অভিযোগ
- Update Time : ১১:২৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / ২৪ Time View
সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনিয়ম ও অপরাধের তথ্য প্রকাশের জেরে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদা দাবি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গ্যারেজে ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ময়মনসিংহের সাংবাদিক মামুনুর রশিদ মামুন। তাঁর অভিযোগ, একাধিক ঘটনায় সংঘবদ্ধভাবে জড়িত ব্যক্তিরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। এমনকি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুটি ফাঁকা স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া এবং সাজানো ভিডিও ধারণের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি তাঁর।
এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবিতে গত ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত একাধিক ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তির বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সুপারের কাছে দাখিল করা আবেদনে ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কয়েকটি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে সেগুলোর পারস্পরিক যোগসূত্র, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং পূর্ববর্তী পুলিশি কার্যক্রম পর্যালোচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি তদারকি এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত করার আবেদনও করেছেন অভিযোগকারী।
একাধিক ঘটনার অভিযোগ, শুরু ২০২৫ সালে: পুলিশ সুপারের কাছে দাখিল করা আবেদনে মামুনুর রশিদ মামুন উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২৩ জুন মদিনাতুল কুরআন ও সুন্নাহ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আলামিনের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি এবং তাঁকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ঘটনার সুনির্দিষ্ট তারিখ, সংশ্লিষ্ট নথি ও ঘটনার বিবরণ যাচাই করে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের একটি সরকারি উন্নয়নকাজে বাধা সৃষ্টি, চাঁদা দাবি এবং দায়িত্ব পালনরত একজন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়টিও আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর তাঁর অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গ্যারেজে হামলা, ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্যারেজের জমির মালিকের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট জমির মালিকের পরিচয়, ঘটনার প্রকৃত বিবরণ, লুট হওয়া মালামালের পরিমাণ ও মালিকানা এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বলাশপুরে ৩০-৩৫ জনের সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ: আবেদনে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি করা হয়েছে ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ময়মনসিংহ নগরের বলাশপুর এলাকার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে মো. চান মিয়ার পাঁচতলা ভবনে বাসা পরিবর্তনের সময় জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
মামুনুর রশিদ মামুনের দাবি, ওই সময় দায়িত্ব পালনরত উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম রব্বানি এবং একজন বয়োবৃদ্ধ কনস্টেবলকেও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।
তাঁর অভিযোগ, একপর্যায়ে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ‘মাটিতে বস! কাউকে জীবিত পাওয়া যেত না!’—এ ধরনের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।
অভিযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, ওই ঘটনায় তাঁকে জোরপূর্বক দুটি ফাঁকা স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয় এবং একটি সাজানো ভিডিও ধারণ করা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রকৃত ভূমিকা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান এবং কথিত জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণের বিষয়টি স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
দুই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ:
আবেদনে মো. চান মিয়া, পিতা: মৃত হাসেন আলী, সাং: বলাশপুর এবং অনিক মিয়া, পিতা: মৃত নজরুল ইসলাম, সাং: বলাশপুর—এই দুজনকে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারী।
মো. চান মিয়া অভিযোগে উল্লিখিত পাঁচতলা ভবনের মালিক এবং মামুনুর রশিদ মামুনের সাবেক বাড়িওয়ালা। অন্যদিকে অনিক মিয়া সংশ্লিষ্ট গ্যারেজের দখলীয় জমির মালিক বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা কিংবা প্রমাণ তাঁদের কাছে থাকতে পারে। তবে তাঁরা প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতির আশঙ্কায় রয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
তাঁর আশঙ্কা, সাক্ষীদের ওপর কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং তাঁদের স্বাধীনভাবে সাক্ষ্য প্রদানের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এ কারণে তাঁদের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি জরুরি ভিত্তিতে মূল্যায়ন, প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য পুলিশি সুরক্ষা এবং কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই তাঁদের বক্তব্য গ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
সিসিটিভি ফুটেজ ও দুই ঘণ্টার অডিওতে থাকতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল তথ্যের কথা উল্লেখ করেছেন মামুনুর রশিদ মামুন।
তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি বলাশপুরের সংশ্লিষ্ট ভবনে সংঘটিত ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়ে থাকতে পারে। ওই ফুটেজ বাড়ির মালিক মো. চান মিয়ার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি আবেদনে জানিয়েছেন।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় দুই ঘণ্টার একটি অডিও ক্লিপ, সাউন্ড রেকর্ড, ভয়েস কল রেকর্ড এবং অন্যান্য ডিজিটাল উপাত্ত তাঁর কাছে রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে পুলিশকে এসব ডিজিটাল প্রমাণের একটি গুগল ড্রাইভে সংরক্ষিত লিংক সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে ডিজিটাল আলামতের ক্ষেত্রে শুধু রেকর্ডিং থাকাই যথেষ্ট নয়। এর উৎস, সময়-তারিখ, অখণ্ডতা, সম্পাদনার সম্ভাবনা, প্রাসঙ্গিকতা এবং প্রমাণমূল্য যথাযথ কারিগরি ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি।
এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ, মূল রেকর্ডিং ও সংরক্ষণমাধ্যম দ্রুত সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় কপি সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল আলামত যাতে মুছে ফেলা, পরিবর্তন বা নষ্ট করা না যায়, সে জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
