ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা
- Update Time : ০৫:১৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / ৫ Time View
অপরাধ ডেস্ক: রাজধানীর শনিরআখড়ায় ডাচ বাংলা ব্যাংকের একটি শাখা থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ও একটি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন এক গ্রাহক। নারগিস আক্তার নামের এক গৃহিণী বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে এই জালিয়াতির ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। আদালত বাদীর বক্তব্য শুনে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পর সংশ্লিষ্ট মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বাদী নারগিস আক্তার নিজের জমি ও গাড়ি বিক্রি এবং বিভিন্ন সম্পত্তি ভাড়ার জমানো টাকা ডাচ বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখায় জমা রেখেছিলেন। তিনি নিরক্ষর হওয়ায় ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে চেক পূরণসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে সহায়তার নামে বিশ্বাস অর্জন করেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জালিয়াতির পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও এই অপকর্মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি বাদী ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে গেলে তাকে নানা কৌশলে অতিরিক্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে হিসাবের স্থিতি জানতে গেলে আসামিরা জানান যে হিসাবে মাত্র সামান্য কিছু অর্থ অবশিষ্ট রয়েছে। বাদী হতবাক হয়ে বাকি টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংক কর্মকর্তারা তাকে জানান যে একটি বিশেষ ফরমের মাধ্যমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে পঁচাশি লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। অথচ বাদী ওই দিন ব্যাংকেই যাননি এবং কাউকে কোনো চেকও প্রদান করেননি। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় জালিয়াতি করে ওই অর্থ অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেওয়া হয়।
মামলায় ডাচ বাংলা ব্যাংক দনিয়া শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড ডেপুটি ম্যানেজার মোহিত মোরশেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার সৌরভ সাহা, রেমিট্যান্স অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. গোলাম কিবরিয়াসহ মোট নয়টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আসামি করা হয়েছে। গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্র্যাফট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ও কর্মকর্তারা এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিরা ভুয়া চেক ও জাল স্বাক্ষর তৈরি করে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে নগদ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে।

























