Dhaka ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন দিগন্ত, ফের শুরু ৪তলা ভবনের নির্মাণকাজ

আব্দুর রাজ্জাক
  • Update Time : ০৮:৫১:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১০৯ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :: দীর্ঘ প্রায় দুই বছর স্থবির থাকার পর অবশেষে পুনরায় শুরু হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণাধীন ৪তলা ভবনের কাজ। চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণ, রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে চুক্তিভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেইএসএস (KSS)। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা প্রকল্পটি নতুন উদ্যমে চালু হওয়ায় সরাইলবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কারণে গত প্রায় দুই বছর ধরে ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণও বিলম্বিত হয়।

নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু উপলক্ষে সকালে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন কুমিল্লা স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের। পরিদর্শনকালে তিনি নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি, পরিকল্পনা ও গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টার। তিনি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রকল্পটির কাজ পুনরায় শুরু হওয়াকে এলাকার মানুষের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, “নির্মাণাধীন ৪তলা ভবনের কাজ সম্পন্ন হলে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং সরাইল উপজেলার লাখো মানুষের আধুনিক ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।”
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেইএসএস-এর স্বত্বাধিকারী ও প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “সরকারি নির্দেশনা ও প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ গুণগত মান বজায় রেখে ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তর করা হবে।”

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রতিনিধি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় রোগীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। নতুন ৪তলা ভবনটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণ এবং রোগীদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে।

দীর্ঘদিন পর হাসপাতালের এই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় সরাইল উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে স্বস্তি, সন্তোষ ও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হলে সরাইলের স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন দিগন্ত, ফের শুরু ৪তলা ভবনের নির্মাণকাজ

Update Time : ০৮:৫১:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :: দীর্ঘ প্রায় দুই বছর স্থবির থাকার পর অবশেষে পুনরায় শুরু হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণাধীন ৪তলা ভবনের কাজ। চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণ, রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে চুক্তিভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেইএসএস (KSS)। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা প্রকল্পটি নতুন উদ্যমে চালু হওয়ায় সরাইলবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কারণে গত প্রায় দুই বছর ধরে ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণও বিলম্বিত হয়।

নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু উপলক্ষে সকালে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন কুমিল্লা স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের। পরিদর্শনকালে তিনি নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি, পরিকল্পনা ও গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টার। তিনি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রকল্পটির কাজ পুনরায় শুরু হওয়াকে এলাকার মানুষের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, “নির্মাণাধীন ৪তলা ভবনের কাজ সম্পন্ন হলে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং সরাইল উপজেলার লাখো মানুষের আধুনিক ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।”
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেইএসএস-এর স্বত্বাধিকারী ও প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “সরকারি নির্দেশনা ও প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ গুণগত মান বজায় রেখে ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তর করা হবে।”

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রতিনিধি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় রোগীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। নতুন ৪তলা ভবনটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণ এবং রোগীদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে।

দীর্ঘদিন পর হাসপাতালের এই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় সরাইল উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে স্বস্তি, সন্তোষ ও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হলে সরাইলের স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।