Dhaka ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ মাথায় ঝুলছে গ্রেফতারী পরোয়ানা

মোঃ রিয়াজ হোসেন
  • Update Time : ০৯:৫৩:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / ১০৫ Time View

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি::পুলিশের খাতায় লাপাত্তা ছাত্রশক্তি নেতা আদালতে গিয়ে করলেন মামলা!
আলোচিত সেই মামলায় মৃতরা ছাড়াও জমির বিবাদে পাঁচজনকে আসামির নতুন তথ্য
মারজুক আব্দুল্লাহকে ডাকাত উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট জমা
ডাকাতির হোতা হিসেবে গ্রেপ্তারদের জবানবন্দিতে নাম এসেছে ছাত্রশক্তির এই নেতার
মারজুকের কর্মকাণ্ডে বিব্রত ও বিরক্তির কথা জানিয়ে পুলিশ বলছে দ্রুতই ধরা পড়বে।

পুলিশের খাতায় লাপাত্তা ছাত্রশক্তি নেতা আদালতে গিয়ে করলেন আদালতে মামলা!

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারজুক আব্দুল্লাহ। ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার হুলিয়া মাথায় নিয়ে দিব্যি তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন বরিশাল নগরজুড়ে। যদিও পুলিশের ভাষ্য, খুঁজে না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যাচ্ছে না তামিল করা। অথচ এই মারজুক আব্দুল্লাহই গত বৃহস্পতিবার ব‌রিশালের অতি‌রিক্ত চিফ মেট্রোপ‌লিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে আওয়ামী লীগের মৃত চার এবং বিএনপির জীবিত ছয় নেতাসহ কয়েকশ মানুষের বিরুদ্ধে ঠুকে দিয়েছেন নাশকতার মামলা।

আলোচিত এই মামলাকে মামলাবাজ চক্রের ‘মামলা বাণিজ্যের’ অংশ উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। যার পেছনে মারজুক আব্দুল্লাহ ও তার মামা পরিচয়ধারী সুলতান খান নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বাধীন চক্রের তথ্য ওঠে এসেছে আগামীর সময়ের অনুসন্ধানে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল মহানগরের সাবেক সমন্বয়ক এই মারজুক আব্দুল্লাহর বিষয়ে ওঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তিনি নিজেই ডাকাতি মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি। এমনই তথ্য জানালেন পটুয়াখালীর দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম আহম্মেদ। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলছিলেন, মারজুক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দুমকি থানায় গত বছরের ৬ জুন হয় ডাকাতির একটি মামলা। সেই মামলার বাদী ওই থানারই এসআই নুরুজ্জামান।

মামলাটির এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দুটি মোটরসাইকেলে করে বরিশাল থেকে পটুয়াখালীতে ডাকাতি করতে আসছিল একদল ডাকাত। এ সংবাদ পেয়ে পটুয়াখালীর পায়রা সেতুর টোল প্লাজায় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। অন্যরা পালিয়ে গেলেও ধরা পড়ে দুজন। তাদের কাছ থকে জব্দ করা হয় খেলনা পিস্তল, ইলেক্ট্রিক শর্ট মেশিন ও একটি মোটরসাইকেল। ওই ডাকাত দলে ছিলেন মারজুক আব্দুল্লাহও। যদিও ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন তিনি।

ওসি আরও জানালেন, মামলার দুই মাস পরই ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার শিপন হাওলাদার ও আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পালিয়ে যাওয়া মারজুক আব্দুল্লাহকে ডাকাত উল্লেখ করে আদালেতে জমা দেওয়া হয় অভিযোগপত্র (চার্জশিট)। গ্রেপ্তার দুজন দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ওই ডাকাতি চেষ্টার মূল হোতা হিসেবে নাম বলেছেন মারজুক আব্দুল্লাহর। ওই মামলায় তিনি পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সদর পুলিশ কোর্ট থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন কমিশনার কার্যালয়ে মারজুক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত ওয়ারেন্ট কপি পাঠানো হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সারা দেশ মাথায় ঝুলছে গ্রেফতারী পরোয়ানা

