Dhaka ০৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং লিডারসহ ছয়জনকে ধরল সেনাবাহিনী

মোঃ শান্ত খান
  • Update Time : ১০:০৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৫২ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি::সাভারের আশুলিয়ায় কুখ্যাত কিশোর গ্যাং লিডার ইয়ার হোসেন (২০) ও কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী সোনা মিয়া (৪৫)সহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। রবিবার গভীর রাতে শিল্পাঞ্চলের জামগড়া ও রূপায়ন এলাকায় একাধিক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এসময় উদ্ধার করা হয় ১৬টি দেশীয় অস্ত্র, ৫টি ধারালো অস্ত্র, পাঁচ পট গাঁজা, ৮টি মোবাইল ফোন ও ৪৮টি সিমকার্ড।

গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন—আশরাফুল (১৮), বড় বাবু (১৯), ছোট বাবু (১৭) ও আকাশ (১৮)। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে। সোমবার দুপুরে আশুলিয়া থানায় মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইয়ার হোসেনের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জামগড়া, ভাদাইল ও রূপায়ন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তারা প্রকাশ্যে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, অনলাইন জুয়া এবং চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল। তাদের দাপটে স্থানীয় সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন। অনেকে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সেনাবাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে জামগড়া প্রাইমারি স্কুল, বটতলা ও রূপায়ন এলাকায় পাঁচ দফা অভিযান চালানো হয়। এতে কিশোর গ্যাং লিডার ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইয়ার হোসেন ও সোনা মিয়ার নামে অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে মারধর, নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এসব তথ্য জামগড়া আর্মি ক্যাম্পের নজরে আসলে পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়।

আশুলিয়া থানার পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে উদ্ধারকৃত আলামতসহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

অভিযান শেষে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, “দীর্ঘদিন আমরা আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। সেনাবাহিনীর এই অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছে। আমরা চাই, এসব অপরাধীদের যেন আর কখনো এলাকায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং লিডারসহ ছয়জনকে ধরল সেনাবাহিনী

Update Time : ১০:০৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি::সাভারের আশুলিয়ায় কুখ্যাত কিশোর গ্যাং লিডার ইয়ার হোসেন (২০) ও কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী সোনা মিয়া (৪৫)সহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। রবিবার গভীর রাতে শিল্পাঞ্চলের জামগড়া ও রূপায়ন এলাকায় একাধিক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এসময় উদ্ধার করা হয় ১৬টি দেশীয় অস্ত্র, ৫টি ধারালো অস্ত্র, পাঁচ পট গাঁজা, ৮টি মোবাইল ফোন ও ৪৮টি সিমকার্ড।

গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন—আশরাফুল (১৮), বড় বাবু (১৯), ছোট বাবু (১৭) ও আকাশ (১৮)। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে। সোমবার দুপুরে আশুলিয়া থানায় মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইয়ার হোসেনের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জামগড়া, ভাদাইল ও রূপায়ন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তারা প্রকাশ্যে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, অনলাইন জুয়া এবং চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল। তাদের দাপটে স্থানীয় সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন। অনেকে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সেনাবাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে জামগড়া প্রাইমারি স্কুল, বটতলা ও রূপায়ন এলাকায় পাঁচ দফা অভিযান চালানো হয়। এতে কিশোর গ্যাং লিডার ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইয়ার হোসেন ও সোনা মিয়ার নামে অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে মারধর, নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এসব তথ্য জামগড়া আর্মি ক্যাম্পের নজরে আসলে পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়।

আশুলিয়া থানার পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে উদ্ধারকৃত আলামতসহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

অভিযান শেষে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, “দীর্ঘদিন আমরা আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। সেনাবাহিনীর এই অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছে। আমরা চাই, এসব অপরাধীদের যেন আর কখনো এলাকায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।”