Dhaka ০৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খোকা ছিলেন রাজপথের খাঁটি যোদ্ধা: মির্জা আব্বাস

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২ Time View

রাজনীতি ডেস্ক: অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস তাকে রাজপথের একজন খাঁটি যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থেকে প্রয়াত নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতিচারণ করে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংকটে এবং দলের দুর্দিনে এই নেতার অবদান দেশের রাজনীতিতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রয়াত নেতার সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মির্জা আব্বাস জানান যে তাদের শৈশব, কৈশব ও রাজনৈতিক জীবন একই এলাকার পরিমণ্ডলে কেটেছে। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তারা একে অপরের সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। মাঝে মাঝে রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা ভুল বোঝাবুঝি হলেও দিনশেষে তারা সবসময় বিএনপির আদর্শ ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সাদেক হোসেন খোকা অত্যন্ত সহজ-সরল ও বড় মনের মানুষ ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, খোকার আন্তরিকতা ও ব্যক্তিত্ব মানুষকে সহজে আকর্ষণ করত এবং তার অনুপস্থিতি আজ দলের নেতাকর্মীদের গভীরভাবে অনুভূত হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোয়া আবদুস সালাম বলেন, খোকা ও মির্জা আব্বাসের যুগপৎ নেতৃত্বে ঢাকা মহানগরীতে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বলেন, সাদেক হোসেন খোকা শুধু রাজধানীর নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির একজন প্রবীণ ও অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন যিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র ধরেছিলেন। তার জানাজায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে যে তিনি কতটা জনপ্রিয় ও জনবান্ধব নেতা ছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান যে হুমকি-ধমকি দিয়ে বিএনপিকে দুর্বল করা যাবে না কারণ দলটির পেছনে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ রয়েছে।

প্রয়াত নেতার পুত্র ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন স্মরণসভায় বলেন, তার পিতা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি অনুগত ছিলেন এবং দলের আদর্শের সঙ্গে কখনোই আপস করেননি। তিনি অভিযোগ করেন যে একটি কুচক্রী মহল শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করে নির্বাচিত সরকারকে ব্যর্থ করার গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তবে অতীতের মতো বর্তমান সময়েও সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে নেতাকর্মীদের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশবাসীর কাছে প্রয়াত নেতার রুহের মাগফিরাত এবং তার পরিবারের জন্য দোয়া প্রার্থনা করা হয় এই মাহফিল থেকে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

খোকা ছিলেন রাজপথের খাঁটি যোদ্ধা: মির্জা আব্বাস

Update Time : ০৮:৩১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস তাকে রাজপথের একজন খাঁটি যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থেকে প্রয়াত নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতিচারণ করে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংকটে এবং দলের দুর্দিনে এই নেতার অবদান দেশের রাজনীতিতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রয়াত নেতার সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মির্জা আব্বাস জানান যে তাদের শৈশব, কৈশব ও রাজনৈতিক জীবন একই এলাকার পরিমণ্ডলে কেটেছে। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তারা একে অপরের সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। মাঝে মাঝে রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা ভুল বোঝাবুঝি হলেও দিনশেষে তারা সবসময় বিএনপির আদর্শ ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সাদেক হোসেন খোকা অত্যন্ত সহজ-সরল ও বড় মনের মানুষ ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, খোকার আন্তরিকতা ও ব্যক্তিত্ব মানুষকে সহজে আকর্ষণ করত এবং তার অনুপস্থিতি আজ দলের নেতাকর্মীদের গভীরভাবে অনুভূত হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোয়া আবদুস সালাম বলেন, খোকা ও মির্জা আব্বাসের যুগপৎ নেতৃত্বে ঢাকা মহানগরীতে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বলেন, সাদেক হোসেন খোকা শুধু রাজধানীর নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির একজন প্রবীণ ও অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন যিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র ধরেছিলেন। তার জানাজায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে যে তিনি কতটা জনপ্রিয় ও জনবান্ধব নেতা ছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান যে হুমকি-ধমকি দিয়ে বিএনপিকে দুর্বল করা যাবে না কারণ দলটির পেছনে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ রয়েছে।

প্রয়াত নেতার পুত্র ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন স্মরণসভায় বলেন, তার পিতা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি অনুগত ছিলেন এবং দলের আদর্শের সঙ্গে কখনোই আপস করেননি। তিনি অভিযোগ করেন যে একটি কুচক্রী মহল শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করে নির্বাচিত সরকারকে ব্যর্থ করার গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তবে অতীতের মতো বর্তমান সময়েও সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে নেতাকর্মীদের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশবাসীর কাছে প্রয়াত নেতার রুহের মাগফিরাত এবং তার পরিবারের জন্য দোয়া প্রার্থনা করা হয় এই মাহফিল থেকে।