Dhaka ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রকৌশলীর কারসাজিতে যুবলীগ নেতার প্রতিষ্ঠানকে দেড়শ কোটি টাকার কাজ

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৬:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৯ Time View

অপরাধ ডেস্ক: লক্ষ্মীপুর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক প্রশস্তকরণের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার বড় প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুবলীগের এক নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিকভাবে এককভাবে কাজ পাইয়ে দেওয়ার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। রামগতি ও কমলনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক উন্নয়নের দরপত্র প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মূলত সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের মালিক মোহাম্মদ আবদুল হাই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও কারাবন্দী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলার আসামি এই যুবলীগ নেতা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের চোখের আড়ালে থেকে এবং নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে তিনি এই বিশাল অঙ্কের সরকারি কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী যৌথ উদ্যোগের এই প্রকল্পে প্রধান অংশীদারের সঙ্গে সব কার্যক্রম সমন্বয়ের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি।

প্রকল্পের কাজের জন্য যৌথভাবে দরপত্র জমা দিলেও পরবর্তীতে মূল অংশীদার রিমি নির্মাণ লিমিটেডের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা। এমনকি সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনো সাড়া দেননি এবং কার্যাদেশ গ্রহণের নির্ধারিত সময়েও অনুপস্থিত ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে যৌথ চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন হওয়ায় রিমি নির্মাণ লিমিটেডের পক্ষ থেকে চুক্তি বাতিলের আবেদন করা হয় এবং এককভাবে ওই প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু সব নিয়মকানুন উপেক্ষা করে জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম রহস্যজনক কারণে ওই নেতার পক্ষেই অবস্থান নেন।

এ বিষয়ে রিমি নির্মাণ লিমিটেডের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও কীভাবে একজন পলাতক ও কারাবন্দী আসামির সঙ্গে গোপনে স্ট্যাম্প চুক্তি করে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে তা এক বড় প্রশ্ন। মেগা প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এই ধরনের গোপনীয়তা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ভয়ংকর এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এদিকে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ঠিকাদার মোহাম্মদ আবদুল হাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে দাবি করেছেন যে, পারস্পরিক চুক্তির নিয়ম মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

প্রকৌশলীর কারসাজিতে যুবলীগ নেতার প্রতিষ্ঠানকে দেড়শ কোটি টাকার কাজ

Update Time : ০৩:৪৬:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: লক্ষ্মীপুর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক প্রশস্তকরণের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার বড় প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুবলীগের এক নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিকভাবে এককভাবে কাজ পাইয়ে দেওয়ার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। রামগতি ও কমলনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক উন্নয়নের দরপত্র প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মূলত সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের মালিক মোহাম্মদ আবদুল হাই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও কারাবন্দী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলার আসামি এই যুবলীগ নেতা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের চোখের আড়ালে থেকে এবং নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে তিনি এই বিশাল অঙ্কের সরকারি কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী যৌথ উদ্যোগের এই প্রকল্পে প্রধান অংশীদারের সঙ্গে সব কার্যক্রম সমন্বয়ের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি।

প্রকল্পের কাজের জন্য যৌথভাবে দরপত্র জমা দিলেও পরবর্তীতে মূল অংশীদার রিমি নির্মাণ লিমিটেডের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা। এমনকি সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনো সাড়া দেননি এবং কার্যাদেশ গ্রহণের নির্ধারিত সময়েও অনুপস্থিত ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে যৌথ চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন হওয়ায় রিমি নির্মাণ লিমিটেডের পক্ষ থেকে চুক্তি বাতিলের আবেদন করা হয় এবং এককভাবে ওই প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু সব নিয়মকানুন উপেক্ষা করে জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম রহস্যজনক কারণে ওই নেতার পক্ষেই অবস্থান নেন।

এ বিষয়ে রিমি নির্মাণ লিমিটেডের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও কীভাবে একজন পলাতক ও কারাবন্দী আসামির সঙ্গে গোপনে স্ট্যাম্প চুক্তি করে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে তা এক বড় প্রশ্ন। মেগা প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এই ধরনের গোপনীয়তা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ভয়ংকর এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এদিকে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ঠিকাদার মোহাম্মদ আবদুল হাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে দাবি করেছেন যে, পারস্পরিক চুক্তির নিয়ম মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।