Dhaka ০৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কবিরাজের চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন

আব্দুর রাজ্জাক
  • Update Time : ০৮:১০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৬৩ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি::জিনে ধরার রোগী ভালো করা থেকে শুরু করে হাঁপানি, মৃগী, টিউমার, পক্ষাঘাত, জন্ডিস ও বন্ধ্যাত্ব—প্রায় ১৪ ধরনের জটিল ও ভিন্নধর্মী রোগ সারানোর দাবি করা হচ্ছে একটি ব্যানারে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ভূইশ্বর বাজারে ‘কবিরাজী চিকিৎসালয়’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে এসব রোগের চিকিৎসা দেওয়ার প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ভূইশ্বর বাজারের হাজী আলী আক্কাস মার্কেটের একটি কক্ষে ‘কবিরাজী চিকিৎসালয়’ নামে চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনা করছেন হাফেজ মাওলানা মো. রোমান (হুজুর) নামের এক ব্যক্তি। সেখানে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি রোগ নিরাময়ের নিশ্চয়তাও প্রচার করা হচ্ছে।

চিকিৎসাকেন্দ্রটির প্রচারণার ব্যানারে জিনে আক্রান্ত রোগী, হাঁপানি, মৃগী, টিউমার, অর্শ, লিভার জন্ডিস, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, পক্ষাঘাত বা হাত-পা কাঁপা, পুরোনো জ্বর, শরীরে জ্বালাপোড়া, অ্যালার্জি, কাঠমেছ, স্বপ্নদোষ, নারীদের সাদা স্রাব এবং সন্তানহীনতার মতো সমস্যার চিকিৎসার কথা উল্লেখ রয়েছে।
ব্যানারে এসব রোগের চিকিৎসায় গাছের শিকড়-বাকড় ও কথিত অলৌকিক পদ্ধতির কথা প্রচার করা হচ্ছে বলে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে এসব চিকিৎসার কার্যকারিতা বা রোগ নিরাময়ের দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, জিনের আছর কিংবা অলৌকিক ক্ষমতার কথা বলে অনেক রোগীকে চিকিৎসার জন্য আকৃষ্ট করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় পড়লে এ ধরনের প্রচারণায় প্রভাবিত হতে পারেন। এতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, টিউমার, মৃগী, পক্ষাঘাত, জন্ডিস ও বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যার কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজন রোগভেদে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ। এসব রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় না করে কেবল কথিত অলৌকিক বা অপ্রমাণিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করলে রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে দেরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ডিসের পেছনে বিভিন্ন ধরনের লিভার ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। একইভাবে টিউমার ও পক্ষাঘাতের ক্ষেত্রেও রোগের ধরন ও কারণ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রোগের কারণ শনাক্ত না করে এক পদ্ধতিতে সব ধরনের জটিল রোগ সারানোর দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোনো ব্যক্তি বৈধভাবে চিকিৎসা দেওয়ার যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে কি না এবং প্রচারিত রোগ নিরাময়ের দাবির সত্যতা কী—সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতারণার আশঙ্কা এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কবিরাজের চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন

Update Time : ০৮:১০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি::জিনে ধরার রোগী ভালো করা থেকে শুরু করে হাঁপানি, মৃগী, টিউমার, পক্ষাঘাত, জন্ডিস ও বন্ধ্যাত্ব—প্রায় ১৪ ধরনের জটিল ও ভিন্নধর্মী রোগ সারানোর দাবি করা হচ্ছে একটি ব্যানারে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ভূইশ্বর বাজারে ‘কবিরাজী চিকিৎসালয়’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে এসব রোগের চিকিৎসা দেওয়ার প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ভূইশ্বর বাজারের হাজী আলী আক্কাস মার্কেটের একটি কক্ষে ‘কবিরাজী চিকিৎসালয়’ নামে চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনা করছেন হাফেজ মাওলানা মো. রোমান (হুজুর) নামের এক ব্যক্তি। সেখানে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি রোগ নিরাময়ের নিশ্চয়তাও প্রচার করা হচ্ছে।

চিকিৎসাকেন্দ্রটির প্রচারণার ব্যানারে জিনে আক্রান্ত রোগী, হাঁপানি, মৃগী, টিউমার, অর্শ, লিভার জন্ডিস, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, পক্ষাঘাত বা হাত-পা কাঁপা, পুরোনো জ্বর, শরীরে জ্বালাপোড়া, অ্যালার্জি, কাঠমেছ, স্বপ্নদোষ, নারীদের সাদা স্রাব এবং সন্তানহীনতার মতো সমস্যার চিকিৎসার কথা উল্লেখ রয়েছে।
ব্যানারে এসব রোগের চিকিৎসায় গাছের শিকড়-বাকড় ও কথিত অলৌকিক পদ্ধতির কথা প্রচার করা হচ্ছে বলে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে এসব চিকিৎসার কার্যকারিতা বা রোগ নিরাময়ের দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, জিনের আছর কিংবা অলৌকিক ক্ষমতার কথা বলে অনেক রোগীকে চিকিৎসার জন্য আকৃষ্ট করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় পড়লে এ ধরনের প্রচারণায় প্রভাবিত হতে পারেন। এতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, টিউমার, মৃগী, পক্ষাঘাত, জন্ডিস ও বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যার কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজন রোগভেদে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ। এসব রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় না করে কেবল কথিত অলৌকিক বা অপ্রমাণিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করলে রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে দেরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ডিসের পেছনে বিভিন্ন ধরনের লিভার ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। একইভাবে টিউমার ও পক্ষাঘাতের ক্ষেত্রেও রোগের ধরন ও কারণ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রোগের কারণ শনাক্ত না করে এক পদ্ধতিতে সব ধরনের জটিল রোগ সারানোর দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোনো ব্যক্তি বৈধভাবে চিকিৎসা দেওয়ার যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে কি না এবং প্রচারিত রোগ নিরাময়ের দাবির সত্যতা কী—সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতারণার আশঙ্কা এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।