Dhaka ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এ বছরই চালু হচ্ছে পাঁচটি শিশু হাসপাতাল: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪ Time View

স্বাস্থ্য ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ শেষ হয়ে পড়ে থাকা দেশের পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে। গত অক্টোবর মাসের শেষ দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি উল্লেখ করেন যে, নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় বসে একযোগে এই পাঁচটি আধুনিক হাসপাতালের শুভউদ্বোধন করবেন। দুইশ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালগুলো চালুর ফলে দেশের শিশু স্বাস্থ্যসেবায় একটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো চালু হওয়ায় প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ বড় উপকৃত হবে।

বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও জানান যে, এই হাসপাতালগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য নতুন পদ সৃজন প্রক্রিয়া এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সংগ্রহের কাজও প্রায় শেষের পথে রয়েছে। বিগত দিনে বিভিন্ন জটিলতার কারণে হাসপাতালগুলো চালু করা সম্ভব না হলেও বর্তমান প্রশাসন স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরা এখন জেলা পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবে, যা রাজধানীতে রোগীদের অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

পরিদর্শনকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের চিত্র তুলে ধরে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বিগত সরকারের আমলে কেবল শয্যাসংখ্যা কাগজে-কলমে বাড়ানো হলেও সেই অনুপատ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বা জনবল বাড়ানো হয়নি। মূলত জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার জন্যই তৎকালীন সময়ে শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যা বাস্তবে কোনো সুফল বয়ে আনেনি। বর্তমান প্রশাসন এই হাসপাতালটিকে প্রকৃত অর্থে বারোশ সাধারণ শয্যা এবং একশ আইসিইউ শয্যার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় এই হাসপাতালের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।

রাজশাহীর স্থানীয় স্বাস্থ্য সমস্যা ও অন্যান্য অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি জানান, পদ্মা নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলে সাপের প্রাদুর্ভাব বেশি থাকায় অনেক রোগী আসেন, যাদের জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ভবনে লিফট স্থাপনে অনিয়মের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম জানান যে, ত্রুটিপূর্ণ লিফট সরবরাহের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পরিদর্শনকালে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

এ বছরই চালু হচ্ছে পাঁচটি শিশু হাসপাতাল: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

Update Time : ০৪:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ শেষ হয়ে পড়ে থাকা দেশের পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে। গত অক্টোবর মাসের শেষ দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি উল্লেখ করেন যে, নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় বসে একযোগে এই পাঁচটি আধুনিক হাসপাতালের শুভউদ্বোধন করবেন। দুইশ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালগুলো চালুর ফলে দেশের শিশু স্বাস্থ্যসেবায় একটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো চালু হওয়ায় প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ বড় উপকৃত হবে।

বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও জানান যে, এই হাসপাতালগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য নতুন পদ সৃজন প্রক্রিয়া এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সংগ্রহের কাজও প্রায় শেষের পথে রয়েছে। বিগত দিনে বিভিন্ন জটিলতার কারণে হাসপাতালগুলো চালু করা সম্ভব না হলেও বর্তমান প্রশাসন স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরা এখন জেলা পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবে, যা রাজধানীতে রোগীদের অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

পরিদর্শনকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের চিত্র তুলে ধরে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বিগত সরকারের আমলে কেবল শয্যাসংখ্যা কাগজে-কলমে বাড়ানো হলেও সেই অনুপատ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বা জনবল বাড়ানো হয়নি। মূলত জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার জন্যই তৎকালীন সময়ে শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যা বাস্তবে কোনো সুফল বয়ে আনেনি। বর্তমান প্রশাসন এই হাসপাতালটিকে প্রকৃত অর্থে বারোশ সাধারণ শয্যা এবং একশ আইসিইউ শয্যার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় এই হাসপাতালের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।

রাজশাহীর স্থানীয় স্বাস্থ্য সমস্যা ও অন্যান্য অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি জানান, পদ্মা নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলে সাপের প্রাদুর্ভাব বেশি থাকায় অনেক রোগী আসেন, যাদের জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ভবনে লিফট স্থাপনে অনিয়মের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম জানান যে, ত্রুটিপূর্ণ লিফট সরবরাহের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পরিদর্শনকালে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা উপস্থিত ছিলেন।