Dhaka ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাটগ্রাম শহর: অটোর দাপট, যানজটে ভোগান্তি

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২ Time View

সারাদেশ ডেস্ক: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত সর্বত্র ব্যাটারিচালিত ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচলের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ট্রাফিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামার ফলে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সবসময় জটলা লেগে থাকে। বিশেষ করে পূর্ব চাররাস্তার মোড় বা চৌরঙ্গী থেকে পশ্চিম চাররাস্তার মোড় পর্যন্ত এলাকায় এই বিশৃঙ্খলা সবচেয়ে বেশি প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর ফলে সাধারণ পথচারীদের জন্য সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অটোরিকশার উপদ্রবের পাশাপাশি সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকানপাট বসানোর প্রতিযোগিতা যানজটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তেঁতুলতলা থেকে পৌরসভা সড়ক, রেলগেট, পুরাতন কাঁচাবাজার এবং থানা রোডসহ প্রায় প্রতিটি সড়কের দুই পাশে পাঁচ থেকে সাত ফুট জায়গা দখল করে চলছে ব্যবসা। স্থায়ী দোকানের সামনে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে ফুটপাতে ফল, জুতা, কাপড় ও আসবাবের মতো পণ্য নিয়ে বসেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এসব অস্থায়ী দোকানের সামনে ক্রেতারা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করায় সড়কের মূল অংশ সংকুচিত হয়ে যায় এবং যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

যানজটের এই চরম পরিস্থিতির কারণে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মজীবী মানুষ এবং সাধারণ নাগরিকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে সপ্তাহের নির্দিষ্ট হাটবারগুলোতে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটায় শহরজুড়ে মানুষের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি নিরসনে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে আসছেন। ফুটপাত দখলমুক্ত না হলে এবং যানজট না কমলে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন যে স্থায়ী দোকান নেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে মূল দোকানের সামনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে তাদের পরিবার নিয়ে মারাত্মক সংকটে পড়তে হবে বলে তারা জানিয়েছেন। এদিকে পৌর ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে মাইকিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও চালকরা নির্দেশ অমান্য করে আগের মতো অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এই দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার এই পরিস্থিতিকে একটি দীর্ঘদিনের সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জনসাধারণের এই ভোগান্তি লাঘব করাকে প্রশাসন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। শহরবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে খুব শীঘ্রই কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

পাটগ্রাম শহর: অটোর দাপট, যানজটে ভোগান্তি

Update Time : ০৬:১৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

সারাদেশ ডেস্ক: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত সর্বত্র ব্যাটারিচালিত ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচলের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ট্রাফিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামার ফলে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সবসময় জটলা লেগে থাকে। বিশেষ করে পূর্ব চাররাস্তার মোড় বা চৌরঙ্গী থেকে পশ্চিম চাররাস্তার মোড় পর্যন্ত এলাকায় এই বিশৃঙ্খলা সবচেয়ে বেশি প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর ফলে সাধারণ পথচারীদের জন্য সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অটোরিকশার উপদ্রবের পাশাপাশি সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকানপাট বসানোর প্রতিযোগিতা যানজটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তেঁতুলতলা থেকে পৌরসভা সড়ক, রেলগেট, পুরাতন কাঁচাবাজার এবং থানা রোডসহ প্রায় প্রতিটি সড়কের দুই পাশে পাঁচ থেকে সাত ফুট জায়গা দখল করে চলছে ব্যবসা। স্থায়ী দোকানের সামনে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে ফুটপাতে ফল, জুতা, কাপড় ও আসবাবের মতো পণ্য নিয়ে বসেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এসব অস্থায়ী দোকানের সামনে ক্রেতারা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করায় সড়কের মূল অংশ সংকুচিত হয়ে যায় এবং যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

যানজটের এই চরম পরিস্থিতির কারণে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মজীবী মানুষ এবং সাধারণ নাগরিকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে সপ্তাহের নির্দিষ্ট হাটবারগুলোতে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটায় শহরজুড়ে মানুষের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি নিরসনে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে আসছেন। ফুটপাত দখলমুক্ত না হলে এবং যানজট না কমলে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন যে স্থায়ী দোকান নেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে মূল দোকানের সামনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে তাদের পরিবার নিয়ে মারাত্মক সংকটে পড়তে হবে বলে তারা জানিয়েছেন। এদিকে পৌর ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে মাইকিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও চালকরা নির্দেশ অমান্য করে আগের মতো অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এই দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার এই পরিস্থিতিকে একটি দীর্ঘদিনের সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জনসাধারণের এই ভোগান্তি লাঘব করাকে প্রশাসন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। শহরবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে খুব শীঘ্রই কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।