Dhaka ০৮:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা হ্রাসের পেছনে যত কারণ

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ এক দশক ধরে দেশ শাসন করার পর, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ফেলে। যদিও শেষ পর্যন্ত জোটগতভাবে সরকার গঠন করে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন, তবে এই নির্বাচনী ফলাফল তার সরকারের কর্মসম্পাদন ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই জনপ্রিয়তার পারদ নিচে নামার পেছনে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি থেকে শুরু করে নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যু গভীরভাবে কাজ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মোদির জনপ্রিয়তা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ হলো কর্মসংস্থানের সংকট ও শিক্ষিত বেকারত্ব। বিপুলসংখ্যক তরুণ উচ্চশিক্ষা শেষ করেও মনের মতো চাকরি না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন, যা বিভিন্ন জনমত জরিপেও সরকারের বড় ব্যর্থতা হিসেবে উঠে এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। এছাড়া তরুণ সমাজের উচ্চাশা এবং বাস্তব সুযোগের মধ্যকার এই ব্যবধান ক্ষমতাসীন দলের প্রতি ভোটারদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কৃষক অসন্তোষ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর চাপও মোদির রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য ও উৎপাদনের খরচ নিয়ে কৃষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল বিগত নির্বাচনে, যার ফলে কৃষিনির্ভর অঞ্চলে বিজেপির আসন সংখ্যা কমে যায়। পাশাপাশি, সেনাবাহিনীতে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক অগ্নিবীর নিয়োগব্যবস্থা চালুর ফলে তরুণদের একটি বড় অংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অন্যদিকে, সংবিধান ও সংরক্ষণব্যবস্থা পরিবর্তন নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন উদ্বেগ তফসিলি জাতি ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মাঝে দলটির ভোট ব্যাংকে ফাটল ধরায়।

সামাজিক সম্প্রীতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার নানা ইস্যুও সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাসের জন্য দায়ী বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মণিপুর রাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতা বড় ধরনের সমালোচনার জন্ম দেয়। এর বিপরীতে বিরোধী দলগুলোর জোট ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমে বেকারত্ব ও সংবিধান সুরক্ষার মতো জনমুখী ইস্যুগুলোকে সামনে এনে একটি শক্ত বিকল্প রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করতে সক্ষম হয়। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার ফলে জন্ম নেওয়া স্থানীয় অসন্তোষ এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসও পরিশেষে দলটির কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা হ্রাসের পেছনে যত কারণ

Update Time : ০৭:০১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ এক দশক ধরে দেশ শাসন করার পর, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ফেলে। যদিও শেষ পর্যন্ত জোটগতভাবে সরকার গঠন করে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন, তবে এই নির্বাচনী ফলাফল তার সরকারের কর্মসম্পাদন ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই জনপ্রিয়তার পারদ নিচে নামার পেছনে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি থেকে শুরু করে নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যু গভীরভাবে কাজ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মোদির জনপ্রিয়তা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ হলো কর্মসংস্থানের সংকট ও শিক্ষিত বেকারত্ব। বিপুলসংখ্যক তরুণ উচ্চশিক্ষা শেষ করেও মনের মতো চাকরি না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন, যা বিভিন্ন জনমত জরিপেও সরকারের বড় ব্যর্থতা হিসেবে উঠে এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। এছাড়া তরুণ সমাজের উচ্চাশা এবং বাস্তব সুযোগের মধ্যকার এই ব্যবধান ক্ষমতাসীন দলের প্রতি ভোটারদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কৃষক অসন্তোষ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর চাপও মোদির রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য ও উৎপাদনের খরচ নিয়ে কৃষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল বিগত নির্বাচনে, যার ফলে কৃষিনির্ভর অঞ্চলে বিজেপির আসন সংখ্যা কমে যায়। পাশাপাশি, সেনাবাহিনীতে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক অগ্নিবীর নিয়োগব্যবস্থা চালুর ফলে তরুণদের একটি বড় অংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অন্যদিকে, সংবিধান ও সংরক্ষণব্যবস্থা পরিবর্তন নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন উদ্বেগ তফসিলি জাতি ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মাঝে দলটির ভোট ব্যাংকে ফাটল ধরায়।

সামাজিক সম্প্রীতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার নানা ইস্যুও সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাসের জন্য দায়ী বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মণিপুর রাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতা বড় ধরনের সমালোচনার জন্ম দেয়। এর বিপরীতে বিরোধী দলগুলোর জোট ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমে বেকারত্ব ও সংবিধান সুরক্ষার মতো জনমুখী ইস্যুগুলোকে সামনে এনে একটি শক্ত বিকল্প রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করতে সক্ষম হয়। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার ফলে জন্ম নেওয়া স্থানীয় অসন্তোষ এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসও পরিশেষে দলটির কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।