Dhaka ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২৬৯ ভবনের মালিককে রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২ Time View

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর লেকগুলোকে দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার যথাযথ ব্যবস্থা না থাকা এক হাজার ২৬৯টি ভবনকে চূড়ান্ত নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জলাশয়ের পানির গুণগত মান রক্ষা করতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটির সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়।

পরিবেশ রক্ষা সংক্রান্ত ওই সভায় রাজধানীর লেকগুলোর বর্তমান দূষণ পরিস্থিতি এবং এর মূল উৎসগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে জলাশয়গুলোর পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। লেকগুলোর প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় আবাসিক এলাকাগুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় জানানো হয় যে চিহ্নিত ভবনগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংশ্লিষ্ট আবাসিক সোসাইটিগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুরের উপস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট কিছু সময়সীমা ও নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব ইমারতের মূল নকশায় সেপটিক ট্যাংক বা সোক ওয়েল নির্মাণের বিধান রয়েছে, সেগুলোর মালিকদের আগামী ১৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে অবশ্যই নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে। এছাড়া এসব কাঠামোর সঠিক নকশা অনুমোদনের জন্য রাজউকের নিকট আবেদন করতে হবে এবং কর্তৃপক্ষ তা তিন কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা অমান্যকারী ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইন এবং ২০২৫ সালের ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কার্যকর করা হবে। সভায় রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতন সোসাইটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

১২৬৯ ভবনের মালিককে রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা

Update Time : ০১:৩০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর লেকগুলোকে দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার যথাযথ ব্যবস্থা না থাকা এক হাজার ২৬৯টি ভবনকে চূড়ান্ত নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জলাশয়ের পানির গুণগত মান রক্ষা করতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটির সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়।

পরিবেশ রক্ষা সংক্রান্ত ওই সভায় রাজধানীর লেকগুলোর বর্তমান দূষণ পরিস্থিতি এবং এর মূল উৎসগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে জলাশয়গুলোর পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। লেকগুলোর প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় আবাসিক এলাকাগুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় জানানো হয় যে চিহ্নিত ভবনগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংশ্লিষ্ট আবাসিক সোসাইটিগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুরের উপস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট কিছু সময়সীমা ও নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব ইমারতের মূল নকশায় সেপটিক ট্যাংক বা সোক ওয়েল নির্মাণের বিধান রয়েছে, সেগুলোর মালিকদের আগামী ১৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে অবশ্যই নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে। এছাড়া এসব কাঠামোর সঠিক নকশা অনুমোদনের জন্য রাজউকের নিকট আবেদন করতে হবে এবং কর্তৃপক্ষ তা তিন কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা অমান্যকারী ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইন এবং ২০২৫ সালের ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কার্যকর করা হবে। সভায় রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতন সোসাইটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করেন।