Dhaka ০৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘোড়ার পিঠে স্বপ্নের সংসার, মেলা মাতাচ্ছেন বিরলের নুরুল ইসলাম

মোয়াজ্জেম সরকার রুবেল
  • Update Time : ০৯:১৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • / ৫৬ Time View

দিনাজপুর প্রতিনিধি::দিনাজপুরের বিরল উপজেলা উপজেলার কালিয়াগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মোঃ নুরুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছেন এক ব্যতিক্রমী পেশা। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে নিজের প্রিয় ঘোড়াটিকে সঙ্গী করে দেশের বিভিন্ন মেলা, গ্রামীণ উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। ঘোড়ার পিঠে শিশু-কিশোর ও দর্শনার্থীদের চড়িয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলছে তার পাঁচ সদস্যের সংসার।

নুরুল ইসলাম জানান, তার ঘোড়াটির বয়স বর্তমানে প্রায় ১৮ বছর। এই ঘোড়াটিই যেন তার পরিবারের প্রধান উপার্জনের মাধ্যম। প্রতিদিন কিংবা বিশেষ উৎসবের মৌসুমে তিনি ঘোড়া নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় যান। বিশেষ করে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা, ঈদ আনন্দমেলা, নববর্ষ উদযাপন কিংবা স্থানীয় উৎসবগুলোতে তার ঘোড়ার বেশ কদর রয়েছে।
তিনি বলেন, “অনেক শিশু ও তরুণ ঘোড়ার পিঠে চড়তে পছন্দ করে। জনপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকার বিনিময়ে আমি তাদের ঘোড়ায় চড়ার সুযোগ দিই। এতে যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চলে।”

তার সংসারে রয়েছেন স্ত্রী, দুই মেয়ে সহ মোট পাঁচজন সদস্য। পরিবারের সব খরচ—খাদ্য, চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা—সবকিছুই নির্ভর করছে এই আয়ের ওপর। অর্থনৈতিকভাবে খুব বেশি স্বচ্ছল না হলেও নিজের পরিশ্রম আর ঘোড়ার প্রতি ভালোবাসা দিয়েই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, নুরুল ইসলাম একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। মেলায় তার ঘোড়া দেখলেই শিশুদের মাঝে আনন্দের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেকেই স্মৃতির অংশ হিসেবে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছবি তুলতেও আগ্রহ দেখান।

গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যের একটি অংশ হয়ে উঠেছে নুরুল ইসলামের এই ঘোড়া। আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে এখনও তিনি ধরে রেখেছেন গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য রূপ। জীবিকার পাশাপাশি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই যেন তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঘোড়ার পিঠে স্বপ্নের সংসার, মেলা মাতাচ্ছেন বিরলের নুরুল ইসলাম

Update Time : ০৯:১৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

দিনাজপুর প্রতিনিধি::দিনাজপুরের বিরল উপজেলা উপজেলার কালিয়াগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মোঃ নুরুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছেন এক ব্যতিক্রমী পেশা। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে নিজের প্রিয় ঘোড়াটিকে সঙ্গী করে দেশের বিভিন্ন মেলা, গ্রামীণ উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। ঘোড়ার পিঠে শিশু-কিশোর ও দর্শনার্থীদের চড়িয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলছে তার পাঁচ সদস্যের সংসার।

নুরুল ইসলাম জানান, তার ঘোড়াটির বয়স বর্তমানে প্রায় ১৮ বছর। এই ঘোড়াটিই যেন তার পরিবারের প্রধান উপার্জনের মাধ্যম। প্রতিদিন কিংবা বিশেষ উৎসবের মৌসুমে তিনি ঘোড়া নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় যান। বিশেষ করে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা, ঈদ আনন্দমেলা, নববর্ষ উদযাপন কিংবা স্থানীয় উৎসবগুলোতে তার ঘোড়ার বেশ কদর রয়েছে।
তিনি বলেন, “অনেক শিশু ও তরুণ ঘোড়ার পিঠে চড়তে পছন্দ করে। জনপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকার বিনিময়ে আমি তাদের ঘোড়ায় চড়ার সুযোগ দিই। এতে যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চলে।”

তার সংসারে রয়েছেন স্ত্রী, দুই মেয়ে সহ মোট পাঁচজন সদস্য। পরিবারের সব খরচ—খাদ্য, চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা—সবকিছুই নির্ভর করছে এই আয়ের ওপর। অর্থনৈতিকভাবে খুব বেশি স্বচ্ছল না হলেও নিজের পরিশ্রম আর ঘোড়ার প্রতি ভালোবাসা দিয়েই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, নুরুল ইসলাম একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। মেলায় তার ঘোড়া দেখলেই শিশুদের মাঝে আনন্দের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেকেই স্মৃতির অংশ হিসেবে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছবি তুলতেও আগ্রহ দেখান।

গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যের একটি অংশ হয়ে উঠেছে নুরুল ইসলামের এই ঘোড়া। আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে এখনও তিনি ধরে রেখেছেন গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য রূপ। জীবিকার পাশাপাশি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই যেন তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।