Dhaka ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে সরকারি কোয়ার্টার: কর্মকর্তাদের নামে বরাদ্দ থাকছেন ভাড়াটেরা

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২ Time View

জাতীয় ডেস্ক: রংপুরে সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দ পাওয়ার পরও সেখানে নিজে না থেকে ভাড়া বা সাবলেট দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ডাক বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দের ফ্ল্যাটে চাকরিজীবীকে নিজে বসবাস করার কথা থাকলেও এই নির্দেশ অমান্য করে বহিরাগতদের কাছে ফ্ল্যাট তুলে দেওয়া হয়েছে। শহরের ধাপ এলাকায় অবস্থিত ডাক বিভাগের পোস্টাল স্টাফ কোয়ার্টারগুলোতে সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে এই অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। সেখানে থাকা মোট পনেরোটি ফ্ল্যাটের একটি বড় অংশে বরাদ্দগ্রহীতাদের পরিবর্তে অন্য ভাড়াটেরা বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। অথচ সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো ভাড়াটে না থাকার বিষয়ে লিখিত প্রত্যয়নপত্র নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কোয়ার্টারগুলোর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় সরকারি আবাসন নীতির কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বরাদ্দপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের অবশ্যই নিজ নামে বরাদ্দ নেওয়া বাসায় বসবাস করতে হবে। অন্য কারও কাছে ফ্ল্যাট বা কক্ষ ভাড়া কিংবা সাবলেট দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। নির্দিষ্ট একটি ডেডলাইনের মধ্যে সব ফ্ল্যাট থেকে ভাড়াটে ও সাবলেটবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এর ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিলের পাশাপাশি অপরাধী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। তবে রংপুরের ডাক বিভাগের কোয়ার্টারে এই নির্দেশনার কোনো প্রভাব পড়েনি এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দিয়েই কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন অভিযুক্তরা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ধাপ এলাকার পোস্টাল কোয়ার্টারের চারতলা ও তিনতলা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে এই অনিয়ম চলছে। চারতলা ভবনের একাধিক ফ্ল্যাটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সৈয়দপুর উপজেলা ডাকঘরের পোস্টম্যান শরিফুল ইসলাম এবং রংপুর প্রধান ডাকঘরের অপারেটর তৌহদুল ইসলামের নামে বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটে অন্য ব্যক্তিরা বসবাস করছেন। একইভাবে প্রধান ডাকঘরের প্যাকার লুৎফর হাবিব রানা এবং বিভাগীয় পোস্ট অফিসের অফিস সহায়ক জহির উদ্দিনের বরাদ্দ নেওয়া ফ্ল্যাটেও বহিরাগত ভাড়াটেরা থাকছেন। তিনতলা কোয়ার্টারের আরেকটি ফ্ল্যাটে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক মো. সবুজ আহমেদ সবুরের নামে বরাদ্দ থাকলেও সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন এক ভাড়াটে। অভিযুক্ত কোনো কোনো কর্মকর্তা নিজের ভুল স্বীকার করে ভাড়াটেদের দ্রুত বাসা ছাড়ার তাগিদ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

ভাড়াটে রাখার বিষয়টি সামনে আসার পর এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। রংপুর বিভাগীয় অফিসের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল ইসরাত জাহান নূর জানান, তারা সম্প্রতি চিঠি দিয়ে সবার কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন যে বাসায় কোনো ভাড়াটে নেই। এখন বিষয়টি সরেজমিন যাচাই বা ক্রসচেক করে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে উত্তরাঞ্চল রাজশাহীর অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. আনোয়ার হোসেন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানিয়েছেন যে, প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার পরও যদি কোয়ার্টারে ভাড়াটে বহাল থাকে, তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রংপুরে সরকারি কোয়ার্টার: কর্মকর্তাদের নামে বরাদ্দ থাকছেন ভাড়াটেরা

Update Time : ০৬:৪৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: রংপুরে সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দ পাওয়ার পরও সেখানে নিজে না থেকে ভাড়া বা সাবলেট দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ডাক বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দের ফ্ল্যাটে চাকরিজীবীকে নিজে বসবাস করার কথা থাকলেও এই নির্দেশ অমান্য করে বহিরাগতদের কাছে ফ্ল্যাট তুলে দেওয়া হয়েছে। শহরের ধাপ এলাকায় অবস্থিত ডাক বিভাগের পোস্টাল স্টাফ কোয়ার্টারগুলোতে সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে এই অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। সেখানে থাকা মোট পনেরোটি ফ্ল্যাটের একটি বড় অংশে বরাদ্দগ্রহীতাদের পরিবর্তে অন্য ভাড়াটেরা বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। অথচ সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো ভাড়াটে না থাকার বিষয়ে লিখিত প্রত্যয়নপত্র নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কোয়ার্টারগুলোর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় সরকারি আবাসন নীতির কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বরাদ্দপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের অবশ্যই নিজ নামে বরাদ্দ নেওয়া বাসায় বসবাস করতে হবে। অন্য কারও কাছে ফ্ল্যাট বা কক্ষ ভাড়া কিংবা সাবলেট দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। নির্দিষ্ট একটি ডেডলাইনের মধ্যে সব ফ্ল্যাট থেকে ভাড়াটে ও সাবলেটবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এর ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিলের পাশাপাশি অপরাধী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। তবে রংপুরের ডাক বিভাগের কোয়ার্টারে এই নির্দেশনার কোনো প্রভাব পড়েনি এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দিয়েই কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন অভিযুক্তরা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ধাপ এলাকার পোস্টাল কোয়ার্টারের চারতলা ও তিনতলা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে এই অনিয়ম চলছে। চারতলা ভবনের একাধিক ফ্ল্যাটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সৈয়দপুর উপজেলা ডাকঘরের পোস্টম্যান শরিফুল ইসলাম এবং রংপুর প্রধান ডাকঘরের অপারেটর তৌহদুল ইসলামের নামে বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটে অন্য ব্যক্তিরা বসবাস করছেন। একইভাবে প্রধান ডাকঘরের প্যাকার লুৎফর হাবিব রানা এবং বিভাগীয় পোস্ট অফিসের অফিস সহায়ক জহির উদ্দিনের বরাদ্দ নেওয়া ফ্ল্যাটেও বহিরাগত ভাড়াটেরা থাকছেন। তিনতলা কোয়ার্টারের আরেকটি ফ্ল্যাটে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক মো. সবুজ আহমেদ সবুরের নামে বরাদ্দ থাকলেও সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন এক ভাড়াটে। অভিযুক্ত কোনো কোনো কর্মকর্তা নিজের ভুল স্বীকার করে ভাড়াটেদের দ্রুত বাসা ছাড়ার তাগিদ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

ভাড়াটে রাখার বিষয়টি সামনে আসার পর এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। রংপুর বিভাগীয় অফিসের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল ইসরাত জাহান নূর জানান, তারা সম্প্রতি চিঠি দিয়ে সবার কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন যে বাসায় কোনো ভাড়াটে নেই। এখন বিষয়টি সরেজমিন যাচাই বা ক্রসচেক করে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে উত্তরাঞ্চল রাজশাহীর অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. আনোয়ার হোসেন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানিয়েছেন যে, প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার পরও যদি কোয়ার্টারে ভাড়াটে বহাল থাকে, তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।