ডেটা সেন্টারে এত পানি লাগে কেন, এই পানি যায় কোথায়
- Update Time : ০৭:৩০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / ৩ Time View
প্রযুক্তি ডেস্ক: আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ডেটা সেন্টার এবং পানির ব্যবহার একে অপরের পরিপূরক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ইন্টারনেটে তথ্য সংরক্ষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই কেন্দ্রগুলোতে পানির ব্যবহার নিয়ে জনমনে কৌতূহলও তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করেন সার্ভার ঠান্ডা রাখতে সেখানে গাড়ি বা অন্য কোনো ইঞ্জিনের মতো পাইপের ভেতরে পানি প্রবাহিত করা হয়, যা সঠিক নয়। মূলত এই পানি ডেটা সেন্টারের ভেতরে কুলিং টাওয়ারের মাধ্যমে তাপ অপসারণের কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এর একটি বড় অংশ বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মিশে যায়।
ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় যা শেষ পর্যন্ত তাপে পরিণত হয়। কম্পিউটার চিপগুলো যখন সেকেন্ডে কোটি কোটি বার চালু ও বন্ধ হতে থাকে, তখন সিলিকন গরম হয়ে যায় এবং এই তাপ বাইরে বের করা না হলে সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাপ অপসারণের প্রথম ধাপে বাতাস বা তরলের মাধ্যমে চিপের তাপ শুষে নেওয়া হয়, যা একটি বদ্ধ প্রক্রিয়া। এরপর দ্বিতীয় ধাপে কুলিং টাওয়ারের মাধ্যমে পানি বাষ্পীভূত করে সেই তাপ সফলভাবে ভবনের বাইরে বের করে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী তরল পদার্থ যখন গ্যাসে বা বাষ্পে পরিণত হয়, তখন সেটি চারপাশ থেকে প্রচুর পরিমাণ তাপ শুষে নেয়। পানি গরম করার তুলনায় তা বাষ্পীভূত করার সময় প্রায় আটান্ন গুণ বেশি তাপ টেনে নেওয়ার ক্ষমতা থাকে। এই কারণেই ডেটা সেন্টারগুলো পানি সরাসরি গরম করে নিষ্কাশন না করে কুলিং টাওয়ারের মাধ্যমে বাষ্পাকারে উড়িয়ে দেয়। এর ফলে বিদ্যুতের সাশ্রয় হয় এবং সার্ভারকে নিরাপদ তাপমাত্রায় রাখা সম্ভব হয়।
এই কুলিং টাওয়ারগুলোতে চারকোনা বাক্সের ওপর ফ্যান লাগানো থাকে যেখানে গরম পানি স্প্রে করা হয় এবং বাতাসের সহায়তায় তা ঠান্ডা হয়। এই প্রক্রিয়ায় তিনভাবে পানি অপচয় হতে পারে যার মধ্যে প্রধান হলো বাষ্পীভবন। পাশাপাশি পাইপে খনিজ পদার্থ জমে যাওয়া রোধ করতে মাঝেমধ্যে ব্লোডাউন প্রক্রিয়ায় কিছু পানি নিষ্কাশন করা হয়। ভৌগোলিক অবস্থান এবং আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ডেটা সেন্টারে পানির এই খরচের পরিমাণ ভিন্ন হয়ে থাকে।
প্রযুক্তির এই বিপুল পানির চাহিদা মেটাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেটা সেন্টার পরিচালনার পেছনে যে বিদ্যুৎ খরচ হয়, তার বেশিরভাগই আসে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে যা নিজে এক বিশাল পরিমাণ পানি বাষ্পীভূত করে। যদিও কিছু কোম্পানি বিকল্প হিসেবে ঠান্ডা আবহাওয়া বা তরল দিয়ে ঠান্ডা করার পদ্ধতি চালুর চেষ্টা করছে, তবে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক নিয়মের কারণে তাপ দূর করতে পানির ব্যবহার বা অতিরিক্ত বিদ্যুতের মাশুল এড়ানো সম্ভব হয় না।

























