Dhaka ০৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোয় প্রাণ হারালেন যুবক,গ্রেফতার মূলহোতা

শেখ মামুনুর রশীদ মামুন
  • Update Time : ১০:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৫১ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি::মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হলো আলমগীর হোসেনকে (৩৩)।
ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইলে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা মাসুদ রানা (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার স্কুল রোড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত মাসুদ রানা মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৯নং আমলী আদালতে ১৬৪ ধারায় লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
ঘটনার সূত্রপাতঃ আলমগীর হোসেন দীর্ঘ ৪/৫ বছর বিদেশে থাকার পর প্রায় নয় মাস আগে দেশে ফিরে কৃষিকাজ শুরু করেন।

এলাকায় মাদক ব্যবসা ও যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় তিনি সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদ করতেন। এ কারণে মাসুদ রানা ও তার সহযোগীদের সঙ্গে আলমগীরের বিরোধ তৈরি হয়। বারবার প্রাণনাশের হুমকি পেলেও তিনি প্রতিবাদ চালিয়ে যান। গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে কাজের কথা বলে মাসুদ রানা আলমগীরকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

পরদিন তার মা মনোয়ারা বেগম নান্দাইল মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (জিডি নং-১১৮০, তারিখ ২৫/০৯/২০২৫)। অবশেষে ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভুক্তভোগীর ছোট ভাই শাহ আলম স্থানীয় একটি দোকানের পিছনে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে মাটিচাপা দেওয়া প্লাস্টিকের বস্তায় আলমগীরের লাশ উদ্ধার করেন।

পরদিন ভিকটিমের মা বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় মামলা (নং-১৫, ধারা ৩০২/২০১/৩৪) দায়ের করেন। ডিবি’র অভিযানঃ মামলার পর থেকেই পুলিশ সুপার ময়মনসিংহের তত্ত্বাবধানে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এর নির্দেশনায় ও ডিবি উত্তর বিভাগের ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে। অবশেষে নাটকীয় অভিযানে মূলহোতা মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরিকল্পিত হত্যার স্বীকারোক্তিঃ জবানবন্দিতে মাসুদ রানা জানান, প্রতিবাদ করায় আলমগীরকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর বিকালের মধ্যে যেকোনো সময় তাকে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে মাটিচাপা দেওয়া হয়। মাদকচক্রের শেকড় কোথায়?

স্থানীয়রা জানান, মাসুদ রানা ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। আলমগীরের প্রতিবাদই তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোয় প্রাণ হারালেন যুবক,গ্রেফতার মূলহোতা

Update Time : ১০:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি::মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হলো আলমগীর হোসেনকে (৩৩)।
ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইলে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা মাসুদ রানা (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার স্কুল রোড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত মাসুদ রানা মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৯নং আমলী আদালতে ১৬৪ ধারায় লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
ঘটনার সূত্রপাতঃ আলমগীর হোসেন দীর্ঘ ৪/৫ বছর বিদেশে থাকার পর প্রায় নয় মাস আগে দেশে ফিরে কৃষিকাজ শুরু করেন।

এলাকায় মাদক ব্যবসা ও যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় তিনি সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদ করতেন। এ কারণে মাসুদ রানা ও তার সহযোগীদের সঙ্গে আলমগীরের বিরোধ তৈরি হয়। বারবার প্রাণনাশের হুমকি পেলেও তিনি প্রতিবাদ চালিয়ে যান। গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে কাজের কথা বলে মাসুদ রানা আলমগীরকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

পরদিন তার মা মনোয়ারা বেগম নান্দাইল মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (জিডি নং-১১৮০, তারিখ ২৫/০৯/২০২৫)। অবশেষে ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভুক্তভোগীর ছোট ভাই শাহ আলম স্থানীয় একটি দোকানের পিছনে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে মাটিচাপা দেওয়া প্লাস্টিকের বস্তায় আলমগীরের লাশ উদ্ধার করেন।

পরদিন ভিকটিমের মা বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় মামলা (নং-১৫, ধারা ৩০২/২০১/৩৪) দায়ের করেন। ডিবি’র অভিযানঃ মামলার পর থেকেই পুলিশ সুপার ময়মনসিংহের তত্ত্বাবধানে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এর নির্দেশনায় ও ডিবি উত্তর বিভাগের ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে। অবশেষে নাটকীয় অভিযানে মূলহোতা মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরিকল্পিত হত্যার স্বীকারোক্তিঃ জবানবন্দিতে মাসুদ রানা জানান, প্রতিবাদ করায় আলমগীরকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর বিকালের মধ্যে যেকোনো সময় তাকে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে মাটিচাপা দেওয়া হয়। মাদকচক্রের শেকড় কোথায়?

স্থানীয়রা জানান, মাসুদ রানা ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। আলমগীরের প্রতিবাদই তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।