Dhaka ১১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং, হুন্দাই ও হানওয়া

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৬ Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাজারে নতুন করে বিনিয়োগ করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় তিন শিল্পগোষ্ঠী হুন্দাই, হানওয়া এবং স্যামসাং। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী জুং-সুং পার্কের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এই বৈঠকে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দল দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর, ব্যবসা সহজীকরণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে কাজ করবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ঐতিহ্যবাহী তৈরি পোশাক খাতের গণ্ডি পেরিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক খাতে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা, ওষুধশিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে দক্ষিণ কোরীয় বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

বিনিয়োগের পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করতে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা বৈঠকে তুলে ধরা হয়। মূলধন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা, ইলেকট্রনিকস শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ২৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা এবং কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগের কথা জানান অর্থমন্ত্রী। অগ্রাধিকারভিত্তিক বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার থেকে সরকার এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব মডেল ব্যবহারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব বজায় রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সফরের অংশ হিসেবে হুন্দাই গ্লোভিস, হানওয়া ওশান ও স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল। হুন্দাই গ্লোভিসের সঙ্গে লজিস্টিকস হাব, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও মোটরগাড়িশিল্পের সরবরাহব্যবস্থায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে কাজ করার আগ্রহ দেখায়। অন্যদিকে হানওয়া ওশানের সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ, মেরামত এবং ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে তারা প্রথমে জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সহযোগিতার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং, হুন্দাই ও হানওয়া

Update Time : ০৭:৩২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাজারে নতুন করে বিনিয়োগ করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় তিন শিল্পগোষ্ঠী হুন্দাই, হানওয়া এবং স্যামসাং। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী জুং-সুং পার্কের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এই বৈঠকে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দল দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর, ব্যবসা সহজীকরণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে কাজ করবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ঐতিহ্যবাহী তৈরি পোশাক খাতের গণ্ডি পেরিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক খাতে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা, ওষুধশিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে দক্ষিণ কোরীয় বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

বিনিয়োগের পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করতে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা বৈঠকে তুলে ধরা হয়। মূলধন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা, ইলেকট্রনিকস শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ২৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা এবং কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগের কথা জানান অর্থমন্ত্রী। অগ্রাধিকারভিত্তিক বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার থেকে সরকার এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব মডেল ব্যবহারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব বজায় রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সফরের অংশ হিসেবে হুন্দাই গ্লোভিস, হানওয়া ওশান ও স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল। হুন্দাই গ্লোভিসের সঙ্গে লজিস্টিকস হাব, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও মোটরগাড়িশিল্পের সরবরাহব্যবস্থায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে কাজ করার আগ্রহ দেখায়। অন্যদিকে হানওয়া ওশানের সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ, মেরামত এবং ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে তারা প্রথমে জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সহযোগিতার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।