Dhaka ০২:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমির বাণিজ্যিকীকরণে বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে ঢাকা

Reporter Name
  • Update Time : ০২:০১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৩ Time View

জাতীয় ডেস্ক: অপরিকল্পিত ও লাগামহীন বাণিজ্যিকীকরণের ফলে দেশের রাজধানী ঢাকা তার মৌলিক বাসযোগ্যতা দ্রুত হারিয়ে ফেলছে। সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় নগর পরিকল্পনাবিদরা এই উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই নেতিবাচক প্রবণতার কারণে নাগরিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক অবনতি ঘটছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শায়ের গফুর এই অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নীতিনির্ধারক মহলের যথাযথ তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবই এই পরিস্থিতির জন্য মূলত দায়ী। কর্তৃপক্ষের এই রহস্যজনক নীরবতার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী মহল ইচ্ছেমতো জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে।

নগর বিশেষজ্ঞর মতে, কেবল দায়সারা গোছের কিছু সংস্কার করে রাজধানীর এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। এই ধ্বংসাত্মক ধারার বিরুদ্ধে জোরালো ও দৃশ্যমান অবস্থান না নিলে ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তোলার যেকোনো উদ্যোগ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হতে বাধ্য। তাই শহর বাঁচাতে হলে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কারণে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান কমছে, অন্যদিকে নাগরিক সুযোগ-সুবিধাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। এখনই কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা না হলে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকা সম্পূর্ণ বসবাসের অউপযোগী মেগাসিটিতে পরিণত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

জমির বাণিজ্যিকীকরণে বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে ঢাকা

Update Time : ০২:০১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: অপরিকল্পিত ও লাগামহীন বাণিজ্যিকীকরণের ফলে দেশের রাজধানী ঢাকা তার মৌলিক বাসযোগ্যতা দ্রুত হারিয়ে ফেলছে। সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় নগর পরিকল্পনাবিদরা এই উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই নেতিবাচক প্রবণতার কারণে নাগরিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক অবনতি ঘটছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শায়ের গফুর এই অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নীতিনির্ধারক মহলের যথাযথ তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবই এই পরিস্থিতির জন্য মূলত দায়ী। কর্তৃপক্ষের এই রহস্যজনক নীরবতার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী মহল ইচ্ছেমতো জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে।

নগর বিশেষজ্ঞর মতে, কেবল দায়সারা গোছের কিছু সংস্কার করে রাজধানীর এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। এই ধ্বংসাত্মক ধারার বিরুদ্ধে জোরালো ও দৃশ্যমান অবস্থান না নিলে ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তোলার যেকোনো উদ্যোগ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হতে বাধ্য। তাই শহর বাঁচাতে হলে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কারণে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান কমছে, অন্যদিকে নাগরিক সুযোগ-সুবিধাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। এখনই কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা না হলে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকা সম্পূর্ণ বসবাসের অউপযোগী মেগাসিটিতে পরিণত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।