নির্মাণাধীন ভবনের গাঁথুনি খসে রিকশাচালকের মৃত্যু তিন লাখে রফা-দফা
- Update Time : ১২:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
- / ৪৬ Time View
রংপুর::রংপুর নগরীর খলিফাপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন থেকে গাঁথুনির অংশ খসে পড়ে চঞ্চল নামে এক রিকশাচালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নির্মাণকাজে নিরাপত্তাবিধি না মানার অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণেরও দাবি উঠেছে।
জানা গেছে, গত শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর খলিফাপাড়ার কাজীর বাড়ি রোডে আমেরিকা প্রবাসী ওবায়দুলের নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের সামনে দিয়ে রিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় চঞ্চলের ওপর ৬ তলা থেকে ইট-সিমেন্টের গাঁথুনির একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে।
এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত চঞ্চলের বাড়ি নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার বড় দামুড়িয়া সর্দারপাড়ায়। পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার স্ত্রী কবিতা রাণী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারে স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা ছাড়া আর কোনো নিকটাত্মীয় নেই।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,নির্মাণাধীন ভবনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। তাদের দাবি,ভবনের বাইরে নিরাপত্তা বেষ্টনী বা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা থাকলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
তারা সংশ্লিষ্ট ভবন মালিক,ঠিকাদার ও নির্মাণকাজের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এদিকে ঘটনাকে ঘিরে আরেকটি বিষয় নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি,রোববার বিকেলে ভবনের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি, মালিকের মেয়ে এবং কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে জনসম্মুখে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নিহতের স্ত্রী কবিতা রাণীর স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং তাকে ৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ওই স্ট্যাম্পে কী শর্ত বা বক্তব্য উল্লেখ ছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি হলেও পুলিশ জানায়,আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ হস্তান্তর সম্ভব নয়।
রংপুর কোতোয়ালি থানার এসআই হায়দার জানান, আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউডি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নিহার বলেন ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে মরদেহ হস্তান্তর করা সম্ভব নয়। সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় রংপুরে নির্মাণকাজে নিরাপত্তাবিধি প্রতিপালনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সচেতন মহলের মতে, নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা এবং তদন্তে দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণই ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


















