Dhaka ০৫:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের, তাদেরই সমাধান করতে হবে: আইনমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৫ Time View

জাতীয় ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারেই রয়েছে এবং এই সমস্যার সমাধানও তাদেরই করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে টেকসই পন্থা, জাতীয় কৌশলের রূপরেখা ও বৈদেশিক অবদান শীর্ষক এই নীতি সংলাপের আয়োজন করেছিল নীতি গবেষণা কেন্দ্র। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সুফিউর রহমান এবং পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন গবেষণা কেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক ড. শাকিল আহমেদ।

<িপি>অনুষ্ঠানের বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন যে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার এবং তাদের নাগরিক অধিকারের বিষয়টি সরকারের সার্বক্ষণিক চিন্তায় রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার একদিকে যেমন বিষয়টি সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখছে, অন্যদিকে এর সঙ্গে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গভীরভাবে জড়িত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অতীতে বিভিন্ন সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে তিনি জানান যে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের দেখানো পথ ধরেই বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে এগোনোর চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইতিমধ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠিত হয়েছে যা এই সংকটের স্থায়ী ও কার্যকর সমাধানের উপায় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে কেবল জোরপূর্বক বা কৃত্রিম উপায়ে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানো কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না। কোনো রোহিঙ্গা নাগরিককে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পর তারা যেন তাদের হারানো নাগরিকত্ব, মৌলিক মানবাধিকার, সামাজিক মর্যাদা এবং শিক্ষার অধিকার ফিরে পায় তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। এই পুরো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে এবং তাদের সার্বিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের, তাদেরই সমাধান করতে হবে: আইনমন্ত্রী

Update Time : ০২:৪৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারেই রয়েছে এবং এই সমস্যার সমাধানও তাদেরই করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে টেকসই পন্থা, জাতীয় কৌশলের রূপরেখা ও বৈদেশিক অবদান শীর্ষক এই নীতি সংলাপের আয়োজন করেছিল নীতি গবেষণা কেন্দ্র। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সুফিউর রহমান এবং পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন গবেষণা কেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক ড. শাকিল আহমেদ।

<িপি>অনুষ্ঠানের বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন যে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার এবং তাদের নাগরিক অধিকারের বিষয়টি সরকারের সার্বক্ষণিক চিন্তায় রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার একদিকে যেমন বিষয়টি সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখছে, অন্যদিকে এর সঙ্গে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গভীরভাবে জড়িত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অতীতে বিভিন্ন সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে তিনি জানান যে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের দেখানো পথ ধরেই বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে এগোনোর চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইতিমধ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠিত হয়েছে যা এই সংকটের স্থায়ী ও কার্যকর সমাধানের উপায় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে কেবল জোরপূর্বক বা কৃত্রিম উপায়ে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানো কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না। কোনো রোহিঙ্গা নাগরিককে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পর তারা যেন তাদের হারানো নাগরিকত্ব, মৌলিক মানবাধিকার, সামাজিক মর্যাদা এবং শিক্ষার অধিকার ফিরে পায় তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। এই পুরো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে এবং তাদের সার্বিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।