Dhaka ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনুপ্রবেশকারীদের শেল্টার দিচ্ছে মমতার সরকার

সেলিম শেখ
  • Update Time : ০৭:০৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৬ Time View

মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি::অনুপ্রবেশকারীদের শেল্টার দিচ্ছে মমতার সরকার, ২০২৬-এ ক্ষমতায় আসছে বিজেপি’: কলকাতায় তোপ অমিত শাহের
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছরের শেষ লগ্নে সল্টলেকের আলতেয়ার (Altair) হোটেলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ এবং নারী সুরক্ষা— এই তিন ইস্যুকে সামনে রেখে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ার হুঙ্কার দিলেন তিনি।

অনুপ্রবেশ রুখতে ব্যর্থ রাজ্য, নিশানায় মমতা
অমিত শাহ এদিন সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বাংলার জনবিন্যাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তিনি বলেন, “আসাম, ত্রিপুরা, কাশ্মীর বা রাজস্থানে অনুপ্রবেশ বন্ধ হলেও বাংলায় কেন হচ্ছে না? কারণ এখানে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। বিএসএফ-কে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমিও দিচ্ছে না রাজ্য।” তিনি সাফ জানান, ২০২৬-এর নির্বাচন হবে বাংলার সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশকারী রোখার নির্বাচন।

দুর্নীতির আখড়া এবং ‘ভাইপো’ শাসন
রাজ্যের বর্তমান অবস্থাকে ‘লোকতন্ত্রের লজ্জা’ বলে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় এখন দুর্নীতি, ভয় ও কুশাসনের সরকার চলছে। এখানে টাকা উপার্জনের অধিকার শুধু একজনেরই আছে— ভাইপোর।” পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক থেকে শুরু করে ফিরহাদ হাকিম— একের পর এক নেতার জেল হেফাজত ও বিপুল টাকা উদ্ধারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তোপ দাগেন যে, এই সরকার আগাগোড়া দুর্নীতিগ্রস্ত।

শিল্প ও উন্নয়ন স্তব্ধ
বাংলার শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে শাহ বলেন, “বামেরা তাও কিছুটা কাজ করেছিল, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিন্ডিকেট রাজ চালিয়ে বাংলার শিল্পকে পুরোপুরি শেষ করে দিয়েছেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কোনো অনুষ্ঠানে বা স্টেজে যান না, যা যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় নজিরবিহীন। এর ফলে বাংলার মানুষ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

নারী সুরক্ষা ও হিন্দু ভাবাবেগ
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “বাংলায় সন্ধে ৭টার পর মহিলারা বেরোতে পারেন না। সুরক্ষা দেওয়া সাংবিধানিক অধিকার হলেও মমতা সরকার তাতে ব্যর্থ।” পাশাপাশি, বন্দে মাতরম নিয়ে তৃণমূলের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ভোটব্যাঙ্ক অসন্তুষ্ট হওয়ার ভয়ে আপনারা সংসদে বাধা দেন।

হিন্দুদের ওপর যে ক্ষত তৈরি করেছেন, তা এখন মলম লাগিয়ে সারবে না।”
২০২৬-এ ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ডাক
২০২১-এর ফলাফল স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ৩টি আসন থেকে ৭৭-এ পৌঁছেছি। ভোট বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে কংগ্রেস ও বামেরা এখন শূন্য। মানুষ ঠিক করে ফেলেছে ২০২৬-এ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে।” অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি:
১৫ এপ্রিলের পর: ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিলের পর বাংলায় বিজেপির পূর্ণ বহুমতের সরকার হবে।

বিকাশ ও উন্নয়ন: সিন্ডিকেট সরিয়ে গরিব মানুষের উন্নয়নের সরকার আসবে।
সোনার বাংলা: মনীষীদের স্বপ্নের সেই সোনার বাংলা গড়ে তুলবে বিজেপি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

অনুপ্রবেশকারীদের শেল্টার দিচ্ছে মমতার সরকার

Update Time : ০৭:০৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি::অনুপ্রবেশকারীদের শেল্টার দিচ্ছে মমতার সরকার, ২০২৬-এ ক্ষমতায় আসছে বিজেপি’: কলকাতায় তোপ অমিত শাহের
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছরের শেষ লগ্নে সল্টলেকের আলতেয়ার (Altair) হোটেলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ এবং নারী সুরক্ষা— এই তিন ইস্যুকে সামনে রেখে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ার হুঙ্কার দিলেন তিনি।

অনুপ্রবেশ রুখতে ব্যর্থ রাজ্য, নিশানায় মমতা
অমিত শাহ এদিন সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বাংলার জনবিন্যাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তিনি বলেন, “আসাম, ত্রিপুরা, কাশ্মীর বা রাজস্থানে অনুপ্রবেশ বন্ধ হলেও বাংলায় কেন হচ্ছে না? কারণ এখানে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। বিএসএফ-কে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমিও দিচ্ছে না রাজ্য।” তিনি সাফ জানান, ২০২৬-এর নির্বাচন হবে বাংলার সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশকারী রোখার নির্বাচন।

দুর্নীতির আখড়া এবং ‘ভাইপো’ শাসন
রাজ্যের বর্তমান অবস্থাকে ‘লোকতন্ত্রের লজ্জা’ বলে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় এখন দুর্নীতি, ভয় ও কুশাসনের সরকার চলছে। এখানে টাকা উপার্জনের অধিকার শুধু একজনেরই আছে— ভাইপোর।” পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক থেকে শুরু করে ফিরহাদ হাকিম— একের পর এক নেতার জেল হেফাজত ও বিপুল টাকা উদ্ধারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তোপ দাগেন যে, এই সরকার আগাগোড়া দুর্নীতিগ্রস্ত।

শিল্প ও উন্নয়ন স্তব্ধ
বাংলার শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে শাহ বলেন, “বামেরা তাও কিছুটা কাজ করেছিল, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিন্ডিকেট রাজ চালিয়ে বাংলার শিল্পকে পুরোপুরি শেষ করে দিয়েছেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কোনো অনুষ্ঠানে বা স্টেজে যান না, যা যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় নজিরবিহীন। এর ফলে বাংলার মানুষ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

নারী সুরক্ষা ও হিন্দু ভাবাবেগ
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “বাংলায় সন্ধে ৭টার পর মহিলারা বেরোতে পারেন না। সুরক্ষা দেওয়া সাংবিধানিক অধিকার হলেও মমতা সরকার তাতে ব্যর্থ।” পাশাপাশি, বন্দে মাতরম নিয়ে তৃণমূলের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ভোটব্যাঙ্ক অসন্তুষ্ট হওয়ার ভয়ে আপনারা সংসদে বাধা দেন।

হিন্দুদের ওপর যে ক্ষত তৈরি করেছেন, তা এখন মলম লাগিয়ে সারবে না।”
২০২৬-এ ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ডাক
২০২১-এর ফলাফল স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ৩টি আসন থেকে ৭৭-এ পৌঁছেছি। ভোট বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে কংগ্রেস ও বামেরা এখন শূন্য। মানুষ ঠিক করে ফেলেছে ২০২৬-এ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে।” অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি:
১৫ এপ্রিলের পর: ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিলের পর বাংলায় বিজেপির পূর্ণ বহুমতের সরকার হবে।

বিকাশ ও উন্নয়ন: সিন্ডিকেট সরিয়ে গরিব মানুষের উন্নয়নের সরকার আসবে।
সোনার বাংলা: মনীষীদের স্বপ্নের সেই সোনার বাংলা গড়ে তুলবে বিজেপি।