Dhaka ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে

মসিউর রহমান
  • Update Time : ০৮:০০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১২৪ Time View

নীলফামারী প্রতিনিধি::তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে লালমনিরহাটের তিস্তা হেলিপ্যাড মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। উত্তরাঞ্চলে ধারাবাহিক নির্বাচনী জনসভার অংশ হিসেবে বুধবার জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

ডা. শফিকুর রহমানের আগমনে নারায়ে তাকবীর—আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে গর্জে ওঠে পুরো মাঠ। হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাস্থল উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

জনসভায় বক্তব্যে জামায়াত আমীর বলেন, তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। অথচ বছরের পর বছর ধরে এ অঞ্চলের মানুষ তিস্তার ন্যায্য পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে কৃষি, শিল্প ও পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই উত্তরাঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে—ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, চব্বিশের জেগে ওঠা যুব সমাজ এখন আর ঘুমিয়ে নেই। তারা নিজের ভোটের পাশাপাশি সবার ভোটের পাহারাদারি করবে। কোনো দুর্বৃত্ত কারও ভোটে হাত দিতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। তিনি প্রশাসনের প্রতি স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার অধিকার মানে শুধু একটি দল বা গোষ্ঠীর অধিকার নয়—এই দেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকল ১৮ কোটি মানুষের অধিকার।’ দলীয় ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দলীয় বিজয় নয়, বরং জনগণের বিজয় চায়।

নীলফামারী ও লালমনিরহাটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই জেলার মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। বাংলাদেশকে সব ধর্মের মানুষের জন্য ‘ফুলের বাগানের’ মতো গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

যুবসমাজ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত যুবক চাকরিবিহীন। তারা বেকার ভাতা নয়—ন্যায়বিচার ও মেধার সুবিচার চেয়ে রাস্তায় নেমেছিল। মামু-খালুর প্রভাবমুক্ত নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে জাতি মাকে সম্মান করে আল্লাহ তায়ালা তাদের সম্মান বৃদ্ধি করে দেন।

জনসভায় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমিরসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি নীলফামারী জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত থেকে জনতার কণ্ঠে কণ্ঠ মিলান।

বক্তারা বলেন, উত্তরাঞ্চলকে আর অবহেলার মানচিত্রে আটকে রাখা যাবে না। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নই হতে পারে এ অঞ্চলের মানুষের মুক্তির সোপান। তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চল অবহেলিত থাকলেও জামায়াতে ইসলামী সবসময় এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে।

বক্তারা জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জনসভায় অংশ নেওয়া হাজারো মানুষের চোখেমুখে ছিল দৃঢ় প্রত্যাশার ছাপ। অনেকেই বলেন,এই প্রথম আমাদের কষ্টের কথা কেউ বুক দিয়ে বলছে।”মাঠজুড়ে বারবার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান ধ্বনিত হয়।

লালমনিরহাটসহ আশপাশের জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভায় অংশগ্রহণ করেন।
জনসভা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে

Update Time : ০৮:০০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নীলফামারী প্রতিনিধি::তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে লালমনিরহাটের তিস্তা হেলিপ্যাড মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। উত্তরাঞ্চলে ধারাবাহিক নির্বাচনী জনসভার অংশ হিসেবে বুধবার জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

ডা. শফিকুর রহমানের আগমনে নারায়ে তাকবীর—আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে গর্জে ওঠে পুরো মাঠ। হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাস্থল উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

জনসভায় বক্তব্যে জামায়াত আমীর বলেন, তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। অথচ বছরের পর বছর ধরে এ অঞ্চলের মানুষ তিস্তার ন্যায্য পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে কৃষি, শিল্প ও পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই উত্তরাঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে—ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, চব্বিশের জেগে ওঠা যুব সমাজ এখন আর ঘুমিয়ে নেই। তারা নিজের ভোটের পাশাপাশি সবার ভোটের পাহারাদারি করবে। কোনো দুর্বৃত্ত কারও ভোটে হাত দিতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। তিনি প্রশাসনের প্রতি স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার অধিকার মানে শুধু একটি দল বা গোষ্ঠীর অধিকার নয়—এই দেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকল ১৮ কোটি মানুষের অধিকার।’ দলীয় ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দলীয় বিজয় নয়, বরং জনগণের বিজয় চায়।

নীলফামারী ও লালমনিরহাটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই জেলার মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। বাংলাদেশকে সব ধর্মের মানুষের জন্য ‘ফুলের বাগানের’ মতো গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

যুবসমাজ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত যুবক চাকরিবিহীন। তারা বেকার ভাতা নয়—ন্যায়বিচার ও মেধার সুবিচার চেয়ে রাস্তায় নেমেছিল। মামু-খালুর প্রভাবমুক্ত নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে জাতি মাকে সম্মান করে আল্লাহ তায়ালা তাদের সম্মান বৃদ্ধি করে দেন।

জনসভায় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমিরসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি নীলফামারী জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত থেকে জনতার কণ্ঠে কণ্ঠ মিলান।

বক্তারা বলেন, উত্তরাঞ্চলকে আর অবহেলার মানচিত্রে আটকে রাখা যাবে না। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নই হতে পারে এ অঞ্চলের মানুষের মুক্তির সোপান। তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চল অবহেলিত থাকলেও জামায়াতে ইসলামী সবসময় এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে।

বক্তারা জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জনসভায় অংশ নেওয়া হাজারো মানুষের চোখেমুখে ছিল দৃঢ় প্রত্যাশার ছাপ। অনেকেই বলেন,এই প্রথম আমাদের কষ্টের কথা কেউ বুক দিয়ে বলছে।”মাঠজুড়ে বারবার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান ধ্বনিত হয়।

লালমনিরহাটসহ আশপাশের জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভায় অংশগ্রহণ করেন।
জনসভা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।