পূর্ববর্তী পুলিশি স্মারক পর্যালোচনার দাবি:
আবেদনে পূর্ববর্তী পুলিশি কার্যক্রমের দুটি স্মারকের উল্লেখ করেছেন মামুনুর রশিদ মামুন।
এর মধ্যে রয়েছে রিজার্ভ অফিস, ময়মনসিংহের স্মারক নম্বর ২১৯/(আর), তারিখ ৫ এপ্রিল ২০২৬ এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার স্মারক নম্বর ৪৪.০১.০০০০.২০১.১৭.০১১.২০২৪-১২০৯, তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০২৬।
অভিযোগকারী এসব স্মারকের সঙ্গে বর্তমান অভিযোগের প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা এবং পূর্বে কী ধরনের পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর বিষয়ে আগে কোনো লিখিত অভিযোগ, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), মামলা, তদন্ত কিংবা প্রশাসনিক কার্যক্রম হয়ে থাকলে সেসবের নথি ও বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর মতে, একাধিক ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কথিত যোগসূত্র বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট থানা, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি।
ডিবির মাধ্যমে তদন্তের অনুরোধ: অভিযোগের প্রকৃতি, একাধিক ঘটনার ধারাবাহিকতা, একাধিক ব্যক্তির কথিত সংশ্লিষ্টতা, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের নিরাপত্তাঝুঁকি এবং ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মাধ্যমে তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন মামুনুর রশিদ মামুন।
তাঁর আবেদনে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ভূমিকা ও ঘটনাগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক যাচাই, লুট হওয়া মালামালের তালিকা ও মালিকানাসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা, মালামাল শনাক্ত ও উদ্ধারের উদ্যোগ, সাক্ষীদের নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং ডিজিটাল আলামত আইনানুগভাবে সংগ্রহ ও যাচাইয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
এ ছাড়া পূর্ববর্তী অভিযোগ, জিডি, মামলা ও তদন্তের নথি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা নির্ধারণ এবং তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
তবে তদন্তের দায়িত্ব ও পদ্ধতি নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনানুগ এখতিয়ারাধীন—এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অভিযোগের গুরুত্ব অনুসারে ডিবির মাধ্যমে তদন্ত অথবা উপযুক্ত তদন্তকারী ইউনিট নির্ধারণে পুলিশ সুপারের নির্দেশনা চেয়েছেন তিনি।
পুলিশ সুপারের কাছে নয় দফা প্রতিকার দাবি:
আবেদনে মোট নয়টি বিষয়ে প্রতিকার চেয়েছেন অভিযোগকারী। এর মধ্যে রয়েছে—১. মো. চান মিয়া ও অনিক মিয়াসহ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পুলিশি সুরক্ষা প্রদান। ২. পূর্ববর্তী অভিযোগ ও পুলিশি কার্যক্রমের নথি পর্যালোচনা। ৩. নিরপেক্ষ তদন্ত ও সরাসরি তদারকি। ৪. সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ। ৫. ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বরের কথিত হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় মালামাল শনাক্ত ও উদ্ধার।
৬. জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর গ্রহণ এবং ভিডিও ধারণের অভিযোগ তদন্ত। ৭. অডিও ও ভয়েস কল রেকর্ডের সত্যতা যাচাই।
৮. সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ। ৯. আবেদনটির পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত পদক্ষেপ, দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা বা ইউনিট এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আইন ও বিধি অনুযায়ী লিখিতভাবে অবহিত করা।
ব্যক্তিগত প্রতিকার নয়, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি: আবেদনের শেষাংশে মামুনুর রশিদ মামুন উল্লেখ করেছেন, তিনি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত, হয়রানি কিংবা আইনবহির্ভূত ব্যবস্থা প্রত্যাশা করেন না। বরং বিদ্যমান তথ্য, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের উদ্যোগ, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা চান।
তিনি মনে করেন, একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে যদি তাঁর বা পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিকের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসনের প্রশ্নও জড়িত।
একই সঙ্গে অভিযোগে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের বিষয়ে কোনো আগাম সিদ্ধান্তে না পৌঁছে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করাই হবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপে: মামুনুর রশিদ মামুনের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করার অভিযোগ, ফাঁকা স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গ্যারেজে হামলা-ভাঙচুর, মালামাল লুট এবং গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের নিরাপত্তাঝুঁকি। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, অডিও রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট নথি, পূর্ববর্তী পুলিশি কার্যক্রম এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষ করে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের কথিত ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এবং ডিজিটাল আলামতের অখণ্ডতা রক্ষা করা জরুরি। কারণ, সময়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা রেকর্ডিং হারিয়ে গেলে কিংবা নষ্ট হয়ে গেলে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এখন দেখার বিষয়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের দেওয়া আশ্বাসের পর ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ অভিযোগগুলো কতটা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ ও যাচাইয়ে কী উদ্যোগ গ্রহণ করে।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগে নাম আসা প্রত্যেক ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ, অভিযোগ মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়; অভিযুক্ত মানেই দোষী নয়। কিন্তু গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়াও ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা। সাংবাদিক, তাঁর পরিবার কিংবা সাধারণ নাগরিক—কারও নিরাপত্তা যেন ভয়ভীতি ও প্রভাবের কাছে জিম্মি না হয়, সেটিই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা।
তথ্যসূত্র: ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের কাছে ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে সাংবাদিক মামুনুর রশিদ মামুনের দাখিল করা লিখিত আবেদন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের বক্তব্য।




















