Dhaka ০৩:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ী এলাকায় বৃদ্ধ মায়ের সেবায় সেরা-বাদশা মিয়া

উজ্জ্বল কুমার সরকার
  • Update Time : ০১:১৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / ১০ Time View

নওগাঁ::নওগাঁর সদর ইউনিয়নের বলিহার ভাঙা পা নিয়েও বৃদ্ধ মায়ের সেবায় সেরা- বাদশা মিয়া

বলিহার বাজারে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত সাবেক বিএস কোয়ার্টারে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাদশা মিয়া। তাদের নিজস্ব কোনো বাড়ি বা থাকার জায়গা নেই।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ ও হৃদরোগে আক্রান্ত। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোনো ধরনের কাজ করতে পারেন না। মানুষের সহায়তা ও ভিক্ষার ওপর নির্ভর করেই চলছিল তার জীবন।

সম্প্রতি হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে তার পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, তার গোড়ালি স্থানচ্যুত হয়েছে এবং হাড়ে চিড় ধরেছে। প্রাথমিকভাবে ব্যান্ডেজ করা হলেও অর্থাভাবে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ কিনে খেতে পারছেন না। বর্তমানে তার পা অনেক ফুলে গেছে এবং অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে তিনি স্থায়ী পঙ্গুত্বসহ আরও গুরুতর জটিলতার মুখে পড়তে পারেন।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো—তার বৃদ্ধ মা নিজেও চলাফেরা করতে অক্ষম। নিজের ভাঙা পা নিয়েই বাদশা মিয়া মায়ের সেবা করে যাচ্ছেন। এই পৃথিবীতে তার মা ছাড়া আর কেউ নেই। জীবনের সব কষ্ট, অভাব আর সংগ্রামের মধ্যেও তিনি মায়ের হাত ছেড়ে যাননি। তার এই মাতৃভক্তি সত্যিই আমাদের সবার জন্য অনুকরণীয়।

আমরা জানি না, তিনি আবার সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন কি না। তবে সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর প্রতি আন্তরিক আহ্বান—সামর্থ্য অনুযায়ী বাদশা মিয়ার পাশে দাঁড়ান। আপনার সামান্য সহযোগিতাই হয়তো একজন অসহায় সন্তানের চিকিৎসা নিশ্চিত করবে এবং তার বৃদ্ধ মায়ের একমাত্র অবলম্বনকে বাঁচিয়ে রাখতে সহায়তা করবে।

আসুন, মানবতার হাত বাড়িয়ে দিই। সৃষ্টিকর্তা যেন বাদশা মিয়াকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন—এই প্রার্থনা রইল।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রাজবাড়ী এলাকায় বৃদ্ধ মায়ের সেবায় সেরা-বাদশা মিয়া

Update Time : ০১:১৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

নওগাঁ::নওগাঁর সদর ইউনিয়নের বলিহার ভাঙা পা নিয়েও বৃদ্ধ মায়ের সেবায় সেরা- বাদশা মিয়া

বলিহার বাজারে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত সাবেক বিএস কোয়ার্টারে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাদশা মিয়া। তাদের নিজস্ব কোনো বাড়ি বা থাকার জায়গা নেই।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ ও হৃদরোগে আক্রান্ত। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোনো ধরনের কাজ করতে পারেন না। মানুষের সহায়তা ও ভিক্ষার ওপর নির্ভর করেই চলছিল তার জীবন।

সম্প্রতি হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে তার পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, তার গোড়ালি স্থানচ্যুত হয়েছে এবং হাড়ে চিড় ধরেছে। প্রাথমিকভাবে ব্যান্ডেজ করা হলেও অর্থাভাবে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ কিনে খেতে পারছেন না। বর্তমানে তার পা অনেক ফুলে গেছে এবং অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে তিনি স্থায়ী পঙ্গুত্বসহ আরও গুরুতর জটিলতার মুখে পড়তে পারেন।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো—তার বৃদ্ধ মা নিজেও চলাফেরা করতে অক্ষম। নিজের ভাঙা পা নিয়েই বাদশা মিয়া মায়ের সেবা করে যাচ্ছেন। এই পৃথিবীতে তার মা ছাড়া আর কেউ নেই। জীবনের সব কষ্ট, অভাব আর সংগ্রামের মধ্যেও তিনি মায়ের হাত ছেড়ে যাননি। তার এই মাতৃভক্তি সত্যিই আমাদের সবার জন্য অনুকরণীয়।

আমরা জানি না, তিনি আবার সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন কি না। তবে সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর প্রতি আন্তরিক আহ্বান—সামর্থ্য অনুযায়ী বাদশা মিয়ার পাশে দাঁড়ান। আপনার সামান্য সহযোগিতাই হয়তো একজন অসহায় সন্তানের চিকিৎসা নিশ্চিত করবে এবং তার বৃদ্ধ মায়ের একমাত্র অবলম্বনকে বাঁচিয়ে রাখতে সহায়তা করবে।

আসুন, মানবতার হাত বাড়িয়ে দিই। সৃষ্টিকর্তা যেন বাদশা মিয়াকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন—এই প্রার্থনা রইল।