Dhaka ০৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এইচএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণে পৌনে ১১ লাখ আবেদন, ছাড়াল গত দুই বছরের হিসাব

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২ Time View

শিক্ষা ডেস্ক: চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের প্রক্রিয়া। পরীক্ষায় নিজেদের প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক হারে উত্তরপত্র চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রায় তিন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এই পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় এগারো লাখের কাছাকাছি উত্তরপত্র পুনরায় যাচাই করার জন্য জমা পড়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলোতে। আগামী ২৩ নভেম্বর এই পুনর্নিরীক্ষণের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, খাতা পুনর্নিরীক্ষণের এই আগ্রহ অতীতে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

খাতা পুনর্নিরীক্ষণের এই আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু পরিবর্তন ও সময়সীমা বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত সপ্তাহে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত শেষ সময় থাকলেও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সময়সীমা সামান্য বাড়ানো হয়। এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী তাদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের ত্রুটি সংশোধনের আবেদন সম্পন্ন করে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের শেষ দিন পর্যন্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আবেদনকারীদের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বহু শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করায় জমা পড়া উত্তরপত্রের মোট সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো বর্তমানে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছে এসব আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে চলতি বছরে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ করার প্রবণতা দ্বীগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত বছরগুলোতে সারা দেশে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য যে পরিমাণ আবেদন জমা পড়ত, এবার তার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে অনেক ঊর্ধ্বে উঠে গেছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, প্রকাশিত ফলাফলে আশানুরূপ ফল না পাওয়া এবং জিপিএ বা গ্রেড নিয়ে অসন্তোষের কারণেই শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে এই পদক্ষেপে অংশ নিয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানের তুলনায় এবারের এই বিপুল আবেদনপত্র জমা পড়া একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই পরীক্ষার্থীদের মাঝে উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়নের এই তীব্র চাহিদা বোর্ডের দায়িত্বশীলদেরও কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত অক্টোবর মাসের শেষ দিকে উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার মূল ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছিল। সে সময় সারা দেশ থেকে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও একটি বড় অংশের ফল কাঙ্ক্ষিত মানের হয়নি। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বিগত বছরের তুলনায় বেশ কিছুটা কমে গিয়েছিল। অনেকেই বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় কিংবা কম নম্বর পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সেই হতাশা থেকেই শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পথ বেছে নেন। এখন ২৩ নভেম্বর প্রকাশিতব্য সংশোধিত ফল থেকেই মূলত বোঝা যাবে কতজন শিক্ষার্থীর নম্বর বা গ্রেডে পরিবর্তন আসে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

এইচএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণে পৌনে ১১ লাখ আবেদন, ছাড়াল গত দুই বছরের হিসাব

Update Time : ০৬:০০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

শিক্ষা ডেস্ক: চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের প্রক্রিয়া। পরীক্ষায় নিজেদের প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক হারে উত্তরপত্র চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রায় তিন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এই পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় এগারো লাখের কাছাকাছি উত্তরপত্র পুনরায় যাচাই করার জন্য জমা পড়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলোতে। আগামী ২৩ নভেম্বর এই পুনর্নিরীক্ষণের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, খাতা পুনর্নিরীক্ষণের এই আগ্রহ অতীতে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

খাতা পুনর্নিরীক্ষণের এই আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু পরিবর্তন ও সময়সীমা বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত সপ্তাহে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত শেষ সময় থাকলেও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সময়সীমা সামান্য বাড়ানো হয়। এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী তাদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের ত্রুটি সংশোধনের আবেদন সম্পন্ন করে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের শেষ দিন পর্যন্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আবেদনকারীদের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বহু শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করায় জমা পড়া উত্তরপত্রের মোট সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো বর্তমানে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছে এসব আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে চলতি বছরে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ করার প্রবণতা দ্বীগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত বছরগুলোতে সারা দেশে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য যে পরিমাণ আবেদন জমা পড়ত, এবার তার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে অনেক ঊর্ধ্বে উঠে গেছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, প্রকাশিত ফলাফলে আশানুরূপ ফল না পাওয়া এবং জিপিএ বা গ্রেড নিয়ে অসন্তোষের কারণেই শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে এই পদক্ষেপে অংশ নিয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানের তুলনায় এবারের এই বিপুল আবেদনপত্র জমা পড়া একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই পরীক্ষার্থীদের মাঝে উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়নের এই তীব্র চাহিদা বোর্ডের দায়িত্বশীলদেরও কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত অক্টোবর মাসের শেষ দিকে উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার মূল ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছিল। সে সময় সারা দেশ থেকে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও একটি বড় অংশের ফল কাঙ্ক্ষিত মানের হয়নি। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বিগত বছরের তুলনায় বেশ কিছুটা কমে গিয়েছিল। অনেকেই বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় কিংবা কম নম্বর পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সেই হতাশা থেকেই শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পথ বেছে নেন। এখন ২৩ নভেম্বর প্রকাশিতব্য সংশোধিত ফল থেকেই মূলত বোঝা যাবে কতজন শিক্ষার্থীর নম্বর বা গ্রেডে পরিবর্তন আসে।