Dhaka ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর চূড়ান্ত কর নয়, কার লাভ কার ক্ষতি

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২ Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: জাতীয় সঞ্চয় স্কিম বা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে নানা ধরনের প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা কাজ করে থাকে। অনেকেই মনে করেন মুনাফা প্রদানের সময় ব্যাংক বা নির্দিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান যে উৎসে কর কেটে রাখে, সেটিই বুঝি চূড়ান্ত বা শেষ কর। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী এই ধারণাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয় এবং এর পেছনের আইনি প্রক্রিয়া বেশ সুনির্দিষ্ট।

বাস্তব নিয়ম হলো সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে যে পরিমাণ অর্থ উৎসে কর হিসেবে কেটে রাখা হয়, তা কোনোভাবেই চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য হয় না। বিনিয়োগকারীকে বছর শেষে তার বার্ষিক মোট আয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রকৃত করের হিসাব দাখিল করতে হয়। বার্ষিক হিসাব করার সময় উৎসে কাটা এই অর্থ সমন্বয় করার পূর্ণ সুযোগ করদাতার জন্য সংরক্ষিত থাকে।

কোনো করদাতার ক্ষেত্রে যদি দেখা যায় যে বছরজুড়ে সঞ্চয়পত্র থেকে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি উৎসে কর কেটে রাখা হয়েছে, তবে ভয়ের কোনো কারণ নেই। বার্ষিক কর মূল্যায়নের পর অতিরিক্ত পরিশোধিত সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট কর বিভাগ থেকে ফেরত পাওয়ার আইনগত বিধান রয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত করের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে থাকতে হয় না।

পক্ষান্তরে, করদাতার বার্ষিক আয়ের হিসাব অনুযায়ী যদি দেখা যায় যে উৎসে কাটা অর্থের পরিমাণ প্রকৃত পাওনা করের চেয়ে কম হয়েছে, তবে বাকি অর্থ কর বিভাগকে পরিশোধ করতে হয়। তাই সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এই উৎসে করের বিষয়টি সঠিকভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি ও লাভজনক।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর চূড়ান্ত কর নয়, কার লাভ কার ক্ষতি

Update Time : ০৮:৪৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: জাতীয় সঞ্চয় স্কিম বা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে নানা ধরনের প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা কাজ করে থাকে। অনেকেই মনে করেন মুনাফা প্রদানের সময় ব্যাংক বা নির্দিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান যে উৎসে কর কেটে রাখে, সেটিই বুঝি চূড়ান্ত বা শেষ কর। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী এই ধারণাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয় এবং এর পেছনের আইনি প্রক্রিয়া বেশ সুনির্দিষ্ট।

বাস্তব নিয়ম হলো সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে যে পরিমাণ অর্থ উৎসে কর হিসেবে কেটে রাখা হয়, তা কোনোভাবেই চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য হয় না। বিনিয়োগকারীকে বছর শেষে তার বার্ষিক মোট আয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রকৃত করের হিসাব দাখিল করতে হয়। বার্ষিক হিসাব করার সময় উৎসে কাটা এই অর্থ সমন্বয় করার পূর্ণ সুযোগ করদাতার জন্য সংরক্ষিত থাকে।

কোনো করদাতার ক্ষেত্রে যদি দেখা যায় যে বছরজুড়ে সঞ্চয়পত্র থেকে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি উৎসে কর কেটে রাখা হয়েছে, তবে ভয়ের কোনো কারণ নেই। বার্ষিক কর মূল্যায়নের পর অতিরিক্ত পরিশোধিত সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট কর বিভাগ থেকে ফেরত পাওয়ার আইনগত বিধান রয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত করের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে থাকতে হয় না।

পক্ষান্তরে, করদাতার বার্ষিক আয়ের হিসাব অনুযায়ী যদি দেখা যায় যে উৎসে কাটা অর্থের পরিমাণ প্রকৃত পাওনা করের চেয়ে কম হয়েছে, তবে বাকি অর্থ কর বিভাগকে পরিশোধ করতে হয়। তাই সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এই উৎসে করের বিষয়টি সঠিকভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি ও লাভজনক।