Dhaka ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকার গঠনের ডাক পাওয়া আইজেনকট কি নেতানিয়াহুকে সরাতে পারবেন

Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘমেয়াদি শাসনের অবসান ঘটাতে বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকটের সামনে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সাবেক এই সেনাপ্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় সরকার গঠনের পথ বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে স্থিতিশীল সরকার উপহার দেওয়া এবং রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান করা আইজেনকটের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর আইজেনকট দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারেন এমন দলগুলোর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিসহ কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর নেতাদেরও তাঁর প্রস্তাবিত সরকারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী পদটি তাঁর নিজের দখলেই থাকবে। নির্বাচনে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য নেসেটে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম একষট্টি আসন নিশ্চিত করতে তাদের বিভিন্ন পক্ষের সমর্থন প্রয়োজন।

সরকার গঠনের এই জটিল সমীকরণে আরব দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাআম ও জয়েন্ট লিস্টের মতো আরব দলগুলোর উনিশটি আসন যুক্ত হলে আইজেনকটের জোটের আসন সংখ্যা সাতষট্টিতে পৌঁছাতে পারে। তবে আইজেনকটের জোটের শরিক দলগুলোর একাংশ আরবদের সমর্থনে সরকার গঠনের প্রবল বিরোধী। তা ছাড়া অতি রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোকে জোটে ভেড়ানো এবং সামরিক বাহিনীতে শিক্ষার্থী ভর্তির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতেও মতবিরোধ রয়েছে, যা দর-কষাকষিকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।

সংবিধান অনুযায়ী সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট প্রাথমিকভাবে আটাশ দিন সময় পাবেন এবং প্রয়োজনে প্রেসিডেন্টের অনুমতিক্রমে এই মেয়াদ আরও বাড়ানো যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি সফল না হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে পারেন। যদি শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয়, তবে পার্লামেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে গিয়ে নতুন নির্বাচনের মুখোমুখি হবে। ফলে শরিক দলগুলোর মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিন্ন লক্ষ্যে আইজেনকট কতটা সফল হন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সরকার গঠনের ডাক পাওয়া আইজেনকট কি নেতানিয়াহুকে সরাতে পারবেন

Update Time : ০২:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘমেয়াদি শাসনের অবসান ঘটাতে বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকটের সামনে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সাবেক এই সেনাপ্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় সরকার গঠনের পথ বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে স্থিতিশীল সরকার উপহার দেওয়া এবং রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান করা আইজেনকটের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর আইজেনকট দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারেন এমন দলগুলোর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিসহ কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর নেতাদেরও তাঁর প্রস্তাবিত সরকারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী পদটি তাঁর নিজের দখলেই থাকবে। নির্বাচনে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য নেসেটে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম একষট্টি আসন নিশ্চিত করতে তাদের বিভিন্ন পক্ষের সমর্থন প্রয়োজন।

সরকার গঠনের এই জটিল সমীকরণে আরব দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাআম ও জয়েন্ট লিস্টের মতো আরব দলগুলোর উনিশটি আসন যুক্ত হলে আইজেনকটের জোটের আসন সংখ্যা সাতষট্টিতে পৌঁছাতে পারে। তবে আইজেনকটের জোটের শরিক দলগুলোর একাংশ আরবদের সমর্থনে সরকার গঠনের প্রবল বিরোধী। তা ছাড়া অতি রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোকে জোটে ভেড়ানো এবং সামরিক বাহিনীতে শিক্ষার্থী ভর্তির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতেও মতবিরোধ রয়েছে, যা দর-কষাকষিকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।

সংবিধান অনুযায়ী সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট প্রাথমিকভাবে আটাশ দিন সময় পাবেন এবং প্রয়োজনে প্রেসিডেন্টের অনুমতিক্রমে এই মেয়াদ আরও বাড়ানো যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি সফল না হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে পারেন। যদি শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয়, তবে পার্লামেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে গিয়ে নতুন নির্বাচনের মুখোমুখি হবে। ফলে শরিক দলগুলোর মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিন্ন লক্ষ্যে আইজেনকট কতটা সফল হন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।