Dhaka ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের দুর্গে নতুন সমীকরণ

জহুরুল ইসলাম চয়ন
  • Update Time : ০৩:৫৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১২২ Time View

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন ও ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক সমীকরণ। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি বা ‘দুর্গ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, গত প্রায় ৪৬ বছর ধরে এই আসন আওয়ামী লীগের দখলেই ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী না থাকায় ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে ভিন্ন বাস্তবতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় নেতৃত্বের বিভাজন ও ভোটারদের বাস্তব বিবেচনায় আওয়ামী লীগপন্থী ভোটের একটি বড় অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকে ঝুঁকছে। ফলে এই আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত ও দীর্ঘদিন সক্রিয় মুখ। সাম্প্রতিক সময়ে তার জনসভা ও পথসভায় জনসমাগম চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত সভাগুলোতে আওয়ামী লীগ ঘরানার নেতাকর্মীদের উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক ভোটার বলছেন, দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় তারা স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকে সমর্থন দিতে আগ্রহী।

স্থানীয় রাজনীতিবিদদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের ভোট ঐতিহ্যগতভাবে বড় ভূমিকা রেখে আসছে। ৪৬ বছরের রাজনৈতিক প্রভাব ও সংগঠিত ভোটব্যাংক এখনো এখানে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এবার সেই ভোট যদি একদিকে বেশি কেন্দ্রীভূত হয়, তবে সেটিই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগপন্থী ভোটারদের একাংশের সেতুবন্ধন তাকে ভোটের মাঠে এগিয়ে রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী নুরুল হক নুরও প্রচারণায় সক্রিয়। তবে ভোট বিভাজনের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি আবু বক্কর সিদ্দিক ধর্মপ্রাণ ভোটারদের সংগঠিত সমর্থনের কথা বলছেন এবং তাদের দাবি অনুযায়ী প্রায় ৩০ হাজার ভোটব্যাংক রয়েছে। এই ভোটও শেষ মুহূর্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এ আসনে সংখ্যালঘু ভোটারদের অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা সাধারণত নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দিয়ে থাকেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগপন্থী ভোটের পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটের একটি অংশ যে প্রার্থীর দিকে যাবে, তার জয় সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়বে।

সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচনী লড়াই এখন বহুমাত্রিক ও অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ভোট কোন দিকে বেশি যাবে, সেটিই নির্ধারণ করবে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভাগ্য।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

আওয়ামী লীগের দুর্গে নতুন সমীকরণ

Update Time : ০৩:৫৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন ও ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক সমীকরণ। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি বা ‘দুর্গ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, গত প্রায় ৪৬ বছর ধরে এই আসন আওয়ামী লীগের দখলেই ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী না থাকায় ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে ভিন্ন বাস্তবতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় নেতৃত্বের বিভাজন ও ভোটারদের বাস্তব বিবেচনায় আওয়ামী লীগপন্থী ভোটের একটি বড় অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকে ঝুঁকছে। ফলে এই আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত ও দীর্ঘদিন সক্রিয় মুখ। সাম্প্রতিক সময়ে তার জনসভা ও পথসভায় জনসমাগম চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত সভাগুলোতে আওয়ামী লীগ ঘরানার নেতাকর্মীদের উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক ভোটার বলছেন, দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় তারা স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকে সমর্থন দিতে আগ্রহী।

স্থানীয় রাজনীতিবিদদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের ভোট ঐতিহ্যগতভাবে বড় ভূমিকা রেখে আসছে। ৪৬ বছরের রাজনৈতিক প্রভাব ও সংগঠিত ভোটব্যাংক এখনো এখানে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এবার সেই ভোট যদি একদিকে বেশি কেন্দ্রীভূত হয়, তবে সেটিই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগপন্থী ভোটারদের একাংশের সেতুবন্ধন তাকে ভোটের মাঠে এগিয়ে রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী নুরুল হক নুরও প্রচারণায় সক্রিয়। তবে ভোট বিভাজনের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি আবু বক্কর সিদ্দিক ধর্মপ্রাণ ভোটারদের সংগঠিত সমর্থনের কথা বলছেন এবং তাদের দাবি অনুযায়ী প্রায় ৩০ হাজার ভোটব্যাংক রয়েছে। এই ভোটও শেষ মুহূর্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এ আসনে সংখ্যালঘু ভোটারদের অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা সাধারণত নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দিয়ে থাকেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগপন্থী ভোটের পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটের একটি অংশ যে প্রার্থীর দিকে যাবে, তার জয় সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়বে।

সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচনী লড়াই এখন বহুমাত্রিক ও অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ভোট কোন দিকে বেশি যাবে, সেটিই নির্ধারণ করবে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভাগ্য।