেখা যায় ভোটের স্বপক্ষে।
এদিকে সাতক্ষীরা–৩ আসনে দাঁড়িপাল্লার জয়ধ্বনি: ৮০,৭৪৫ ভোটে বিজয়ী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ এ সাতক্ষীরা–৩ (কালিগঞ্জ–আশাশুনি) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় সমর্থিত জোটের প্রার্থী, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি মোট ১,৮৩,২৭১ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ শহিদুল আলমকে ৮০,৭৪৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ডাঃ শহিদুল আলম ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ১,০২,৫২৬ ভোট।
অপরদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৭,৬৮০ ভোট। এছাড়া হাতপাখা প্রতীক পেয়েছে ১১,২৮৯ ভোট, রকেট প্রতীক ২৮৫ ভোট এবং জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছে ২৭০ ভোট। নিয়ে সাতক্ষীরা জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
কালিগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে ভোটারদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য এবং পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি ছিল চোখে পড়ার মতো।
কালিগঞ্জ উপজেলায় প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ৯১,৫৮৮ ভোট, ধানের শীষ ২৩,৬৮৭ ভোট, লাঙ্গল ২৭৭ ভোট, হাতপাখা ১,২৮৯ ভোট, রকেট ২৬৬ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীক পেয়েছেন ৬৫,৩৭২ ভোট।
ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন ছিল। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মোবাইল টহল জোরদার ছিল। দুই একটি বিচ্ছিন্ন জাল ভোটের অভিযোগ ও কিছু স্থানে ধানের শীষ, ফুটবল ও দাঁড়িপাল্লা সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ছাড়া বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ভোটগ্রহণ শেষে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা কেন্দ্রেই ভোট গণনা সম্পন্ন করে ফলাফল সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট জমা দেন। এবারে জাতীয় নির্বাচনে ভোটে সাতক্ষীরা-৩ আসনে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে।সকাল থেকেই কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্য করার মতো। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন দীর্ঘ হতে থাকে।
নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আসা তরুণ ভোটারদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ।
প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। কোথাও কোনো বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। কালিগঞ্জ উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার জানান, সার্বিকভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ পরিচালিত হয়েছে।
ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরে সরকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্বাচনী কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যায়ক্রমে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন সম্পন্ন হয়।



















