Dhaka ০৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা কামনা প্রধানমন্ত্রীর

Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২ Time View

জাতীয় ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে বেইজিংয়ের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন চীনা মন্ত্রী এবং এর জবাবে চীনা শীর্ষ নেতৃত্বকেও শুভেচ্ছা জানান সরকারপ্রধান।

<প>বৈঠকে বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করা ১৩ লাখ রোহিঙ্গার কারণে দেশের অর্থনীতি, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর যে বহুমুখী চাপ তৈরি হয়েছে, তা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জবাবে চীনা মন্ত্রী জানান যে বেইজিং এই সংকটের বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের বিষয়টি তাঁদের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে অবহিত করা হবে। এ সময় তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের যে যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তার আলোকেই পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় বেইজিংয়ের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করেন।

<প>আলোচনাকালে বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান যে এই দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে এই সম্পর্কের বিশেষ স্থান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া উভয়েরই দায়িত্ব। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান যে জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর শুরু হওয়া ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি দেশের কৃষির উন্নয়নে অভাবনীয় ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান সরকারও দেশব্যাপী প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের নতুন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে, যা কৃষকের কল্যাণ সাধনের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

<প>বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক দল অর্থাৎ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যকার সম্পর্ক আরও বহুমাত্রিক ও বিস্তৃত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দলের সহযোগিতা বাড়াতে বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়দলকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং। পাশাপাশি বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চীনের জোরালো সমর্থনের কথা জানানো হয়। বৈঠক শুরুর আগে চীনা মন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে তাঁদের স্মৃতি স্মরণ করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা কামনা প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : ০২:১৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে বেইজিংয়ের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন চীনা মন্ত্রী এবং এর জবাবে চীনা শীর্ষ নেতৃত্বকেও শুভেচ্ছা জানান সরকারপ্রধান।

<প>বৈঠকে বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করা ১৩ লাখ রোহিঙ্গার কারণে দেশের অর্থনীতি, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর যে বহুমুখী চাপ তৈরি হয়েছে, তা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জবাবে চীনা মন্ত্রী জানান যে বেইজিং এই সংকটের বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের বিষয়টি তাঁদের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে অবহিত করা হবে। এ সময় তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের যে যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তার আলোকেই পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় বেইজিংয়ের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করেন।

<প>আলোচনাকালে বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান যে এই দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে এই সম্পর্কের বিশেষ স্থান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া উভয়েরই দায়িত্ব। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান যে জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর শুরু হওয়া ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি দেশের কৃষির উন্নয়নে অভাবনীয় ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান সরকারও দেশব্যাপী প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের নতুন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে, যা কৃষকের কল্যাণ সাধনের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

<প>বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক দল অর্থাৎ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যকার সম্পর্ক আরও বহুমাত্রিক ও বিস্তৃত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দলের সহযোগিতা বাড়াতে বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়দলকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং। পাশাপাশি বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চীনের জোরালো সমর্থনের কথা জানানো হয়। বৈঠক শুরুর আগে চীনা মন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে তাঁদের স্মৃতি স্মরণ করেন।