Dhaka ০৬:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজারে এত ছেঁড়া নোট কেন?

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩০:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১ Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের আর্থিক লেনদেনের বাজারে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে ছেঁড়া, ফাটা এবং অত্যন্ত মলিন নোটের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিত্যদিনের কেনাকাটা থেকে শুরু করে ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লেনদেন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ এই সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে খুচরা বাজারে ছোট অঙ্কের কাগজের নোটগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি শোচনীয়। দোকানদার ও ক্রেতা উভয় পক্ষই এই পুরোনো নোট নিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং অনেক সময় এই কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বনিবনা ও কথা কাটাকাটিও তৈরি হচ্ছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শাখা এবং এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার পরও অনেক সময় গ্রাহকদের হাতে এই ধরনের জীর্ণশীর্ণ নোট চলে আসে। সাধারণ নিয়মানুযায়ী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে নষ্ট বা ব্যবহারের অযোগ্য নোট বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে নতুন নোট সংগ্রহ করার কথা রয়েছে। তবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের কারও কারও অনীহা এবং সঠিক সময়ে নোট বদলের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাজারে এই সমস্যা দিন দিন আরও জটিল আকার ধারণ করছে। ফলে সাধারণ মানুষ নিজেদের প্রয়োজনেই এই নোটগুলো পুনরায় বাজারে চালিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

নোটের এই করুণ দশার পেছনে জনসাধারণের অসচেতনতাও একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। অনেকেই টাকা ভাঁজ করার সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে টেপ লাগান, অতিরিক্ত রাবার ব্যান্ড ব্যবহার করেন কিংবা টাকা পকেটে রাখার সময় অসাবধানতা অবলম্বন করেন। এর ফলে কাগজগুলো খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে ছিঁড়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কাগজের নোটের স্থায়িত্ব বাড়াতে এবং মুদ্রাবাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

বাজারের এই সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে যৌথভাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ব্যাংক কাউন্টারে যেকোনো অবস্থাতেই যেন ছেঁড়া বা ময়লা নোট গ্রাহকদের দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে থাকা সব ধরনের অনুপযোগী নোট দ্রুত প্রত্যাহার করে নতুন নোটের জোগান নিশ্চিত করা হলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি অনেকাংশেই লাঘব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বাজারে এত ছেঁড়া নোট কেন?

Update Time : ০৫:৩০:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের আর্থিক লেনদেনের বাজারে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে ছেঁড়া, ফাটা এবং অত্যন্ত মলিন নোটের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিত্যদিনের কেনাকাটা থেকে শুরু করে ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লেনদেন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ এই সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে খুচরা বাজারে ছোট অঙ্কের কাগজের নোটগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি শোচনীয়। দোকানদার ও ক্রেতা উভয় পক্ষই এই পুরোনো নোট নিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং অনেক সময় এই কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বনিবনা ও কথা কাটাকাটিও তৈরি হচ্ছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শাখা এবং এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার পরও অনেক সময় গ্রাহকদের হাতে এই ধরনের জীর্ণশীর্ণ নোট চলে আসে। সাধারণ নিয়মানুযায়ী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে নষ্ট বা ব্যবহারের অযোগ্য নোট বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে নতুন নোট সংগ্রহ করার কথা রয়েছে। তবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের কারও কারও অনীহা এবং সঠিক সময়ে নোট বদলের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাজারে এই সমস্যা দিন দিন আরও জটিল আকার ধারণ করছে। ফলে সাধারণ মানুষ নিজেদের প্রয়োজনেই এই নোটগুলো পুনরায় বাজারে চালিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

নোটের এই করুণ দশার পেছনে জনসাধারণের অসচেতনতাও একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। অনেকেই টাকা ভাঁজ করার সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে টেপ লাগান, অতিরিক্ত রাবার ব্যান্ড ব্যবহার করেন কিংবা টাকা পকেটে রাখার সময় অসাবধানতা অবলম্বন করেন। এর ফলে কাগজগুলো খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে ছিঁড়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কাগজের নোটের স্থায়িত্ব বাড়াতে এবং মুদ্রাবাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

বাজারের এই সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে যৌথভাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ব্যাংক কাউন্টারে যেকোনো অবস্থাতেই যেন ছেঁড়া বা ময়লা নোট গ্রাহকদের দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে থাকা সব ধরনের অনুপযোগী নোট দ্রুত প্রত্যাহার করে নতুন নোটের জোগান নিশ্চিত করা হলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি অনেকাংশেই লাঘব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।