Dhaka ০২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা: পদত্যাগ করলেন আরও এক বিচারপতি

Reporter Name
  • Update Time : ০১:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল থেকে আরও একজন বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্য দিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল থেকে মোট চারজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনা ঘটল, যা প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে জোরালো অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে এই সংশোধনীর নামে প্রায় ত্রিশ লাখ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া বিচারপতি হলেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু যিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নিকট নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম সহ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগ ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় একই ধরনের দায়িত্ব পালন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে নির্বাচন কমিশন এই আপিল ট্রাইব্যুনালগুলো গঠন করেছিল যাতে বাদ পড়া ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে যথাযথ আইনি সহায়তা পান। কিন্তু একের পর এক বিচারপতির দায়িত্ব ত্যাগের ফলে লাখ লাখ সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার এই দীর্ঘায়িত প্রক্রিয়া মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ পদত্যাগকারী বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং পূর্বে সরে দাঁড়ানো বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে সংবেদনশীল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ জেলার আপিল মামলাগুলো নিষ্পত্তির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই জেলা থেকে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছিল যা নিয়ে জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অতিরিক্ত কাজের চাপ দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাতায়াত এবং নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টালে প্রযুক্তিগত বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বিচারকদের পক্ষে স্বাভাবিক কাজকর্ম পরিচালনা করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছিল। এছাড়া বিচারকদের অনেকেই প্রথমে ভেবেছিলেন এটি স্বল্পমেয়াদি বা সাময়িক কোনো দায়িত্ব হবে কিন্তু মামলার পাহাড়সম চাপের কারণে তাদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়।

পরপর দুই বিচারপতির পদত্যাগ করার ফলে মুর্শিদাবাদ জেলায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আপিল নিষ্পত্তির কার্যক্রম কার্যত থমকে গেছে এবং বিচারকদের অনুপস্থিতিতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। সামগ্রিকভাবে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে প্রায় একানব্বই লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার পর সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে উনিশটি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বর্তমানে প্রায় বাইশ লাখ ভোটারের আপিল শুনানি পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব এবং নানা প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে বিচারকরা শুরু থেকেই এই বিশাল পরিমাণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালগুলোতে মামলার জট দিন দিন যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ সময়মতো ন্যায়বিচার ও তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে কিনা তা নিয়ে বর্তমানে গুরুতর সংশয় তৈরি হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা: পদত্যাগ করলেন আরও এক বিচারপতি

Update Time : ০১:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল থেকে আরও একজন বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্য দিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল থেকে মোট চারজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনা ঘটল, যা প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে জোরালো অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে এই সংশোধনীর নামে প্রায় ত্রিশ লাখ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া বিচারপতি হলেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু যিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নিকট নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম সহ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগ ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় একই ধরনের দায়িত্ব পালন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে নির্বাচন কমিশন এই আপিল ট্রাইব্যুনালগুলো গঠন করেছিল যাতে বাদ পড়া ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে যথাযথ আইনি সহায়তা পান। কিন্তু একের পর এক বিচারপতির দায়িত্ব ত্যাগের ফলে লাখ লাখ সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার এই দীর্ঘায়িত প্রক্রিয়া মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ পদত্যাগকারী বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং পূর্বে সরে দাঁড়ানো বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে সংবেদনশীল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ জেলার আপিল মামলাগুলো নিষ্পত্তির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই জেলা থেকে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছিল যা নিয়ে জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অতিরিক্ত কাজের চাপ দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাতায়াত এবং নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টালে প্রযুক্তিগত বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বিচারকদের পক্ষে স্বাভাবিক কাজকর্ম পরিচালনা করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছিল। এছাড়া বিচারকদের অনেকেই প্রথমে ভেবেছিলেন এটি স্বল্পমেয়াদি বা সাময়িক কোনো দায়িত্ব হবে কিন্তু মামলার পাহাড়সম চাপের কারণে তাদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়।

পরপর দুই বিচারপতির পদত্যাগ করার ফলে মুর্শিদাবাদ জেলায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আপিল নিষ্পত্তির কার্যক্রম কার্যত থমকে গেছে এবং বিচারকদের অনুপস্থিতিতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। সামগ্রিকভাবে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে প্রায় একানব্বই লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার পর সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে উনিশটি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বর্তমানে প্রায় বাইশ লাখ ভোটারের আপিল শুনানি পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব এবং নানা প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে বিচারকরা শুরু থেকেই এই বিশাল পরিমাণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালগুলোতে মামলার জট দিন দিন যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ সময়মতো ন্যায়বিচার ও তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে কিনা তা নিয়ে বর্তমানে গুরুতর সংশয় তৈরি হয়েছে।