Dhaka ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজায় ১০ পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ঋণপত্রের মার্জিন কমাল সরকার, পণ্যগুলো কী

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৩ Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে দেশের বাজারে চাল, গম, ভোজ্যতেল, চিনি ও খেজুরসহ ১০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পণ্যগুলোর আমদানি ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে নগদ মার্জিন ব্যাংকার ও গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে ব্যবসায়ীদের ওপর মূলধনের চাপ কমবে এবং বাজারে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসংক্রান্ত একটি জরুরি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিশেষ ক্ষমতা বলে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে এবং এটি ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এর ফলে বাজারে এসব পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ থাকবে না এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো সংগ্রহ করতে পারবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তালিকাভুক্ত ১০টি পণ্যের মধ্যে রয়েছে চাল, গম, আটা, পেঁয়াজ, ডাল, সয়াবিন ও পাম অয়েলসহ ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মটর, মসলা এবং খেজুর। অভ্যন্তরীণ বাজারে এসব পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণপত্র খোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত আমদানিকারকদের এলসি খোলার সময় ব্যাংককে নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ জমা দিতে হয়, যা মার্জিন নামে পরিচিত। মার্জিন কমে যাওয়ায় ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সহজেই বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন।

উল্লেখ্য যে প্রতিবছর রমজান মাসে ইফতার ও সাহ্‌রি কেন্দ্র করে ছোলা, ডাল, তেল, চিনি ও খেজুরের মতো পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি করপোরেট ইফতার পার্টি এবং সাধারণ ভোক্তাদের একসঙ্গে কিছু অতিরিক্ত পণ্য কিনে ঘরে মজুত করার প্রবণতা বাজারে বাড়তি চাপের সৃষ্টি করে। এলসি মার্জিন হ্রাসের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকারকদের নগদ অর্থের সংকট দূর হবে এবং রমজানের বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রোজায় ১০ পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ঋণপত্রের মার্জিন কমাল সরকার, পণ্যগুলো কী

Update Time : ০৬:৩০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে দেশের বাজারে চাল, গম, ভোজ্যতেল, চিনি ও খেজুরসহ ১০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পণ্যগুলোর আমদানি ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে নগদ মার্জিন ব্যাংকার ও গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে ব্যবসায়ীদের ওপর মূলধনের চাপ কমবে এবং বাজারে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসংক্রান্ত একটি জরুরি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিশেষ ক্ষমতা বলে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে এবং এটি ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এর ফলে বাজারে এসব পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ থাকবে না এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো সংগ্রহ করতে পারবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তালিকাভুক্ত ১০টি পণ্যের মধ্যে রয়েছে চাল, গম, আটা, পেঁয়াজ, ডাল, সয়াবিন ও পাম অয়েলসহ ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মটর, মসলা এবং খেজুর। অভ্যন্তরীণ বাজারে এসব পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণপত্র খোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত আমদানিকারকদের এলসি খোলার সময় ব্যাংককে নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ জমা দিতে হয়, যা মার্জিন নামে পরিচিত। মার্জিন কমে যাওয়ায় ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সহজেই বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন।

উল্লেখ্য যে প্রতিবছর রমজান মাসে ইফতার ও সাহ্‌রি কেন্দ্র করে ছোলা, ডাল, তেল, চিনি ও খেজুরের মতো পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি করপোরেট ইফতার পার্টি এবং সাধারণ ভোক্তাদের একসঙ্গে কিছু অতিরিক্ত পণ্য কিনে ঘরে মজুত করার প্রবণতা বাজারে বাড়তি চাপের সৃষ্টি করে। এলসি মার্জিন হ্রাসের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকারকদের নগদ অর্থের সংকট দূর হবে এবং রমজানের বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।