Dhaka ০১:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃণমূলে আলোড়ন—ময়মনসিংহ সদরে বিএনপির মাঠে ফেরার ইঙ্গিতে আবু ওয়াহাব আকন্দ মনোনীত

শেখ মামুনুর রশীদ মামুন
  • Update Time : ১১:৫৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২৬২ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি::আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ–৪ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপি তাদের চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আবু ওয়াহাব আকন্দ–এর নাম ঘোষণা করেছে। দলের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের দীর্ঘ বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার রাতে এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

দীর্ঘ রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা,আন্দোলন–সংগ্রাম এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে বহুদিন পর বিএনপি সদর আসনে ‘সমর্থনযোগ্য ও সংগঠিত নেতৃত্ব’ এগিয়ে আনল বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। জনমতের বিভিন্ন পর্যায়েও শুরু হয়েছে নতুন হিসাব–নিকাশ। স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণঃ ময়মনসিংহ সদর আসনটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আসন হিসেবে বিবেচিত। বর্তমান সরকারবিরোধী রাজনীতিতে বিএনপির দৃশ্যমান মাঠ–সমন্বয় খুব একটা শক্তিশালী ছিল না; দলীয় অবস্থানও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

এমন পরিস্থিতিতে আবু ওয়াহাব আকন্দকে মনোনয়ন দেওয়াকে দলীয় পুনর্গঠন ও মাঠে সক্রিয়তার নতুন বার্তা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। দলীয় সূত্র বলছে,আবু ওয়াহাব আকন্দ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত,বিশেষ করে সাংগঠনিক দুরবস্থার সময়েও তিনি দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্কও বেশ সুদৃঢ়। নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস—সদরজুড়ে আলোচনাঃ মনোনয়ন ঘোষণা হতেই জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল,ব্যানার–ফেস্টুনে অভিনন্দনবার্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও দ্রুত সভা–সমাবেশ ডাকতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। দলীয় নেতারা বলছেন—

“আবু ওয়াহাব আকন্দ এমন একজন প্রার্থী, যাকে ঘিরে বিভক্ত বিএনপি আবারও এক প্ল্যাটফর্মে আসতে পারবে।” বর্তমান সময়ে সরকারি দল মাঠ–সংগঠন,উন্নয়ন বার্তা এবং প্রশাসনিক সুবিধা—সবদিক থেকেই শক্ত অবস্থানে থাকলেও বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার পর নির্বাচন ঘিরে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—“যদি বিএনপি সমন্বিত প্রচারে যেতে পারে এবং ভোটারদের কাছে ফিরে আসার বার্তা দিতে সক্ষম হয়,তবে এ আসনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে।” ভোটারদের প্রত্যাশা—শান্তিপূর্ণ ভোট ও উন্নয়ন পরিকল্পনা।
ময়মনসিংহ সদর শহরসহ সব-কটি ইউনিয়নের ভোটারদের প্রধান দাবি—আইন–শৃঙ্খলা উন্নয়ন,
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা,
স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন,টেকসই সড়ক–যোগাযোগ,
যুবকদের কর্মসংস্থান। ভোটাররা বলছেন—
“যে দলই আসুক,কাজ করতে হবে। সমস্যা তো অনেক—সমাধান দেবে কে তা দেখব।” আবু ওয়াহাব আকন্দের প্রতিক্রিয়াঃ মনোনয়ন পাওয়ার পর আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন—
“এটি আমার জন্য শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের বড় চ্যালেঞ্জও বটে। ময়মনসিংহ সদরবাসীর অধিকার,উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমি জনগণের পাশে থাকব।” তিনি আরো বলেন,“দল আমাকে যে আস্থা দিয়েছে,সেটি তৃণমূলের সঙ্গে একযোগে কাজ করে প্রমাণ করতে চাই।” ময়মনসিংহ–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এখন দেখার বিষয়—অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিএনপির সমান তালে প্রচার–প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা উত্তাপ ছড়ায় এবং শেষপর্যন্ত কোন দিকে ঝুঁকে যায় সদরবাসীর রায়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

