Dhaka ১১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সতর্কবার্তা পাঠানো চিঠি প্রদর্শন।

জহুরুল ইসলাম চয়ন
  • Update Time : ০৩:৪২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৭৮ Time View

পটুয়াখালী প্রতিনিধি::পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময়সূচি ঘিরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় জেলা প্রশাসন কড়া সতর্কতা জারি করেছে। একই সময় ও একই স্থানে সমাবেশের কারণে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের হাসান মামুন এবং বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের নুরুল হক নূরকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. শহীদ হোসেন চৌধুরী চিঠি দিয়েছেন।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে, গত কয়েকদিনে নির্বাচনী প্রচারণা ও মিছিলের সময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার নির্বাচনী সফরসূচি পর্যালোচনা করেছেন। এতে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে শুরু করে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়নে দুই প্রার্থীর জনসভা ও মিছিলের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নুরুল হক এবং হাসান মামুন একই দিনে ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে জনসমাবেশ করবেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী একই স্থানে বা কাছাকাছি স্থানে প্রচারণা চালালে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের পাগলা বাজারে এবং ২৭ জানুয়ারি গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া বটতলায় নির্বাচনী মিছিল চলাকালীন দু’পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন এবং দুটি মামলা রুজু হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আচরণ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে সকল প্রার্থী সমান অধিকার পাবেন। তবে প্রতিপক্ষের জনসভা, শোভাযাত্রা বা অন্যান্য প্রচারাভিযান পণ্ড করা, বাঁধা প্রদান বা ভীতিসঞ্চারমূলক কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া যাবে না। একই স্থানে একাধিক দল বা প্রার্থীর কর্মসূচি থাকলে কর্তৃপক্ষ তা সমন্বয় করবে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিধি অনুসরণে প্রচারণা চালানো না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নূর জানিয়েছেন, “ঘটনাক্রমে কিছু সময়সূচি একই হয়ে গেছে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রোগ্রাম পরিবর্তন করতে পারি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির কারণ হয়ে থাকছে।”

স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, “আমরা চরশিবার এলাকায় কোন প্রোগ্রাম করিনি। আমাদের কর্মসূচি ভিন্ন জায়গায় সম্পন্ন হচ্ছে।”

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিল্লুর রহমান জানান, “আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। প্রশাসন প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও সমন্বয় বজায় রেখেছে।”

এ ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচনী সময়সূচি এবং সমাবেশ পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গুরুত্ব আবারও浮রানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা দুই প্রার্থীকে নির্দেশ দিয়েছেন, সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা এড়াতে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি এবং স্থানের বাইরে কোনো প্রচারণা পরিচালনা না করতে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সতর্কবার্তা পাঠানো চিঠি প্রদর্শন।

Update Time : ০৩:৪২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি::পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময়সূচি ঘিরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় জেলা প্রশাসন কড়া সতর্কতা জারি করেছে। একই সময় ও একই স্থানে সমাবেশের কারণে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের হাসান মামুন এবং বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের নুরুল হক নূরকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. শহীদ হোসেন চৌধুরী চিঠি দিয়েছেন।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে, গত কয়েকদিনে নির্বাচনী প্রচারণা ও মিছিলের সময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার নির্বাচনী সফরসূচি পর্যালোচনা করেছেন। এতে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে শুরু করে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়নে দুই প্রার্থীর জনসভা ও মিছিলের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নুরুল হক এবং হাসান মামুন একই দিনে ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে জনসমাবেশ করবেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী একই স্থানে বা কাছাকাছি স্থানে প্রচারণা চালালে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের পাগলা বাজারে এবং ২৭ জানুয়ারি গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া বটতলায় নির্বাচনী মিছিল চলাকালীন দু’পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন এবং দুটি মামলা রুজু হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আচরণ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে সকল প্রার্থী সমান অধিকার পাবেন। তবে প্রতিপক্ষের জনসভা, শোভাযাত্রা বা অন্যান্য প্রচারাভিযান পণ্ড করা, বাঁধা প্রদান বা ভীতিসঞ্চারমূলক কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া যাবে না। একই স্থানে একাধিক দল বা প্রার্থীর কর্মসূচি থাকলে কর্তৃপক্ষ তা সমন্বয় করবে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিধি অনুসরণে প্রচারণা চালানো না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নূর জানিয়েছেন, “ঘটনাক্রমে কিছু সময়সূচি একই হয়ে গেছে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রোগ্রাম পরিবর্তন করতে পারি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির কারণ হয়ে থাকছে।”

স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, “আমরা চরশিবার এলাকায় কোন প্রোগ্রাম করিনি। আমাদের কর্মসূচি ভিন্ন জায়গায় সম্পন্ন হচ্ছে।”

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিল্লুর রহমান জানান, “আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। প্রশাসন প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও সমন্বয় বজায় রেখেছে।”

এ ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচনী সময়সূচি এবং সমাবেশ পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গুরুত্ব আবারও浮রানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা দুই প্রার্থীকে নির্দেশ দিয়েছেন, সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা এড়াতে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি এবং স্থানের বাইরে কোনো প্রচারণা পরিচালনা না করতে।