নওগাঁর সপ্তম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধে মোবাইল কোর্ট
- Update Time : ০৭:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫০ Time View
উজ্জ্বল কুমার সরকার নওগাঁ :: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে গিয়ে মোবাইল কোর্টের সরকারি গাড়ি আটকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বর-কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও বাল্যবিবাহ সংঘটনের অভিযোগে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সমাসপাড়া গ্রামের মো. ইউসুফ আলীর ছেলে মো. আল আমিনের সঙ্গে একই ইউনিয়নের খালপাড়া গ্রামের জুয়েলের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে মোছা. জেরিনের বিয়ের আয়োজন করা হয়। জেরিন সমাসপাড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।
শুক্রবার রাতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার ছেলের বাড়িতে বৌভাতের আয়োজন করা হয়।
বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে শনিবার (২৯ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় বরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল সরকারি গাড়ি আটকে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় পুলিশ ও সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলার চেষ্টারও অভিযোগ ওঠে।পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এরপর বর আল আমিন, কনে জেরিনসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, বাল্যবিবাহ সংঘটন ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মুন্নাফ, রাব্বি, ইউনুস, সজলসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। আসামিকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় একদল লোক সরকারি গাড়ি আটকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি সরকারি কাজে বাধা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শিশুদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বাল্যবিবাহ বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”














