Dhaka ১০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে জীবনযাত্রা কোথায় ট্রাফিক ব্যবস্থা

শেখ মামুনুর রশীদ মামুন
  • Update Time : ০২:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৪৪ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি::ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্র বীজ মোড় এখন প্রতিদিনই যানজটের কারণে দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ এলাকায় প্রায় স্থবির হয়ে যায় যান চলাচল। রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রী—কেউই এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন দোকানপাটে ক্রেতা আসতে পারে না যানজটের কারণে। রোগী নিয়ে আসা আত্মীয়স্বজনরা এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। এটা তো যেন জীবন্ত নরক।”
সাধারণ যাত্রীরাও একই ক্ষোভের সুরে বলেন, শহরের প্রধান সড়ক হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নেই।

বিকেল ৪টার পর থেকে শুরু হওয়া যানজট রাত ৯-১০টা পর্যন্ত লেগেই থাকে। এতে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ভুগছে জরুরি সেবা। এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা নিয়মিত চেষ্টা করছি যানজট নিরসনে।

কিন্তু শহরের রাস্তার গঠন, বেআইনি পার্কিং, আর অপ্রতুল সড়ক ব্যবস্থাপনার কারণে যানজট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।” বিশ্লেষকদের মতে, শহরের অবকাঠামোগত পরিকল্পনা হালনাগাদ না হওয়া, গণপরিবহন ও সড়ক ব্যবস্থাপনা সমন্বিত না হওয়া, এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ফ্লাইওভার নির্মাণ,

বিকল্প সড়ক ব্যবহার, রিকশা ও পণ্যবাহী গাড়ির জন্য আলাদা লেন নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ময়মনসিংহের মানুষের প্রত্যাশা—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। অন্যথায় বীজ মোড় শুধু যানজট নয়, নগরজীবনের স্থায়ী অভিশাপে পরিণত হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে জীবনযাত্রা কোথায় ট্রাফিক ব্যবস্থা

Update Time : ০২:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি::ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্র বীজ মোড় এখন প্রতিদিনই যানজটের কারণে দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ এলাকায় প্রায় স্থবির হয়ে যায় যান চলাচল। রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রী—কেউই এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন দোকানপাটে ক্রেতা আসতে পারে না যানজটের কারণে। রোগী নিয়ে আসা আত্মীয়স্বজনরা এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। এটা তো যেন জীবন্ত নরক।”
সাধারণ যাত্রীরাও একই ক্ষোভের সুরে বলেন, শহরের প্রধান সড়ক হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নেই।

বিকেল ৪টার পর থেকে শুরু হওয়া যানজট রাত ৯-১০টা পর্যন্ত লেগেই থাকে। এতে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ভুগছে জরুরি সেবা। এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা নিয়মিত চেষ্টা করছি যানজট নিরসনে।

কিন্তু শহরের রাস্তার গঠন, বেআইনি পার্কিং, আর অপ্রতুল সড়ক ব্যবস্থাপনার কারণে যানজট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।” বিশ্লেষকদের মতে, শহরের অবকাঠামোগত পরিকল্পনা হালনাগাদ না হওয়া, গণপরিবহন ও সড়ক ব্যবস্থাপনা সমন্বিত না হওয়া, এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ফ্লাইওভার নির্মাণ,

বিকল্প সড়ক ব্যবহার, রিকশা ও পণ্যবাহী গাড়ির জন্য আলাদা লেন নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ময়মনসিংহের মানুষের প্রত্যাশা—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। অন্যথায় বীজ মোড় শুধু যানজট নয়, নগরজীবনের স্থায়ী অভিশাপে পরিণত হবে।