Update Time : ০৯:৫৩:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি::পুলিশের খাতায় লাপাত্তা ছাত্রশক্তি নেতা আদালতে গিয়ে করলেন মামলা!
আলোচিত সেই মামলায় মৃতরা ছাড়াও জমির বিবাদে পাঁচজনকে আসামির নতুন তথ্য
মারজুক আব্দুল্লাহকে ডাকাত উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট জমা
ডাকাতির হোতা হিসেবে গ্রেপ্তারদের জবানবন্দিতে নাম এসেছে ছাত্রশক্তির এই নেতার
মারজুকের কর্মকাণ্ডে বিব্রত ও বিরক্তির কথা জানিয়ে পুলিশ বলছে দ্রুতই ধরা পড়বে।

পুলিশের খাতায় লাপাত্তা ছাত্রশক্তি নেতা আদালতে গিয়ে করলেন আদালতে মামলা!

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারজুক আব্দুল্লাহ। ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার হুলিয়া মাথায় নিয়ে দিব্যি তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন বরিশাল নগরজুড়ে। যদিও পুলিশের ভাষ্য, খুঁজে না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যাচ্ছে না তামিল করা। অথচ এই মারজুক আব্দুল্লাহই গত বৃহস্পতিবার ব‌রিশালের অতি‌রিক্ত চিফ মেট্রোপ‌লিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে আওয়ামী লীগের মৃত চার এবং বিএনপির জীবিত ছয় নেতাসহ কয়েকশ মানুষের বিরুদ্ধে ঠুকে দিয়েছেন নাশকতার মামলা।

আলোচিত এই মামলাকে মামলাবাজ চক্রের ‘মামলা বাণিজ্যের’ অংশ উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। যার পেছনে মারজুক আব্দুল্লাহ ও তার মামা পরিচয়ধারী সুলতান খান নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বাধীন চক্রের তথ্য ওঠে এসেছে আগামীর সময়ের অনুসন্ধানে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল মহানগরের সাবেক সমন্বয়ক এই মারজুক আব্দুল্লাহর বিষয়ে ওঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তিনি নিজেই ডাকাতি মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি। এমনই তথ্য জানালেন পটুয়াখালীর দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম আহম্মেদ। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলছিলেন, মারজুক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দুমকি থানায় গত বছরের ৬ জুন হয় ডাকাতির একটি মামলা। সেই মামলার বাদী ওই থানারই এসআই নুরুজ্জামান।

মামলাটির এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দুটি মোটরসাইকেলে করে বরিশাল থেকে পটুয়াখালীতে ডাকাতি করতে আসছিল একদল ডাকাত। এ সংবাদ পেয়ে পটুয়াখালীর পায়রা সেতুর টোল প্লাজায় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। অন্যরা পালিয়ে গেলেও ধরা পড়ে দুজন। তাদের কাছ থকে জব্দ করা হয় খেলনা পিস্তল, ইলেক্ট্রিক শর্ট মেশিন ও একটি মোটরসাইকেল। ওই ডাকাত দলে ছিলেন মারজুক আব্দুল্লাহও। যদিও ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন তিনি।

ওসি আরও জানালেন, মামলার দুই মাস পরই ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার শিপন হাওলাদার ও আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পালিয়ে যাওয়া মারজুক আব্দুল্লাহকে ডাকাত উল্লেখ করে আদালেতে জমা দেওয়া হয় অভিযোগপত্র (চার্জশিট)। গ্রেপ্তার দুজন দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ওই ডাকাতি চেষ্টার মূল হোতা হিসেবে নাম বলেছেন মারজুক আব্দুল্লাহর। ওই মামলায় তিনি পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সদর পুলিশ কোর্ট থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন কমিশনার কার্যালয়ে মারজুক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত ওয়ারেন্ট কপি পাঠানো হয়।