তৃণমূলে আলোড়ন—ময়মনসিংহ সদরে বিএনপির মাঠে ফেরার ইঙ্গিতে আবু ওয়াহাব আকন্দ মনোনীত

Update Time : ১১:৫৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি::আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ–৪ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপি তাদের চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আবু ওয়াহাব আকন্দ–এর নাম ঘোষণা করেছে। দলের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের দীর্ঘ বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার রাতে এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

দীর্ঘ রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা,আন্দোলন–সংগ্রাম এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে বহুদিন পর বিএনপি সদর আসনে ‘সমর্থনযোগ্য ও সংগঠিত নেতৃত্ব’ এগিয়ে আনল বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। জনমতের বিভিন্ন পর্যায়েও শুরু হয়েছে নতুন হিসাব–নিকাশ। স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণঃ ময়মনসিংহ সদর আসনটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আসন হিসেবে বিবেচিত। বর্তমান সরকারবিরোধী রাজনীতিতে বিএনপির দৃশ্যমান মাঠ–সমন্বয় খুব একটা শক্তিশালী ছিল না; দলীয় অবস্থানও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

এমন পরিস্থিতিতে আবু ওয়াহাব আকন্দকে মনোনয়ন দেওয়াকে দলীয় পুনর্গঠন ও মাঠে সক্রিয়তার নতুন বার্তা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। দলীয় সূত্র বলছে,আবু ওয়াহাব আকন্দ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত,বিশেষ করে সাংগঠনিক দুরবস্থার সময়েও তিনি দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্কও বেশ সুদৃঢ়। নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস—সদরজুড়ে আলোচনাঃ মনোনয়ন ঘোষণা হতেই জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল,ব্যানার–ফেস্টুনে অভিনন্দনবার্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও দ্রুত সভা–সমাবেশ ডাকতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। দলীয় নেতারা বলছেন—

“আবু ওয়াহাব আকন্দ এমন একজন প্রার্থী, যাকে ঘিরে বিভক্ত বিএনপি আবারও এক প্ল্যাটফর্মে আসতে পারবে।” বর্তমান সময়ে সরকারি দল মাঠ–সংগঠন,উন্নয়ন বার্তা এবং প্রশাসনিক সুবিধা—সবদিক থেকেই শক্ত অবস্থানে থাকলেও বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার পর নির্বাচন ঘিরে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—“যদি বিএনপি সমন্বিত প্রচারে যেতে পারে এবং ভোটারদের কাছে ফিরে আসার বার্তা দিতে সক্ষম হয়,তবে এ আসনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে।” ভোটারদের প্রত্যাশা—শান্তিপূর্ণ ভোট ও উন্নয়ন পরিকল্পনা।
ময়মনসিংহ সদর শহরসহ সব-কটি ইউনিয়নের ভোটারদের প্রধান দাবি—আইন–শৃঙ্খলা উন্নয়ন,
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা,
স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন,টেকসই সড়ক–যোগাযোগ,
যুবকদের কর্মসংস্থান। ভোটাররা বলছেন—
“যে দলই আসুক,কাজ করতে হবে। সমস্যা তো অনেক—সমাধান দেবে কে তা দেখব।” আবু ওয়াহাব আকন্দের প্রতিক্রিয়াঃ মনোনয়ন পাওয়ার পর আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন—
“এটি আমার জন্য শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের বড় চ্যালেঞ্জও বটে। ময়মনসিংহ সদরবাসীর অধিকার,উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমি জনগণের পাশে থাকব।” তিনি আরো বলেন,“দল আমাকে যে আস্থা দিয়েছে,সেটি তৃণমূলের সঙ্গে একযোগে কাজ করে প্রমাণ করতে চাই।” ময়মনসিংহ–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এখন দেখার বিষয়—অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিএনপির সমান তালে প্রচার–প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা উত্তাপ ছড়ায় এবং শেষপর্যন্ত কোন দিকে ঝুঁকে যায় সদরবাসীর রায়।