Dhaka ০৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলা কিউআর কী? ব্যবহারে কী সুবিধা?

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৫ Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে সম্প্রতি চালু হয়েছে সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি বাংলা কিউআর কোড। গত ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবা চালু হওয়ার পর থেকেই গ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো ব্যাংকিং বা আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজেই যেকোনো মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট করা সম্ভব হচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে খুচরা কেনাকাটায় নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা ক্রমান্বয়ে কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলা কিউআর কোড চালুর ফলে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়েই নানা ধরনের সুবিধা ভোগ করছেন। এতদিন বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কিউআর কোড ব্যবহার করতে হতো, যা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বেশ ঝামেলার ছিল। এখন থেকে একজন বিক্রেতা কেবল একটি মাত্র বাংলা কিউআর কোড প্রদর্শনের মাধ্যমেই সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে আলাদা আলাদা পিওএস মেশিন বা একাধিক কোড প্রদর্শনের ঝামেলা থেকে ব্যবসায়ীরা মুক্তি পেয়েছেন।

গ্রাহকদের জন্য এই প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী করা হয়েছে। নিজের স্মার্টফোনে যেকোনো ব্যাংক বা আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মোবাইল অ্যাপ ওপেন করে দোকানদারের কিউআর কোড স্ক্যান করলেই মুহূর্তের মধ্যে টাকা পরিশোধ করা যায়। এতে করে খুচরা ভাঙতি টাকার সমস্যা কিংবা অতিরিক্ত নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে গেছে। পাশাপাশি, ডিজিটাল লেনদেন হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং স্বচ্ছ থাকছে, যা আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর যৌথ উদ্যোগে এই সর্বজনীন পেমেন্ট ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দেশের আর্থিক খাতকে পুরোপুরি ক্যাশলেস বা নগদ অর্থহীন সমাজ হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি প্রান্তের ছোট-বড় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এই বাংলা কিউআর কোড ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটা ও লেনদেন আরও বেশি আধুনিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বাংলা কিউআর কী? ব্যবহারে কী সুবিধা?

Update Time : ০৩:১৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে সম্প্রতি চালু হয়েছে সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি বাংলা কিউআর কোড। গত ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবা চালু হওয়ার পর থেকেই গ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো ব্যাংকিং বা আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজেই যেকোনো মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট করা সম্ভব হচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে খুচরা কেনাকাটায় নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা ক্রমান্বয়ে কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলা কিউআর কোড চালুর ফলে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়েই নানা ধরনের সুবিধা ভোগ করছেন। এতদিন বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কিউআর কোড ব্যবহার করতে হতো, যা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বেশ ঝামেলার ছিল। এখন থেকে একজন বিক্রেতা কেবল একটি মাত্র বাংলা কিউআর কোড প্রদর্শনের মাধ্যমেই সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে আলাদা আলাদা পিওএস মেশিন বা একাধিক কোড প্রদর্শনের ঝামেলা থেকে ব্যবসায়ীরা মুক্তি পেয়েছেন।

গ্রাহকদের জন্য এই প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী করা হয়েছে। নিজের স্মার্টফোনে যেকোনো ব্যাংক বা আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মোবাইল অ্যাপ ওপেন করে দোকানদারের কিউআর কোড স্ক্যান করলেই মুহূর্তের মধ্যে টাকা পরিশোধ করা যায়। এতে করে খুচরা ভাঙতি টাকার সমস্যা কিংবা অতিরিক্ত নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে গেছে। পাশাপাশি, ডিজিটাল লেনদেন হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং স্বচ্ছ থাকছে, যা আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর যৌথ উদ্যোগে এই সর্বজনীন পেমেন্ট ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দেশের আর্থিক খাতকে পুরোপুরি ক্যাশলেস বা নগদ অর্থহীন সমাজ হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি প্রান্তের ছোট-বড় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এই বাংলা কিউআর কোড ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটা ও লেনদেন আরও বেশি আধুনিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।