Dhaka ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন টাস্কফোর্স, এবার স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগরে নজর

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম আমদানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে এবার স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগরে কড়া নজরদারি শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে যে, এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য টাস্কফোর্স আয়রন গেট নামে একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করা হচ্ছে। মূলত ইরানের অস্ত্র পরিবহন রুদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের অবৈধ আয়ের বিভিন্ন উৎস চিরতরে বন্ধ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তরে এই বিশেষ বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

মার্কিন সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই টাস্কফোর্স গঠনের ক্ষেত্রে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিচার বিভাগ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করবে। ইরানের সঙ্গে প্রায় পাঁচ হাজার নয়শ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে সাতটি দেশের, যার মধ্যে রয়েছে ইরাক, তুরস্ক, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তান। এ ছাড়া কাস্পিয়ান সাগরেও ইরানের প্রায় সাড়ে সাতশ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে। ফলে এসব সীমান্ত ও জলপথ ব্যবহার করে যাতে কোনো ধরনের অস্ত্র বা দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি ইরানে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করবে এই বিশেষ বাহিনী।

এদিকে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও বিকল্প পথ ব্যবহার করে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে তেহরান। রাশিয়া থেকে কাস্পিয়ান সাগর হয়ে জাহাজযোগে, মধ্য এশিয়া থেকে ট্রাকে এবং চীন থেকে কার্গো বিমানে বিস্ফোরক ও ভারী যানবাহন আমদানির জন্য একটি গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে ইরান। সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলোর এই যৌথ প্রয়াস সফল হলে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং সামরিক সরঞ্জামের মজুত বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা বহুলাংশে সীমিত হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান এবং চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়ের পর যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশ সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। তা সত্ত্বেও মার্কিন নেতৃত্ব ইরানের বিরুদ্ধে চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ইরানের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন টাস্কফোর্স, এবার স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগরে নজর

Update Time : ০৩:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম আমদানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে এবার স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগরে কড়া নজরদারি শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে যে, এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য টাস্কফোর্স আয়রন গেট নামে একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করা হচ্ছে। মূলত ইরানের অস্ত্র পরিবহন রুদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের অবৈধ আয়ের বিভিন্ন উৎস চিরতরে বন্ধ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তরে এই বিশেষ বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

মার্কিন সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই টাস্কফোর্স গঠনের ক্ষেত্রে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিচার বিভাগ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করবে। ইরানের সঙ্গে প্রায় পাঁচ হাজার নয়শ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে সাতটি দেশের, যার মধ্যে রয়েছে ইরাক, তুরস্ক, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তান। এ ছাড়া কাস্পিয়ান সাগরেও ইরানের প্রায় সাড়ে সাতশ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে। ফলে এসব সীমান্ত ও জলপথ ব্যবহার করে যাতে কোনো ধরনের অস্ত্র বা দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি ইরানে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করবে এই বিশেষ বাহিনী।

এদিকে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও বিকল্প পথ ব্যবহার করে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে তেহরান। রাশিয়া থেকে কাস্পিয়ান সাগর হয়ে জাহাজযোগে, মধ্য এশিয়া থেকে ট্রাকে এবং চীন থেকে কার্গো বিমানে বিস্ফোরক ও ভারী যানবাহন আমদানির জন্য একটি গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে ইরান। সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলোর এই যৌথ প্রয়াস সফল হলে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং সামরিক সরঞ্জামের মজুত বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা বহুলাংশে সীমিত হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান এবং চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়ের পর যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশ সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। তা সত্ত্বেও মার্কিন নেতৃত্ব ইরানের বিরুদ্ধে চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।