Dhaka ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক নির্যাতন: গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত

আনোয়ার হোসেন
  • Update Time : ১০:২৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৫৪ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি::ঢাকা, সোমবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং
প্রতিবেদক: মোঃ আনোয়ার হোসেন

সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ। সত্য প্রকাশ ও অন্যায়ের মুখোশ উন্মোচনই সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যেভাবে সাংবাদিকরা হামলা, হত্যাকাণ্ড ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তা শুধু উদ্বেগজনক নয় গণতন্ত্রের অস্তিত্বের জন্যও অশনি সংকেত।

গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা, নবীনগরে খন্দকার শাহ আলম হত্যাকাণ্ড, রংপুরে সিনিয়র সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাদলকে জনতার হাতে লাঞ্ছনার মতো ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন চিত্র নয় বরং তা এক ভয়াবহ ধারাবাহিকতা নির্দেশ করছে। সত্য বলার সাহস দেখালেই প্রভাবশালী মহল প্রতিহিংসার আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ছে।

প্রশ্ন উঠছে এভাবে কি সাংবাদিকতা টিকে থাকতে পারবে? সাংবাদিকরা যদি ভয়ে সত্য গোপন করতে শুরু করেন, তবে জনগণ প্রকৃত তথ্য থেকে বঞ্চিত হবে। তখন সমাজ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে, আর গণতন্ত্র সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে কাগুজে অস্তিত্বে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখনই সুস্পষ্ট প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের জন্য কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে রাষ্ট্রবিরোধী গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

আমরা ভুলে গেলে চলবে না সাংবাদিকদের রক্ষা করা মানে কেবল একটি পেশাকে বাঁচানো নয়; বরং সত্য, ন্যায় ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করা। তাই নীরবতা ভাঙতে হবে, সাংবাদিক নির্যাতনের অবসান ঘটাতে হবে। আর রাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হবে ন্যায়বিচার এখনো বেঁচে আছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সাংবাদিক নির্যাতন: গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত

Update Time : ১০:২৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি::ঢাকা, সোমবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং
প্রতিবেদক: মোঃ আনোয়ার হোসেন

সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ। সত্য প্রকাশ ও অন্যায়ের মুখোশ উন্মোচনই সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যেভাবে সাংবাদিকরা হামলা, হত্যাকাণ্ড ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তা শুধু উদ্বেগজনক নয় গণতন্ত্রের অস্তিত্বের জন্যও অশনি সংকেত।

গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা, নবীনগরে খন্দকার শাহ আলম হত্যাকাণ্ড, রংপুরে সিনিয়র সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাদলকে জনতার হাতে লাঞ্ছনার মতো ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন চিত্র নয় বরং তা এক ভয়াবহ ধারাবাহিকতা নির্দেশ করছে। সত্য বলার সাহস দেখালেই প্রভাবশালী মহল প্রতিহিংসার আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ছে।

প্রশ্ন উঠছে এভাবে কি সাংবাদিকতা টিকে থাকতে পারবে? সাংবাদিকরা যদি ভয়ে সত্য গোপন করতে শুরু করেন, তবে জনগণ প্রকৃত তথ্য থেকে বঞ্চিত হবে। তখন সমাজ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে, আর গণতন্ত্র সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে কাগুজে অস্তিত্বে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখনই সুস্পষ্ট প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের জন্য কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে রাষ্ট্রবিরোধী গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

আমরা ভুলে গেলে চলবে না সাংবাদিকদের রক্ষা করা মানে কেবল একটি পেশাকে বাঁচানো নয়; বরং সত্য, ন্যায় ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করা। তাই নীরবতা ভাঙতে হবে, সাংবাদিক নির্যাতনের অবসান ঘটাতে হবে। আর রাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হবে ন্যায়বিচার এখনো বেঁচে আছে।