Dhaka ১২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে ঘুরতে এসে ঘটলো বিপত্তি,দুই স্বামীর সাথে তাকেও পাঠানো হয়েছে কারাগারে

মনির হোসেন
  • Update Time : ১১:০৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৩৯ Time View

বেনাপোল প্রতিনিধি::যশোর শহরের চারখাম্বার মোড়ে কমলা রঙের সালোয়ার-কামিজ পরা এক নারীকে নিয়ে ত্রিমুখী টানাহেঁচড়ার দৃশ্য দেখা যায়। চল্লিশোর্ধ্ব দুই ব্যক্তি এক নারীকে স্ত্রী দাবি করছেন। হাতাহাতি দেখে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। খবর পেয়ে পুলিশ তিনজনকে থানায় নিয়ে আসে। থানায় উত্তেজনা আরও বাড়ে, সেখানে কয়েক দফা টানাহেঁচড়া ও হাতাহাতি হয়। পরে তিনজনকে ১৫১ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ধৃতরা হলেন—ফরিদপুরের কানাইপুরের বিকাশ অধিকারী, ফরিদপুর সদরের পলাশ কুন্ডু ও সীমা অধিকারী।

পুলিশ জানায়, বিকাশ অধিকারী ও সীমার ৩৬ বছরের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সম্প্রতি সীমা পলাশ কুন্ডুর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সোমবার রাতের সময় সীমা ও পলাশ যশোরে হোটেলে ওঠেন। বিষয়টি জানতে পেরে বিকাশ সেখানে হাজির হন। এরপরই ঘটনা থানা পর্যন্ত পৌঁছায়।

পলাশ কুন্ডু সাংবাদিকদের বলেন, “সীমার সঙ্গে আমার তিন বছরের সম্পর্ক। আমরা স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছি এবং একসাথে থাকতে চাই। কিন্তু বিকাশ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
সীমা অধিকারী বলেন, “বিকাশের সংসারে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে আমি বাধ্য হয়ে তাকে ছেড়ে পলাশকে বিয়ে করেছি।”

অন্যদিকে বিকাশ অধিকারী অভিযোগ করেন, “সীমা পরকীয়ার কারণে আমাদের সংসার ভেঙেছে। সে নগদ টাকা ও গয়নাও নিয়ে পালিয়েছে। আমি সীমাকে ফিরিয়ে নিতে চাই।”

কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, “৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় আনে। থানায় দীর্ঘ সময় কথা বলেও সমাধান হয়নি। পরে ১৫১ ধারায় তাদের আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।”

যশোর আদালতে দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক রোকসানা খাতুন বলেন, “সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শান্তনু কুমার মন্ডল তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

যশোরে ঘুরতে এসে ঘটলো বিপত্তি,দুই স্বামীর সাথে তাকেও পাঠানো হয়েছে কারাগারে

Update Time : ১১:০৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বেনাপোল প্রতিনিধি::যশোর শহরের চারখাম্বার মোড়ে কমলা রঙের সালোয়ার-কামিজ পরা এক নারীকে নিয়ে ত্রিমুখী টানাহেঁচড়ার দৃশ্য দেখা যায়। চল্লিশোর্ধ্ব দুই ব্যক্তি এক নারীকে স্ত্রী দাবি করছেন। হাতাহাতি দেখে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। খবর পেয়ে পুলিশ তিনজনকে থানায় নিয়ে আসে। থানায় উত্তেজনা আরও বাড়ে, সেখানে কয়েক দফা টানাহেঁচড়া ও হাতাহাতি হয়। পরে তিনজনকে ১৫১ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ধৃতরা হলেন—ফরিদপুরের কানাইপুরের বিকাশ অধিকারী, ফরিদপুর সদরের পলাশ কুন্ডু ও সীমা অধিকারী।

পুলিশ জানায়, বিকাশ অধিকারী ও সীমার ৩৬ বছরের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সম্প্রতি সীমা পলাশ কুন্ডুর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সোমবার রাতের সময় সীমা ও পলাশ যশোরে হোটেলে ওঠেন। বিষয়টি জানতে পেরে বিকাশ সেখানে হাজির হন। এরপরই ঘটনা থানা পর্যন্ত পৌঁছায়।

পলাশ কুন্ডু সাংবাদিকদের বলেন, “সীমার সঙ্গে আমার তিন বছরের সম্পর্ক। আমরা স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছি এবং একসাথে থাকতে চাই। কিন্তু বিকাশ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
সীমা অধিকারী বলেন, “বিকাশের সংসারে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে আমি বাধ্য হয়ে তাকে ছেড়ে পলাশকে বিয়ে করেছি।”

অন্যদিকে বিকাশ অধিকারী অভিযোগ করেন, “সীমা পরকীয়ার কারণে আমাদের সংসার ভেঙেছে। সে নগদ টাকা ও গয়নাও নিয়ে পালিয়েছে। আমি সীমাকে ফিরিয়ে নিতে চাই।”

কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, “৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় আনে। থানায় দীর্ঘ সময় কথা বলেও সমাধান হয়নি। পরে ১৫১ ধারায় তাদের আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।”

যশোর আদালতে দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক রোকসানা খাতুন বলেন, “সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শান্তনু কুমার মন্ডল তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।