Dhaka ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কাটছে ভূমিদস্যুরা

আব্দুর রাজ্জাক
  • Update Time : ০৭:০৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৪ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি::ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের আজবপুর গ্রামে রাতের আঁধারে ফসলি জমি ও নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় নদীভাঙন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে এবং গ্রামবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একদিকে নদীভাঙন প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগে জিও ব্যাগ ফেলে পাড় রক্ষার কাজ চলছে, অন্যদিকে অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে একের পর এক ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার কৃষকরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বড় বড় স্টিলের নৌকা (বাল্কহেড) নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র আজবপুর গ্রামের নদীতীরবর্তী ফসলি জমি ও নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছে। এসব ভারী নৌযান নদীতে চলাচলের সময় সৃষ্ট বড় ঢেউয়ের আঘাতে নদীর পাড় ও আশপাশের বসতবাড়িতে নতুন করে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ভূমিদস্যুদের ভয়ে আমরা মুখ খুলতে পারি না। প্রতিবাদ করলেই হুমকি-ধমকির শিকার হতে হয়। আমাদের চোখের সামনে পৈত্রিক ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারছি না।”

ভাঙনের শিকার কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষিকাজই তাদের পরিবারের একমাত্র জীবিকার উৎস। অবৈধভাবে মাটি কাটার কারণে তারা জমি হারাচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তারা দ্রুত এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নদীভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ না হলে সরকারের সব উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আজবপুর গ্রামকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা এবং অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরাইল উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযোজন করা হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কাটছে ভূমিদস্যুরা

Update Time : ০৭:০৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি::ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের আজবপুর গ্রামে রাতের আঁধারে ফসলি জমি ও নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় নদীভাঙন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে এবং গ্রামবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একদিকে নদীভাঙন প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগে জিও ব্যাগ ফেলে পাড় রক্ষার কাজ চলছে, অন্যদিকে অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে একের পর এক ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার কৃষকরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বড় বড় স্টিলের নৌকা (বাল্কহেড) নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র আজবপুর গ্রামের নদীতীরবর্তী ফসলি জমি ও নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছে। এসব ভারী নৌযান নদীতে চলাচলের সময় সৃষ্ট বড় ঢেউয়ের আঘাতে নদীর পাড় ও আশপাশের বসতবাড়িতে নতুন করে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ভূমিদস্যুদের ভয়ে আমরা মুখ খুলতে পারি না। প্রতিবাদ করলেই হুমকি-ধমকির শিকার হতে হয়। আমাদের চোখের সামনে পৈত্রিক ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারছি না।”

ভাঙনের শিকার কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষিকাজই তাদের পরিবারের একমাত্র জীবিকার উৎস। অবৈধভাবে মাটি কাটার কারণে তারা জমি হারাচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তারা দ্রুত এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নদীভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ না হলে সরকারের সব উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আজবপুর গ্রামকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা এবং অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরাইল উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযোজন করা হবে।