Dhaka ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, সমর্থন জানাল ককরোচ পার্টি

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজনীতিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ মঞ্চ ইন্ডিয়া জোটের পাশে দাঁড়িয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে এই দলটি। মূলত এই লক্ষ্যেই তারা বিরোধীদের ডাকা আসন্ন সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেছে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব। তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার যত্রতত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জনগণের সেই আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পুরো প্রক্রিয়াটির তীব্র সমালোচনা করেছে দলটি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমাবেশে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন এবং দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গণতন্ত্রের মূল কথাই হলো জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের সরকার নির্বাচন করবে, যেখানে সরকার নিজের পছন্দমতো ভোটার বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে না। এসআইআর কার্যক্রমের কারণে ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি। নাগরিকদের ভোটাধিকার সহজ করার বদলে এই প্রক্রিয়া তাদের বঞ্চিত করার উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সংবিধানের মূল আদর্শ ও ভারতের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের দূরদর্শিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সংবিধান প্রণেতা ড. বি আর আম্বেদকর এবং প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর প্রসঙ্গ টেনে তারা উল্লেখ করেছে, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। বর্তমান নির্বাচন কমিশন সেই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে দাবি করে কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা ফেরাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছে দলটি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, সমর্থন জানাল ককরোচ পার্টি

Update Time : ০১:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজনীতিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ মঞ্চ ইন্ডিয়া জোটের পাশে দাঁড়িয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে এই দলটি। মূলত এই লক্ষ্যেই তারা বিরোধীদের ডাকা আসন্ন সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেছে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব। তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার যত্রতত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জনগণের সেই আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পুরো প্রক্রিয়াটির তীব্র সমালোচনা করেছে দলটি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমাবেশে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন এবং দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গণতন্ত্রের মূল কথাই হলো জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের সরকার নির্বাচন করবে, যেখানে সরকার নিজের পছন্দমতো ভোটার বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে না। এসআইআর কার্যক্রমের কারণে ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি। নাগরিকদের ভোটাধিকার সহজ করার বদলে এই প্রক্রিয়া তাদের বঞ্চিত করার উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সংবিধানের মূল আদর্শ ও ভারতের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের দূরদর্শিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সংবিধান প্রণেতা ড. বি আর আম্বেদকর এবং প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর প্রসঙ্গ টেনে তারা উল্লেখ করেছে, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। বর্তমান নির্বাচন কমিশন সেই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে দাবি করে কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা ফেরাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছে দলটি।