Dhaka ১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহ টিটিসি দুর্নীতির আখড়া: তাকামুল ও হাউজকিপিং কোর্সে ঘুষ–দালালি চরমে

শেখ মামুনুর রশীদ মামুন
  • Update Time : ১০:৫২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৩৩৭ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি::বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ জনশক্তি গঠনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এখন পরিণত হয়েছে দুর্নীতির আখড়ায়। অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহ টিটিসিতে সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের জন্য চালু থাকা তাকামুল প্রশিক্ষণ ও নারীদের হাউজকিপিং প্রশিক্ষণে চলছে ঘুষ–দালালি ও চরম অনিয়ম। সিটের দ্বিগুণ বুকিং,ঘুষে সিট বিক্রি!

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, হাউজকিপিং প্রশিক্ষণে যেখানে ৩০ জনের আসন নির্ধারিত, সেখানে দালালদের সহযোগিতায় ঘুষের বিনিময়ে ৬০ জন পর্যন্ত ভর্তি করানো হচ্ছে। নির্ধারিত ফি’র বাইরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র। দালালদের মাধ্যমে টাকা ভাগাভাগি হচ্ছে এবং এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল মাহতাব উদ্দিন। দালাল থেকে দারোয়ান—সবাই জড়িত! প্রিন্সিপালের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কোর্সের ইন্সট্রাক্টর শাহিদা আক্তার ও নাজমুন নাহার মুন্নি, দারোয়ান, অফিস স্টাফসহ একাধিক ব্যক্তি দালাল চক্রের অংশ হয়ে উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, আসন বণ্টন থেকে শুরু করে কোর্সে ভর্তি—সবকিছুই এখন টাকার বিনিময়ে হচ্ছে। দোকান ভাড়া দিয়ে বাড়তি আয়! অভিযোগ আরও আছে, টিটিসির ওয়াল ঘেঁষে ৫০-৬০টি দোকান ভাড়া দিয়ে মাসোহারা তুলছেন প্রিন্সিপাল মাহতাব উদ্দিন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করেও কোনো সরকারি হিসাব দেওয়া হচ্ছে না।

অভিযোগ অস্বীকার,জনমনে ক্ষোভ–অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল মাহতাব উদ্দিন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, “ঘুষ ছাড়া এখানে কোনো সিট পাওয়া যায় না। সরকারি উদ্যোগকে ব্যক্তিগত সম্পদ বানানো হয়েছে।” সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছে, “সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এভাবে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

সরকারের টনক নড়বে কবে? বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মহৎ উদ্দেশ্যকে যারা ভণ্ডুল করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ প্রবাসপন্থীরা বঞ্চিত হবেন। এ কারণে ময়মনসিংহ টিটিসির অনিয়ম ও ঘুষ বানিজ্যের বিরুদ্ধে তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ময়মনসিংহ টিটিসি দুর্নীতির আখড়া: তাকামুল ও হাউজকিপিং কোর্সে ঘুষ–দালালি চরমে

Update Time : ১০:৫২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি::বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ জনশক্তি গঠনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এখন পরিণত হয়েছে দুর্নীতির আখড়ায়। অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহ টিটিসিতে সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের জন্য চালু থাকা তাকামুল প্রশিক্ষণ ও নারীদের হাউজকিপিং প্রশিক্ষণে চলছে ঘুষ–দালালি ও চরম অনিয়ম। সিটের দ্বিগুণ বুকিং,ঘুষে সিট বিক্রি!

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, হাউজকিপিং প্রশিক্ষণে যেখানে ৩০ জনের আসন নির্ধারিত, সেখানে দালালদের সহযোগিতায় ঘুষের বিনিময়ে ৬০ জন পর্যন্ত ভর্তি করানো হচ্ছে। নির্ধারিত ফি’র বাইরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র। দালালদের মাধ্যমে টাকা ভাগাভাগি হচ্ছে এবং এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল মাহতাব উদ্দিন। দালাল থেকে দারোয়ান—সবাই জড়িত! প্রিন্সিপালের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কোর্সের ইন্সট্রাক্টর শাহিদা আক্তার ও নাজমুন নাহার মুন্নি, দারোয়ান, অফিস স্টাফসহ একাধিক ব্যক্তি দালাল চক্রের অংশ হয়ে উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, আসন বণ্টন থেকে শুরু করে কোর্সে ভর্তি—সবকিছুই এখন টাকার বিনিময়ে হচ্ছে। দোকান ভাড়া দিয়ে বাড়তি আয়! অভিযোগ আরও আছে, টিটিসির ওয়াল ঘেঁষে ৫০-৬০টি দোকান ভাড়া দিয়ে মাসোহারা তুলছেন প্রিন্সিপাল মাহতাব উদ্দিন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করেও কোনো সরকারি হিসাব দেওয়া হচ্ছে না।

অভিযোগ অস্বীকার,জনমনে ক্ষোভ–অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল মাহতাব উদ্দিন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, “ঘুষ ছাড়া এখানে কোনো সিট পাওয়া যায় না। সরকারি উদ্যোগকে ব্যক্তিগত সম্পদ বানানো হয়েছে।” সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছে, “সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এভাবে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

সরকারের টনক নড়বে কবে? বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মহৎ উদ্দেশ্যকে যারা ভণ্ডুল করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ প্রবাসপন্থীরা বঞ্চিত হবেন। এ কারণে ময়মনসিংহ টিটিসির অনিয়ম ও ঘুষ বানিজ্যের বিরুদ্ধে তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।