সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার
- Update Time : ০৭:৩৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- / ২১ Time View
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি::কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্টিকারযুক্ত একটি ল্যান্ড ক্রুজার জিপ থেকে ২৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর সাবেক ল্যান্স করপোরাল ওবায়দুল হাসান (৪১)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজারটি জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চেকপোস্ট বসানো হয়।
এ সময় সেনাবাহিনীর স্টিকার লাগানো একটি সন্দেহজনক ল্যান্ড ক্রুজার (ঢাকা মেট্রো-ঘ-২১-৩২২৩) থামার সংকেত উপেক্ষা করে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করে গাড়িটি আটক করে।
পরে তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির সিটের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ওবায়দুল হাসান বগুড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগুপাড়া এলাকার মৃত দেলোয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরে বসবাস করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি বৃহস্পতিবার সকালে গাড়িটি নিয়ে কক্সবাজারে এসেছিলেন এবং রাতে ঢাকার উদ্দেশে ফিরছিলেন। তবে গাড়িতে ইয়াবা কীভাবে এসেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন।
ওসি আরও বলেন, “সেনাবাহিনীর স্টিকারযুক্ত গাড়ি ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৫ জুলাই কক্সবাজারের রামুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেটকারে ইয়াবা পাচারের সময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ওই অভিযানে ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টিকার ব্যবহার করে মাদক পাচারের প্রবণতা উদ্বেগজনক। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।



















