Dhaka ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরাইলে মামলার সাক্ষী হওয়ায় ৭০ বছরের বৃদ্ধকে মারধর থানায় অভিযোগ

আব্দুর রাজ্জাক
  • Update Time : ০৩:৫৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৮৬ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি মামলার সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে পথরোধ করে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, মামলা বা আইনগত পদক্ষেপ নিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে সরাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী নান্নু মিয়া উপজেলার অরুয়াইল পশ্চিমপাড়া (মেম্বার বাড়ি) এলাকার বাসিন্দা। থানায় দেওয়া অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল প্রায় ৫টার দিকে অরুয়াইল বাজারের কলেজ গেটের উত্তর পাশের সড়কে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলার সাক্ষী হওয়ায় অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে নান্নু মিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর জেরে তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং সাক্ষ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন অরুয়াইল ইউনিয়নের ধামাউড়া গ্রামের তাজু মিয়া (৫৫), জাবেদ মিয়া (৬০) ও হারুন মিয়া (৪০)।

নান্নু মিয়ার অভিযোগ, ঘটনার দিন তিনি অরুয়াইল বাজারের কলেজ গেট এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার পথরোধ করেন। পরে তাকে ঘিরে ধরে মামলার সাক্ষী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত সরে যান। স্থানীয়রা পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, এ ঘটনায় মামলা বা অভিযোগ করলে সুযোগ বুঝে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে। এমন হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।

অভিযোগে শহীদুল ইসলাম (৫০), নূর ইসলাম (৬০), জয়ধন নেছা (৫৫) ও হারুন মিয়া (৪৫)-কে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার দুই দিন পর, ২০ সেপ্টেম্বর সরাইল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন নান্নু মিয়া। তিনি অভিযোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, বিচারপ্রক্রিয়ায় সাক্ষী হওয়া একজন নাগরিকের আইনগত দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ যদি হামলা, ভয়ভীতি বা প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েন, তবে তা বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সরাইলে মামলার সাক্ষী হওয়ায় ৭০ বছরের বৃদ্ধকে মারধর থানায় অভিযোগ

Update Time : ০৩:৫৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি মামলার সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে পথরোধ করে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, মামলা বা আইনগত পদক্ষেপ নিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে সরাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী নান্নু মিয়া উপজেলার অরুয়াইল পশ্চিমপাড়া (মেম্বার বাড়ি) এলাকার বাসিন্দা। থানায় দেওয়া অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল প্রায় ৫টার দিকে অরুয়াইল বাজারের কলেজ গেটের উত্তর পাশের সড়কে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলার সাক্ষী হওয়ায় অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে নান্নু মিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর জেরে তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং সাক্ষ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন অরুয়াইল ইউনিয়নের ধামাউড়া গ্রামের তাজু মিয়া (৫৫), জাবেদ মিয়া (৬০) ও হারুন মিয়া (৪০)।

নান্নু মিয়ার অভিযোগ, ঘটনার দিন তিনি অরুয়াইল বাজারের কলেজ গেট এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার পথরোধ করেন। পরে তাকে ঘিরে ধরে মামলার সাক্ষী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত সরে যান। স্থানীয়রা পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, এ ঘটনায় মামলা বা অভিযোগ করলে সুযোগ বুঝে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে। এমন হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।

অভিযোগে শহীদুল ইসলাম (৫০), নূর ইসলাম (৬০), জয়ধন নেছা (৫৫) ও হারুন মিয়া (৪৫)-কে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার দুই দিন পর, ২০ সেপ্টেম্বর সরাইল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন নান্নু মিয়া। তিনি অভিযোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, বিচারপ্রক্রিয়ায় সাক্ষী হওয়া একজন নাগরিকের আইনগত দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ যদি হামলা, ভয়ভীতি বা প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েন, তবে তা বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।