Dhaka ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে ভারসাম্যহীন নারীর পুত্র সন্তানের মা হলেন

আব্দুর রাজ্জাক
  • Update Time : ০৭:১৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / ১৪৩ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি::‎একজন ভারসাম্যহীন নারী যখন সন্তান জন্ম দেন, সমাজ তার দিকে আঙুল তোলে। অথচ সেই সন্তানের পিতৃপরিচয় আড়ালে রাখা অজ্ঞাত পুরুষটির পাশবিকতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না- এটাই আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় বিচারহীনতা।

‎বৃহস্পতিবার (৭মে ২০২৬ইং)
সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার প্রাতঃ বাজারে ঘটে যাওয়া এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহলে এমনই ক্ষোভ আর আক্ষেপ সৃষ্টি হয়েছে।

‎সরাইল প্রাতঃ বাজারে দীর্ঘ দিন ধরে আশ্রয় নেওয়া এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী (পাগলি) সকাল ৯ ঘটিকার সময় একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তান জন্ম দিয়েছেন। স্থানীয়দের তড়িৎ পদক্ষেপে মা ও নবজাতক বর্তমানে সুস্থ আছেন। ওই নারী অসংলগ্নভাবে নিজের নাম ‘রাফি’ এবং বাড়ি সিলেট জেলা বলে উল্লেখ করলেও বিস্তারিত কোনো পরিচয় দিতে পারেননি।

‎এই ঘটনাটি ফের আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আমাদের সমাজের নৈতিক অবক্ষয় নাগরিক সমাজের মতে, একজন অসহায় নারীর মাতৃত্ব কোনো অপরাধ নয় বরং তার অসুস্থতা ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে যে পৈশাচিক লালসা চরিতার্থ করা হয়েছে, সেটিই চরম অপরাধ।

‎ রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এক অসুস্থ নারীর ওপর লালসার প্রতিফলন ঘটিয়ে যারা সটকে পড়েছে, সেই অজ্ঞাত পরিচয় পিতাকে খুঁজে বের করার দাবি উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে সমাজ কেন শুধু নারীর মাতৃত্ব নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে, কেন সেই অদৃশ্য পুরুষটির খোঁজ পাওয়ার তাগিদ দেখায় না?

‎বর্তমানে নবজাতক ও প্রসূতি সুস্থ থাকলেও তাদের ভবিষ্যৎ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই পরিচয়হীন শিশুর বেড়ে ওঠা এবং ভারসাম্যহীন রাফির পরবর্তী জীবন কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।

‎এটি কেবল একটি জন্ম নয়, এটি আমাদের সম্মিলিত বিবেকের পরাজয়। আমরা যদি এই অসহায় নারীর সম্ভ্রম লুণ্ঠনকারীকে চিহ্নিত করতে না পারি, তবে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।

‎বর্তমানে শিশুটি ও তার মা স্থানীয়দের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তাদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে ভারসাম্যহীন নারীর পুত্র সন্তানের মা হলেন

Update Time : ০৭:১৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি::‎একজন ভারসাম্যহীন নারী যখন সন্তান জন্ম দেন, সমাজ তার দিকে আঙুল তোলে। অথচ সেই সন্তানের পিতৃপরিচয় আড়ালে রাখা অজ্ঞাত পুরুষটির পাশবিকতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না- এটাই আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় বিচারহীনতা।

‎বৃহস্পতিবার (৭মে ২০২৬ইং)
সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার প্রাতঃ বাজারে ঘটে যাওয়া এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহলে এমনই ক্ষোভ আর আক্ষেপ সৃষ্টি হয়েছে।

‎সরাইল প্রাতঃ বাজারে দীর্ঘ দিন ধরে আশ্রয় নেওয়া এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী (পাগলি) সকাল ৯ ঘটিকার সময় একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তান জন্ম দিয়েছেন। স্থানীয়দের তড়িৎ পদক্ষেপে মা ও নবজাতক বর্তমানে সুস্থ আছেন। ওই নারী অসংলগ্নভাবে নিজের নাম ‘রাফি’ এবং বাড়ি সিলেট জেলা বলে উল্লেখ করলেও বিস্তারিত কোনো পরিচয় দিতে পারেননি।

‎এই ঘটনাটি ফের আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আমাদের সমাজের নৈতিক অবক্ষয় নাগরিক সমাজের মতে, একজন অসহায় নারীর মাতৃত্ব কোনো অপরাধ নয় বরং তার অসুস্থতা ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে যে পৈশাচিক লালসা চরিতার্থ করা হয়েছে, সেটিই চরম অপরাধ।

‎ রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এক অসুস্থ নারীর ওপর লালসার প্রতিফলন ঘটিয়ে যারা সটকে পড়েছে, সেই অজ্ঞাত পরিচয় পিতাকে খুঁজে বের করার দাবি উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে সমাজ কেন শুধু নারীর মাতৃত্ব নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে, কেন সেই অদৃশ্য পুরুষটির খোঁজ পাওয়ার তাগিদ দেখায় না?

‎বর্তমানে নবজাতক ও প্রসূতি সুস্থ থাকলেও তাদের ভবিষ্যৎ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই পরিচয়হীন শিশুর বেড়ে ওঠা এবং ভারসাম্যহীন রাফির পরবর্তী জীবন কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।

‎এটি কেবল একটি জন্ম নয়, এটি আমাদের সম্মিলিত বিবেকের পরাজয়। আমরা যদি এই অসহায় নারীর সম্ভ্রম লুণ্ঠনকারীকে চিহ্নিত করতে না পারি, তবে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।

‎বর্তমানে শিশুটি ও তার মা স্থানীয়দের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তাদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।