কালিগঞ্জে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ৩ কিশোর গ্রেফতার
- Update Time : ০৭:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৬৭ Time View
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ ব্যুরো:: কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামে ভূমিহীন পল্লীতে এক শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের পথকুলি ভূমিহীন পল্লীতে।
স্থানীয় সূত্র জানায় খাবারের লোভ দেখিয়ে নির্জন বাড়িতে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে হাত-মুখ চেপে ধরে ৩ কিশোর মিলে ৫ বছরের ১ শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পার্শ্ববর্তী মতির ইটভাঁটা থেকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের সোপর্দ করে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ২ টার দিকে উক্ত ঘটনার পরে ভুক্তভোগীর বাবা (ছদ্মনাম) রানা রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুকন্যাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে ডাক্তাররা অপারগতা প্রকাশ করলে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও ডাক্তাররা অপারগতা প্রকাশ করলে শেষে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত কিশোর সদস্যরা হলো ঐ এলাকার পিরোজপুর গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে (১৪), তার ভাই (১২) এবং একই গ্রামের আবু সাঈদের পুত্র (১৫)। ১২সেপ্টেম্বর শুক্রবার ভুক্তভোগী শিশুটির মা বিউটি বেগম বাদী হয়ে কালিগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছে। এর আগে মানব সম্পদ এনজিও অফিসের পিয়ন পানিয়া গ্রামের (ছদ্মনাম) রানা ও তার পরিবারকে মামলা না করার জন্য শিশুটির পিতা (ছদ্মনাম) রানাকে হুমকি দিয়ে চলে যায়।
শুক্রবার সকালে সরে জমিনে ঘটনাস্থলে গেলে শিশুটির মামী মৌসুমী খাতুন ,ভাই আবির হোসেন, প্রতিবেশী মোহাম্মদ আলী, রামপ্রসাদ, তৌফিক এলাহী, মহিউদ্দিন, আজম
আজমির হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান বৃহস্পতিবার বাড়ির পাশে রাস্তার উপর শিশুটি খেলা করছিল। ঐ সময় তার মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে ফাঁকা বাসায় এ ঘটনা ঘটায় ৩ কিশোর। শিশুটির খাওয়ার দেওয়ার জন্য ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। ঘরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে খাটের উপর ফেলে ৩ জনে মিলে জোরপূর্বক পালাক্রমে শিশুটিকে ধর্ষণ করে।
মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে বাবা (ছদ্মনাম) রানা ঐ ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গোঙানির শব্দে ঘরে ঢুকলে তাকে লাথি দিয়ে ৩ ধর্ষক পিছনে দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বিকাল ৫ টার দিকে পার্শবর্তী মতির ইটভাঁটা থেকে জনগণ ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন কুমার সরকার ও কালিগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান।এ সময় সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান ,পুলিশ দ্রুত সময় কিশোরদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে ।
তাদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এবং ভুক্তভোগী শিশুটি র চিকিৎসার সার্বিক সহযোগিতা করবেন। এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ও সার্বিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।তিনি আরো বলেন কালীগঞ্জ সাতক্ষীরার আইন শৃঙ্খলা যেন কোন দিক থেকে অবনতি না হয় সেদিক থেকে জেলা পুলিশ ও কালীগঞ্জে পুলিশ তৎপর আছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে।
এই জনপদকে অশান্ত হতে দেওয়া যাবে না।এজন্য সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবস্থায় আছি।
ছবিঃ কালীগঞ্জের পিরোজপুরে পথকলি ভূমিহীন পল্লীতে শিশু ধর্ষণ ঘটনা পরিদর্শন করতে আসলেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম।
















