জানুয়ারিতে বাড়তি বেতন পাবেন পোশাকশ্রমিকরা
- Update Time : ০২:০১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / ৬ Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও চলমান আন্দোলনের মুখে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই এই নতুন মজুরি কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন কারখানা মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। ফলে আগামী জানুয়ারি মাস থেকে পোশাকশিল্পের কর্মীরা তাদের বর্ধিত বেতন হাতে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরাই শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সমঝোতার ওপর জোর দেন।
মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী নেতারা এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার গণমাধ্যমকে জানান যে, ডিসেম্বরে নতুন মজুরি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জানুয়ারি মাস থেকেই শ্রমিকদের বর্ধিত হারে মজুরি দেওয়ার বিষয়ে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা সম্মতি জানিয়েছেন। পোশাক কারখানার মালিকদের প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে অংশ নেওয়া এ বি এম শামছুদ্দিন এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন। বৈঠক থেকে শ্রমিকদের সব ধরনের অসন্তোষ ভুলে নিজ নিজ কারখানায় কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান শ্রমিক নেতারা।
উল্লেখ্য, পোশাক শ্রমিকদের জন্য একটি সম্মানজনক মাসিক ন্যূনতম বেতন ত্রিশ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন কর্মীরা। শ্রমিকদের এই তীব্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয় সরকার। এর ধারাবাহিকতায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ছয় সদস্য বিশিষ্ট একটি নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। এই বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে।
গঠিত এই ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এছাড়া মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন বোর্ডে রয়েছেন। অন্যদিকে শ্রমিকদের পক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার বোর্ডে প্রতিনিধিত্ব করছেন। সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই খাতের অস্থিরতা দূর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।






















