Dhaka ১১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরের শার্শায় কচুর হাটে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

মনির হোসেন
  • Update Time : ০৩:২৮:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • / ৭৪ Time View

বেনাপোল প্রতিনিধি::দুপুর গড়াতেই জমে ওঠে মানুষের ভিড়। বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে শত শত বস্তাভর্তি মুখি কচু নিয়ে হাজির হন কৃষকেরা। একদিকে চলছে দরদাম, অন্যদিকে ট্রাকে মালামাল তোলার ব্যস্ততা। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা রূপ নেয় এক বিশাল কৃষিপণ্যের বাণিজ্যকেন্দ্রে। এমন চিত্রই এখন যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজারের মুখি কচুর হাটে।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছে বাসাবাড়ি এখন মুখি কচুর অন্যতম নির্ভরযোগ্য পাইকারি বাজার। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাশের ঝিকরগাছা উপজেলা থেকেও কৃষকেরা কচু নিয়ে আসেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কচু কিনে নিয়ে যান। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য ছাড়াই কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

হাটে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে কচুভর্তি বস্তা। কোথাও চলছে দামাদামি, কোথাও নমুনা দেখিয়ে ক্রয়-বিক্রয়, আবার কোথাও বিক্রেতারা নতুন ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন। পুরো বাজারজুড়েই লেনদেনের ব্যস্ততা।

কৃষক ওইদুল ইসলাম জানান, আগে কচু বিক্রির জন্য বিভিন্ন বাজারে ঘুরতে হতো। এখন বাসাবাড়ি হাটেই পাইকাররা এসে কচু কিনে নিয়ে যান। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমেছে।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা এলাকার কৃষক সাহেব আলী। তিনি বলেন, “এই হাটে কচু নিয়ে এলে বিক্রি নিয়ে চিন্তা থাকে না। ক্রেতার অভাব হয় না, আর দামও তুলনামূলক ভালো পাওয়া যায়।”

ব্যবসায়ীরা জানান, বাসাবাড়ি হাটের মুখি কচুর মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এখান থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কচু ঢাকা, নাটোর, রাজশাহী, রংপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। শুরুতে ভালো মানের মুখি কচু প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে শেষ পর্যায়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, “এখানে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়েই সুবিধা পাচ্ছেন। কৃষকেরা সরাসরি বিক্রি করতে পারছেন, আবার আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত কচু সংগ্রহ করতে পারছি।”

তবে কচু নিতে আসা ট্রাক, পিকআপ ও আলমসাধু চালকরা অভিযোগ করেন, প্রতিটি ট্রাক থেকে ২০০ টাকা, পিকআপ থেকে ১০০ টাকা এবং আলমসাধু থেকে ৫০ টাকা করে বাজার কমিটির পক্ষ থেকে আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে লোডিংয়ে বাধা দেওয়া হয় বলেও তারা অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বাজার কমিটির সভাপতি রশিদ মীর জানান, আদায়কৃত টাকা বাজারের মসজিদ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

বেনাপোল সীমান্ত প্রেসক্লাবের সভাপতি মো, সাহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, বাসাবাড়ির মুখি কচুর হাট শুধু একটি বাজার নয়, এটি এখন কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম। এ অঞ্চলের হাজারো কৃষক এই হাটকে কেন্দ্র করে লাভবান হচ্ছেন।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ১৮০ হেক্টর জমিতে মুখি কচুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ায় কৃষকেরা এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আগামী বছরগুলোতে এ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।#

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

যশোরের শার্শায় কচুর হাটে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

Update Time : ০৩:২৮:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বেনাপোল প্রতিনিধি::দুপুর গড়াতেই জমে ওঠে মানুষের ভিড়। বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে শত শত বস্তাভর্তি মুখি কচু নিয়ে হাজির হন কৃষকেরা। একদিকে চলছে দরদাম, অন্যদিকে ট্রাকে মালামাল তোলার ব্যস্ততা। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা রূপ নেয় এক বিশাল কৃষিপণ্যের বাণিজ্যকেন্দ্রে। এমন চিত্রই এখন যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজারের মুখি কচুর হাটে।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছে বাসাবাড়ি এখন মুখি কচুর অন্যতম নির্ভরযোগ্য পাইকারি বাজার। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাশের ঝিকরগাছা উপজেলা থেকেও কৃষকেরা কচু নিয়ে আসেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কচু কিনে নিয়ে যান। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য ছাড়াই কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

হাটে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে কচুভর্তি বস্তা। কোথাও চলছে দামাদামি, কোথাও নমুনা দেখিয়ে ক্রয়-বিক্রয়, আবার কোথাও বিক্রেতারা নতুন ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন। পুরো বাজারজুড়েই লেনদেনের ব্যস্ততা।

কৃষক ওইদুল ইসলাম জানান, আগে কচু বিক্রির জন্য বিভিন্ন বাজারে ঘুরতে হতো। এখন বাসাবাড়ি হাটেই পাইকাররা এসে কচু কিনে নিয়ে যান। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমেছে।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা এলাকার কৃষক সাহেব আলী। তিনি বলেন, “এই হাটে কচু নিয়ে এলে বিক্রি নিয়ে চিন্তা থাকে না। ক্রেতার অভাব হয় না, আর দামও তুলনামূলক ভালো পাওয়া যায়।”

ব্যবসায়ীরা জানান, বাসাবাড়ি হাটের মুখি কচুর মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এখান থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কচু ঢাকা, নাটোর, রাজশাহী, রংপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। শুরুতে ভালো মানের মুখি কচু প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে শেষ পর্যায়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, “এখানে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়েই সুবিধা পাচ্ছেন। কৃষকেরা সরাসরি বিক্রি করতে পারছেন, আবার আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত কচু সংগ্রহ করতে পারছি।”

তবে কচু নিতে আসা ট্রাক, পিকআপ ও আলমসাধু চালকরা অভিযোগ করেন, প্রতিটি ট্রাক থেকে ২০০ টাকা, পিকআপ থেকে ১০০ টাকা এবং আলমসাধু থেকে ৫০ টাকা করে বাজার কমিটির পক্ষ থেকে আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে লোডিংয়ে বাধা দেওয়া হয় বলেও তারা অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বাজার কমিটির সভাপতি রশিদ মীর জানান, আদায়কৃত টাকা বাজারের মসজিদ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

বেনাপোল সীমান্ত প্রেসক্লাবের সভাপতি মো, সাহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, বাসাবাড়ির মুখি কচুর হাট শুধু একটি বাজার নয়, এটি এখন কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম। এ অঞ্চলের হাজারো কৃষক এই হাটকে কেন্দ্র করে লাভবান হচ্ছেন।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ১৮০ হেক্টর জমিতে মুখি কচুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ায় কৃষকেরা এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আগামী বছরগুলোতে এ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।#