ভোটের কৌশল ‘চুরি’ করতে ইডি-কে পাঠিয়েছে বিজেপি
- Update Time : ০৮:৩২:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২৫৪ Time View
মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি:: কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল এবং গোপন তথ্য হাতাতেই কি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে বিজেপি? সল্টলেকে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর অফিসে ইডির (ED) ম্যারাথন তল্লাশিকে কেন্দ্র করে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ এবং ‘রাজনৈতিক ডাকাতি’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
রণকৌশল চুরির অভিযোগ:
এদিন নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে ময়দানে লড়াই করতে না পেরে বিজেপি এখন এজেন্সি দিয়ে তৃণমূলের ভোটের ব্লু-প্রিন্ট চুরি করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “আই-প্যাক একটি পেশাদার সংস্থা, কোনো রাজনৈতিক দল নয়। সেখানে গিয়ে হার্ড ড্রাইভ বা ডিজিটাল নথি পরীক্ষা করার অর্থ হলো আমাদের আগামী নির্বাচনের কৌশল জেনে নেওয়া।
এটি সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।”
গণতন্ত্রের ওপর আঘাত:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, নির্বাচনের আগে বিরোধী দলকে দুর্বল করতে এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে পুতুলের মতো নাচানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “দেশের সাংবিধানিক কাঠামো আজ বিপন্ন। এজেন্সিকে চাপের মুখে ফেলে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করতে চাইছে বিজেপি।”
মাথা নত করবে না তৃণমূল:
হুমকি বা ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে দমানো যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা ভয় বা হুমকির রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। এই ধরনের চাপের কাছে মাথা নত করার প্রশ্নই ওঠে না। মনে রাখবেন, শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়েই সবকিছুর নিষ্পত্তি হবে।”
বিজেপির প্রতিক্রিয়া:
মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বও। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। যেখানে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকছে, সেখানেই আইন মেনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। বরং তৃণমূল ইডি-র কাজে বাধা দিয়ে সত্য গোপন করতে চাইছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে গেরুয়া শিবির।
উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি:
আই-প্যাক কাণ্ড এবং মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ এখন তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক-বিরোধী সংঘাত এই ঘটনার জেরে আরও তীব্রতর হবে।
























